ফিকহ

শুষ্ক অথবা আদ্র অথবা সিক্ত নাপাক ও পাক বস্তুদ্বয়ের মাঝে সংস্পর্শের বিধান

চার মাযহাবে বিলাল, রুতুবাহ ও নদাওয়ার পার্থক্য

প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম ভাই।
একটি মাসআলা জানতে চাই। যদি কোনো নাপাক বস্তুতে শুকনো কোনো বস্তু স্পর্শ করে কিন্তু চোখে দৃশ্যমান ভেজাভাব দেখা না যায়, কিন্তু হালকা আর্দ্রতা অনুভব হয় – তাহলে কি অন্য কোনো বস্তু এর সংস্পর্শে এলে এটা থেকে নাপাকি অন্য জিনিসে ছড়িয়ে যাবে?

যেমন ধরেন, গরমের দিনে টাইলসে শুকনো পা রাখলে পায়ের একটা ছাপ দেখা যায়। মূলত পায়ের আদ্রতা থেকেই এমন হয়। এখন যদি টাইলসে নাপাকি থাকে, আর এর উপর পা রাখলে কি পায়ে নাপাকি ছড়াবে?

উত্তর:
بسم الله الرحمن الرحيم

মাসআলা: নদাওয়ার কারণে নাপাকি সংক্রমণ — মাযহাবের কিতাব থেকে একটি ফিকহী বিশ্লেষণ

প্রথম অংশ: বিলাল, রুতুবাহ ও নদাওয়ার পার্থক্য

আরবি ভাষায় এই তিনটি শব্দ একই অর্থে ব্যবহৃত হলেও ফকীহগণ এদের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য করেছেন।

আল-মুহীত ফিল লুগাহ-এ বলা হয়েছে:

البَلَل: الرطوبة، والبلة: الدون من البلل

বিলাল (البلل) অর্থ আর্দ্রতা। আর বিল্লাহ (البلة) হলো বিলাল এর চেয়ে নিম্নস্তরের সামান্য আর্দ্রতা।[1]আল-মুহীত ফিল লুগাহ, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩১২

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ-এ বলা হয়েছে:

الرطوبة لغة: مصدر رطب، تقول رطب الشيء بالضم إذا ندي، وهو خلاف اليابس الجاف، والرطوبة بمعنى البلل والنداوة. ولا يخرج معنى الرطوبة في الاصطلاح عن المعنى اللغوي، إلا أن الحنابلة فرقوا في الحكم بين الرطوبة والبلل. قال في كشاف القناع: لو قطع بالسيف المتنجس ونحوه بعد مسحه قبل غسله فما فيه بلل كبطيخ ونحوه نجسه لملاقاة البلل للنجاسة، فإن كان ما قطعه به رطبا لا بلل فيه كجبن ونحوه فلا بأس به كما لو قطع به يابسا؛ لعدم تعدي النجاسة إليه

রুতুবাহ (الرطوبة) শব্দটি আরবী ভাষায় রাতাবা ক্রিয়াপদ থেকে গৃহীত মাসদার বা ক্রিয়ামূল। তুমি বলো, রাতাবাশ শাই অর্থাৎ কোনো বস্তু আর্দ্র ও নরম হলো। এটা ইয়াবিস জাফ (اليابس الجاف) অর্থাৎ শুষ্ক বস্তুর বিপরীত। আর রুতুবাহ (الرطوبة) শব্দটি বিলাল (البلل) ও নদাওয়াহ (النداوة) উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়। পারিভাষিক সংজ্ঞায় রুতুবাহ এর অর্থ ভাষাগত অর্থের বাইরে যায় না। তবে হাম্বলী ফকীহগণ রুতুবাহ এবং বিলাল এর মধ্যে বিধানের পার্থক্য করেছেন। কাশশাফুল কিনা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি কেউ নাপাক তরবারি অথবা অনুরূপ কিছু দিয়ে কোনো বস্তু মুছার পর এবং ধোয়ার আগে তা কাটে, আর সেই বস্তুতে যদি বিলাল বিদ্যমান থাকে যেমন তরমুজ বা অনুরূপ কিছু, তাহলে সেই সিক্ততার সাথে নাপাকীর সংস্পর্শের কারণে সেটা নাপাক হয়ে যাবে। কিন্তু সে যে বস্তুটি কাটল তা যদি কেবল রুতুবাহযুক্ত হয় যাতে বিলাল নেই যেমন পনির বা অনুরূপ কিছু, তাহলে তাতে কোনো অসুবিধা নেই — যেমনিভাবে শুষ্ক বস্তু কাটলে অসুবিধা হয় না। কারণ এক্ষেত্রে নাপাকী সেই বস্তুতে স্থানান্তরিত হয় না।[2]আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, খণ্ড ২২, পৃষ্ঠা ২৬০

এই ভিত্তিতে তিনটি স্তর এভাবে বোঝা যায়:

