হাম্বলী মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত সম্পর্কে শায়েখ আব্দুস সালাম আশ শুয়াইইর
হাম্বলী মাযহাবের মুতামাদ বা অফিসিয়াল মত সম্পর্কে শায়েখ আব্দুস সালাম আশ-শুয়াইইর (হাফিযাহুল্লাহ) বলেন,
“প্রকৃতপক্ষে, হাম্বলী মাযহাবের মুতামাদ মত (নির্ভরযোগ্য মত) ও গাইর মুতামাদ (অনির্ভরযোগ্য) মতের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করার ক্ষেত্রে চারটি পদ্ধতির উপর নির্ভর করা হয়। সুতরাং, মতবিরোধের ক্ষেত্রে অবশ্যই এই তিনটি পদ্ধতির দিকে ফিরে যেতে হবে—বিশেষ করে প্রথমটির দিকে, আর চতুর্থ পদ্ধতিটি, যা সবচেয়ে দুর্বলতম, সেটির দিকে মুতাআক্ষিরীন (পরবর্তী যুগের) আলেমরা ধাবিত হন।
তন্মধ্যে প্রথম পদ্ধতিটি হলো ইমাম আহমাদ (রহ.)- থেকে সহীহ সূত্রে আসা মূল বক্তব্য বা ‘নুসূস’-এর দিকে ফিরে যাওয়া। সুতরাং, হাম্বলী মাযহাবের যে ফিকহী মতটি ইমাম আহমাদের বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই মুরাজ্জাহ (অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত) এবং মুকাদ্দাম (প্রাধান্যতম মত) হিসেবে বিবেচিত হবে ।
দ্বিতীয় পদ্ধতি: মাযহাবের ক্বাওয়াইদ (ফিকহী মূলনীতিসমূহ) ও মাযহাবের ফকীহদের ক্বাওয়াঈদ এর দিকে ফিরে যাওয়া। সুতরাং, যে ফিকহী মতটি হাম্বলী মাযহাবের ক্বাওয়াঈদ তথা ফিকহী মূলনীতিসমূহের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, সেটিই সহীহ এবং মুরাজ্জাহ (অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মত) বলে গণ্য হবে।
হাম্বলী মাযহাবের ক্বাওয়াঈদ সমূহের মধ্যে একটি হলো, যেটার ব্যাপারে ইনশাআল্লাহ আজকের বা আগামীকালের দারসে আলোচনা আসবে, যাকে ইবনু মুফলিহ (রহ.) নির্ভরযোগ্য কায়দা বলেছেন, তা হলো:
“কোনো মাসআলাতে যে হাদিসটি সহীহ সাব্যস্ত হবে, সেটিই মাযহাবের মু’তামাদ মত হিসেবে গণ্য হবে।”
তৃতীয় যে পদ্ধতির উপর নির্ভর করা হয় বা তৃতীয় যে ক্বায়দাটিকে হাম্বলী মাযহাবের প্রাধান্যতম মত নির্ণয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয় তা হলো—
“যে ফিকহী মতটিকে মাযহাবের অধিকাংশ ফকীহগণ গ্রহণ করেছেন, সেটাকেই মুতামাদ মত বলে বিবেচনা করা।”
এটি করার জন্য আলেমদের বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করা এবং কোন মতটি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
চতুর্থ পদ্ধতি: এটি সবচেয়ে দুর্বলতম পদ্ধতি, আর তা হলো: ফিকহের কিতাবে যা মু’তামাদ মত বলে উল্লেখিত সেটাকেই নির্ভরযোগ্য মত বলে গ্রহণ করা।
এই চতুর্থ কায়দার আশ্রয় কেবল তখনই নেওয়া যাবে যখন পূর্বোক্ত তিনটি পদ্ধতি প্রয়োগ করা কোনো ব্যক্তির জন্য সম্ভবপর না হবে অথবা সময়স্বল্পতার দরুন সে তা করতে অক্ষমতার সম্মুখীন হয়। কারণ, তাড়াহুড়া এবং সময়স্বল্পতার বিধানটি ইজতিহাদ করার অক্ষমতার বিধানেরই অন্তর্ভুক্ত। এর উদাহরণ হলো উসূলে ফিকহের কিতাবসমূহে প্রসিদ্ধ সেই মাসআলা:
“যখন কোনো মুজতাহিদের জন্য ইজতিহাদ করার মতো সময় না থাকে, তখন তার জন্য তাকলীদ করা জায়েয হয়ে যায়, আর তখন সে একজন সাধারণ অজ্ঞ ব্যক্তির (আম্মী) মতো হয়ে যায় যার ইজতিহাদ করার সামর্থ্য নেই; ফলে (ইজতিহাদে অক্ষমতার দরুন আম্মীর মতোই) তার জন্য তাকলীদ করা জায়েয হয়।”
এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো: এই গ্রন্থ-নির্ভর জ্ঞান অর্জন (অর্থাৎ শুধু কিতাবসমূহে মুতামাদ বলে উল্লেখিত মতকেই মুতামাদ মনে করা) সবচেয়ে দুর্বলতম মাধ্যম। আমি এটা কেন বলছি? কারণ কিছু ভাই, যারা জ্ঞানান্বেষী ছাত্র — তারা মাযহাবকে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিতাবসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলেন এবং সেই কিতাবের উপর প্রাধান্যপ্রাপ্ত পূর্বোল্লেখিত ক্বাওয়াঈদ (ফিকহী মূলনীতি) সমূহকে ভুলে যান। কারণ, সেই ক্বাওয়াঈদ তথা ফিকহী মূলনীতিগুলোর দ্বারাই প্রকৃত মাযহাবকে চেনা যায়। সুতরাং, যে ব্যক্তি মাযহাবের মূলনীতিসমূহ (উসূল) জানে না, যে ব্যক্তি মাযহাবের বিভিন্ন কিতাব সম্পর্কে অবগত নয়, মাযহাবের অনুসারী আলেমদের বক্তব্য ও এর প্রকৃত স্বরূপ বোঝে না, বরং শুধুমাত্র এক বা দুটি কিতাবের উপর নির্ভর করে— সে প্রকৃতপক্ষে হাম্বলী মাযহাব সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না। একটু আগে আমি যা উল্লেখ করেছি, সেটাই এর দৃষ্টান্ত। তবে হ্যাঁ, যখন বলা হয় যে:
” যদি ‘ইকনা’ এবং ‘মুন্তাহা’ (হাম্বলী মাযহাবের দুটি প্রসিদ্ধ ফিকহী গ্রন্থ)-এর মধ্যে মতবিরোধ হয়, তবে ‘মুন্তাহা’ বা ‘আল-গায়াতুল মুনতাহা’ কিতাবে যা আছে সেটাকেই মুতামাদ মত হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে” – এটি অনেক ক্ষেত্রে বা সাধারণত প্রযোজ্য বলা যায়, তবে কোনো সর্বব্যাপী বা চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে নয়। বরং, একজন জ্ঞানান্বেষী ছাত্রের উপর কর্তব্য হলো: যখন তার সামনে ফিকহী মতসমূহের মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেয়ার ক্ষেত্রে বিরোধ দেখা দেয়, তখন সে যেন সেই ফিকহী উসূলের দিকে ফিরে যায় যার উপর ভিত্তি করে প্রাধান্যতম মত কোনটি তা নির্ণয় করা হয়।”
আরবি বক্তব্য:
والحقيقة، أن معرفة المعتمد في المذهب من غير المعتمد، يرجع فيه إلى أربع طرق. فلابد عند التعارض من الرجوع لهذه الطرق الثلاثة، الأول بالخصوص، والرابع وهو أضعفها الذي يريده متأخرون. فأول هذه الطرق: أن يرجع في التصحيح لنصوص الإمام أحمد. فما وافق نص أحمد، فإنه يكون هو المرجح والمقدم. والأمر الثاني: أن يرجع لقواعده وقواعد فقهاء المذهب. فما وافق قواعد المذهب، فإنه يكون هو الصحيح والمرجح. ومن قواعد المذهب، كما سيأتي إن شاء الله ربما في درس اليوم والدرس القادم، ما اعتمده ابن مفلح: بأن ما صح الحديث أنه يكون هو المذهب. الأمر الثالث: ما اعتمده، أو القاعدة الثالثة يرجح بها الترجيح، باعتبار أن هذا القول قد ذهب إليه أكثر فقهاء المذهب. وهذه تحتاج إلى استيعاب ونظر في كلام العلماء، وما ذهب إليه الأكثر. القاعدة الرابعة: وهي أضعف القواعد، النظر باعتبار الكتاب. ولا يصار لهذه القاعدة الرابعة إلا عند العجز عن الأمور الثلاثة المتقدمة، أو عند الاستعجال. فإن الاستعجال وضيق الوقت يجعل الحكم كحكم العجز. وهذه مثل المسألة المشهورة في كتاب، وفي كتب الأصول، وهو أن المجتهد إذا ضاق الوقت عن الاجتهاد، جاز له أن يجتهده فيكون كالعامي العاجز، فيجوز له أن يقلدا فيكون كالعامي العاجز عن الاجتهاد. المقصود بهذا: أن معرفة الكتاب هذا من أضعف الوسائل. أقول هذا لما؟ لأن بعض الإخوة من طلبة العلم يقصر المذهب على الكتب، وينسى القواعد المقدمة عليه. فإن القواعد المقدمة بها يعرف المذهب. فليس عارف المذهب من لم يعرف الأصول، ولم يعرف الكتب، ويعرف كلام أصحاب المذهب وحقيقته، فيقتصر على كتاب أو كتابين، فإن هذا ليس بصحيح. وإنما العبرة بما ذكرته قبل قليل، ولكن نعم، عندما يقولون: إنه إذا تعارض الإقناع والمنتهى، يقدم ما في المنتهى وما في الغاية، هذا على سبيل… لنقول على سبيل الأحوال الكثيرة أو الأغلب ربما، وليس على سبيل إطلاق. بل الواجب على طالب العلم: أنه إذا تعارض عنده الترجيح، أن يرجع للأصول التي يبنى عليها الترجيح هذه
অনুবাদ ও শ্রুতিলেখন: সাফিন চৌধুরী । Shafin Chowdhury