বইঃ রুকইয়াহ এবং রাক্বীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
মূল: আল্লামা রাবী ইবন হাদী আল মাদখালি (রাহিমাহুল্লাহ)
অনুবাদ: সাফিন চৌধুরী । Shafin Chowdhury
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে সত্যের পথ দেখিয়েছেন এবং তাঁর কিতাবকে রোগের আরোগ্য ও বান্দার হৃদয়ের শান্তি বানিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি, তাঁর পবিত্র পরিবার-পরিজনের প্রতি, তাঁর মহান সাহাবীগণের প্রতি এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়েতের অনুসরণ করবেন তাদের সকলের প্রতি।
অতঃপর:
বর্তমান যুগে রুকইয়াহ শারইয়্যাহ বা শরিয়তসম্মত ঝাড়ফুঁকের বিষয়টি মুসলিম সমাজে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এক শ্রেণির মানুষ — যারা নিজেদের সালাফি বলে পরিচয় দেন; এই ক্ষেত্রে এমন এক পেশাদারিত্বের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন, যা পূর্ববর্তী সালাফে সালেহীনের মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। অফিস খোলা হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চলছে, দেশ-বিদেশ থেকে পুরুষ-নারী দলে দলে ছুটে আসছেন আর এই কথিত রাকীগণ খ্যাতি ও অর্থের বিনিময়ে তাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন এমন সব পদ্ধতি, যার সাথে কুরআন ও সুন্নাহর দূরতম সম্পর্কও নেই।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাভাষী পাঠকদের কাছে প্রামাণিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা পৌঁছে দেওয়ার একান্ত প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে এই অধম অনুবাদকার্যে হাত দিয়েছে। আলোচ্য গ্রন্থটি হলো আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের প্রবীণ আলিম ও মুহাদ্দিস, শাইখ আল্লামা রবী’ ইবন হাদী ‘উমাইর আল-মাদখালী — আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন — এর সাথে গৃহীত একটি মূল্যবান সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি রুকইয়াহ সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাসআলার উপর সুস্পষ্ট ও দলিলভিত্তিক আলোচনা করেছেন।
যে কারণে এই অনুবাদ
আজকের সালাফি সমাজে রুকইয়াহকে কেন্দ্র করে যেসব বিচ্যুতি দেখা দিয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর কয়েকটি দিক নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
প্রথমত: রুকইয়াহকে পেশা বানানো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেকে কখনো রুকইয়াহর জন্য প্রতিষ্ঠিত করেননি। ইমাম আহমাদ, ইমাম মালিক, ইমাম শাফিঈ — এই মহান ইমামগণের কেউই নিজেকে পেশাদার রাকী হিসেবে উপস্থাপন করেননি। শাইখ আলবানী, শাইখ ইবনে বায, শাইখ ইবনে উসাইমীন রাহিমাহুমুল্লাহ — এই যুগের শ্রেষ্ঠ আলিমগণও এই কাজকে পেশা বানাননি। অথচ আজ যারা সালাফিয়্যাতের পতাকা বহন করেন বলে দাবি রাখেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ রুকইয়াহকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম বানিয়ে নিয়েছেন। এটি সালাফের মানহাজ থেকে স্পষ্ট বিচ্যুতি।
দ্বিতীয়ত: খ্যাতি ও অর্থের লালসা।
যখন কোনো ব্যক্তি নিজেকে রুকইয়াহর জন্য একচেটিয়াভাবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং এর মাধ্যমে নাম-যশ অর্জনে সচেষ্ট হয়, তখন তার নিয়্যতের বিশুদ্ধতা প্রশ্নসাপেক্ষ হয়ে পড়ে। শাইখ রবী’ রাহিমাহুল্লাহ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন যে, যে ব্যক্তি রুকইয়াহকে একচেটিয়া করে রাখে, এটি তার মন্দ উদ্দেশ্যেরই প্রমাণ বহন করে।
তৃতীয়ত: নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন।
কুরআন ও সুন্নাহর সীমা অতিক্রম করে নানা ধরনের অদ্ভুত পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে — যার কোনো দলিল কুরআন-সুন্নাহ তে নেই। চোখ বন্ধ করিয়ে গায়েবী বিষয় দেখানো, লজ্জাস্থানে সুগন্ধি লাগানোর প্রেসক্রিপশন, পানি পড়া দেওয়া — এই জাতীয় প্রতিটি পদ্ধতিই কুরআন-সুন্নাহর দলিলবর্জিত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতারণা ও যাদুটোনার শামিল।
চতুর্থত: রুকইয়াহ না পেলে যাদুকরের কাছে যাবে — এই অজুহাতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত রাখা।
এই যুক্তি দিয়ে অনেকে নিজের রাকী-পদ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু শাইখ রবী’ রাহিমাহুল্লাহ স্পষ্ট বলেছেন — মানুষকে আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও। তাওহীদ ও সঠিক জ্ঞান যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন যাদু-টোনা ও জিনের প্রভাব এমনিতেই হ্রাস পায়। পথ হলো তাওহীদের দাওয়াত, পেশাদার রুকইয়াহর প্রতিষ্ঠান নয়।
বইটি পড়ুন এবং রুকইয়াহ সম্পর্কে সঠিক ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি জানুন।
পিডিএফ ডাউনলোড করুন এখান থেকেঃ বই রুকইয়াহ এবং রাক্বীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর শায়েখ রবী আল মাদখালি