বিলাল (البلل) হলো চোখে দৃশ্যমান বা স্পর্শে অনুভবযোগ্য ভেজাভাব যা চাপ দিলে প্রবাহিত হয় বা ফোঁটা পড়ে। যেমন ভেজা কাপড় বা তরমুজের রস।

রুতুবাহ (الرطوبة) হলো মাঝারি আর্দ্রতা যা অনুভব হয় কিন্তু চাপ দিলে প্রবাহিত হয় না। যেমন পনিরের ভেতরের আর্দ্রতা।

নদাওয়াহ (النداوة) হলো সবচেয়ে সূক্ষ্ম স্তর — শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা যা ছাপ ফেলে কিন্তু চোখে স্পষ্ট ভেজাভাব দেখা যায় না।

এখন প্রশ্ন হলো গরমের দিনে পায়ের আর্দ্রতা যা টাইলসে ছাপ ফেলে — এটা কোন স্তরের? ফাতহুল কাদীরের নাসস থেকে স্পষ্ট যে ইমাম ইবনুল হুমাম এই প্রসঙ্গে সরাসরি বলেছেন রুতুবাহ শব্দটি এখানে বিলাল অর্থে নিতে হবে, নদাওয়াহ অর্থে নয়। অর্থাৎ যে আর্দ্রতায় নাপাকী সংক্রমিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে সেটা হলো বিলাল — প্রবাহিত বা ফোঁটা পড়ার মতো ভেজাভাব। আর গরমে পায়ের যে স্বাভাবিক আর্দ্রতা টাইলসে ছাপ ফেলে, সেটা নদাওয়াহ — যা বিলাল এর স্তরে পৌঁছায় না।

দ্বিতীয় অংশ: প্রাসঙ্গিক ফিকহী কায়েদাসমূহ

এই মাসআলায় তাহারাতের কয়েকটি মূলনীতি সরাসরি প্রযোজ্য:

এক — আল-আসলু ফিল আশইয়া আত-তাহারাহ (الأصل في الأشياء الطهارة): বস্তুর মূল অবস্থা পাকী। নাপাকী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সবকিছু পাক ধরা হবে।

দুই — আল-ইয়াকীনু লা ইয়াযুলু বিশ শাক্ক (اليقين لا يزول بالشك): নিশ্চিত বিষয় সন্দেহের কারণে দূর হয় না। পায়ের পাকী নিশ্চিত, নাপাকি সংক্রমণ সন্দেহজনক — তাই পাকীই বহাল থাকবে।

তিন — আল-মাশাক্কাতু তাজলিবুত তাইসীর (المشقة تجلب التيسير): কষ্ট সহজতার পথ খুলে দেয়। শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতাকে সর্বদা নাপাকির কারণ ধরলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়।

চার — মা লা ইউদরাকু কুল্লুহু লা ইউতরাকু কুল্লুহু (ما لا يدرك كله لا يترك كله): যা সম্পূর্ণ এড়ানো সম্ভব নয় তার পুরোটা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। শরীরের আর্দ্রতা এড়ানো মানুষের পক্ষে অসম্ভব।

পাঁচ — দারউল মাফসাদাতি মুকাদ্দামুন আলা জালবিল মাসলাহাহ (درء المفسدة مقدم على جلب المنفعة): ক্ষতি প্রতিরোধ অগ্রাধিকারযোগ্য — তবে এই ক্ষতি নিশ্চিত হতে হবে, সন্দেহজনক নয়।

তৃতীয় অংশ: মাযহাবের কিতাব থেকে বিস্তারিত আলোচনা

হানাফী মাযহাব:

ফাতহুল কাদীর-এ (ইমাম কামাল ইবনুল হুমাম) বলা হয়েছে:

ألا ترى إلى ما ذكروا من أنه لو مشى ورجله مبتلة على أرض أو لبد نجس جاف لا يتنجس، ولو كان على القلب وظهرت الرطوبة في رجله تتنجس كذا في الخلاصة. قلت: يجب حمل الرطوبة على البلل لا الندوة. فقد ذكر فيها إذا لف الثوب النجس الرطب في الثوب الطاهر الجاف فظهرت فيه ندوته ولم يصر بحيث يقطر منه شيء إذا عصر اختلف المشايخ فيه. والأصح أنه لا يتنجس. وكذا لو بسط على النجس الرطب فتندى وليس بحيث يقطر إذا عصر الأصح فيه أنه لا يتنجس ذكره الحلواني

তুমি কি তাদের এই উক্তি দেখ না — কেউ যদি ভেজা পা নিয়ে শুকনো নাপাক জমিন বা কম্বলের উপর দিয়ে হাঁটে তাহলে পা নাপাক হবে না। আর যদি অবস্থা বিপরীত হয় এবং পায়ে নাপাকীর রুতুবাহ প্রকাশিত হয় তাহলে পা নাপাক হবে। এমনটাই খুলাসাহ গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। আমি বলব: এখানে রুতুবাহ শব্দটির অর্থ বিলাল ধরা আবশ্যক, নদাওয়াহ নয়। কেননা খুলাসাহতেই উল্লেখ আছে — যখন নাপাক ভেজা কাপড়কে পবিত্র শুকনো কাপড়ে জড়ানো হয় এবং পবিত্র কাপড়ে নদাওয়াহ প্রকাশিত হয় অথচ চাপ দিলে ফোঁটা পড়ে না, তখন শাইখগণ মতভেদ করেছেন। আর অগ্রগণ্য সঠিক মত হলো তা নাপাক হবে না। অনুরূপভাবে পবিত্র বস্তু নাপাক ভেজা বস্তুর উপর বিছালে এবং নদাওয়াহ হয় কিন্তু চাপ দিলে ফোঁটা না পড়ে — অগ্রগণ্য সঠিক মত হলো তা নাপাক হবে না। এটি হালওয়ানী উল্লেখ করেছেন।

ফাতহুল কাদীর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৩

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ-এ হানাফী মত উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে:

لو ابتل فراش أو تراب نجسان من عرق نائم أو بلل قدم وظهر أثر النجاسة في البدن والقدم تنجسا وإلا فلا، كما لا ينجس ثوب جاف طاهر لف في ثوب نجس رطب لا ينعصر الرطب لو عصر، ولا ينجس ثوب رطب بنشره على أرض نجسة يابسة فتندت منه ولم يظهر أثرها فيه، ولا بريح هبت على نجاسة فأصابت الثوب إلا أن يظهر أثرها فيه أي الثوب، وقيل: ينجس إن كان مبلولا لاتصالها به. ولو خرج منه ريح ومقعدته مبلولة فالصحيح طهارة الريح الخارجة فلا تنجس الثياب المبتلة

যদি নাপাক বিছানা বা নাপাক মাটি ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘামে বা ভেজা পায়ের কারণে সিক্ত হয় এবং দেহে ও পায়ে নাপাকীর চিহ্ন প্রকাশিত হয় তাহলে নাপাক হবে। আর চিহ্ন প্রকাশ না পেলে নাপাক হবে না। তেমনিভাবে শুকনো পবিত্র কাপড় নাপাক ভেজা কাপড়ে জড়িয়ে রাখলে নাপাক হয় না যদি চাপ দিলে পানি না বেরোয়। আর ভেজা কাপড় শুকনো নাপাক জমিনে বিছালে এবং নদাওয়াহ হয় কিন্তু চিহ্ন প্রকাশ না পায় তাহলে নাপাক হবে না। আর বায়ু নাপাকীর উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কাপড় স্পর্শ করলেও নাপাক হবে না যতক্ষণ না চিহ্ন প্রকাশ পায়। তবে কেউ বলেন কাপড় ভেজা থাকলে নাপাক হবে। আর যদি পায়ুস্থান ভেজা থাকা অবস্থায় বায়ু নির্গত হয় তাহলে শুদ্ধ মতানুযায়ী সেই বায়ু পবিত্র, তাই তা ভেজা কাপড়কে নাপাক করে না।

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, খণ্ড ৪০, পৃষ্ঠা ৯৪

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ-এ ইবনে আবিদীনের বরাতে আরো বলা হয়েছে:

ذهب الحنفية في الأصح والمالكية في المذهب إلى أن ملاقي رطوبة النجاسة لا ينجس. قال ابن عابدين: إذا لف طاهر جاف في نجس مبتل واكتسب الطاهر منه الرطوبة فقد اختلف فيه المشايخ فقيل: يتنجس الطاهر، واختار الحلواني أنه لا يتنجس إن كان الطاهر بحيث لا يسيل منه شيء ولا يتقاطر لو عصر، وهو الأصح، واشترط بعض الحنفية أن يكون الثوب النجس الرطب هو الذي لا يتقاطر بعصره

হানাফীগণ তাঁদের অগ্রগণ্য মতে এবং মালিকীগণ তাঁদের মাযহাব অনুযায়ী বলেছেন যে নাপাক বস্তুর রুতুবাহর সংস্পর্শে আসা বস্তু নাপাক হয় না। ইবনে আবিদীন বলেন: যদি শুকনো পবিত্র বস্তুকে ভেজা নাপাক বস্তুতে জড়িয়ে রাখা হয় এবং পবিত্র বস্তুটি তা থেকে রুতুবাহ শুষে নেয়, তাহলে শাইখগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন পবিত্র বস্তু নাপাক হয়ে যাবে। আর হালওয়ানী এই মত গ্রহণ করেছেন যে নাপাক হবে না, যদি পবিত্র বস্তু থেকে চাপ দিলে কিছু প্রবাহিত না হয় বা ফোঁটা না পড়ে। এটাই অগ্রগণ্য সঠিক মত। কিছু হানাফী ফকীহ শর্ত আরোপ করেছেন যে নাপাক ভেজা কাপড়টি এমন হতে হবে যা নিংড়ালে ফোঁটা না পড়ে।

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, খণ্ড ২২, পৃষ্ঠা ২৬১

ফাতাওয়া আশ-শাবাকাহ আল-ইসলামিয়্যাহ-এ বলা হয়েছে:

وأما سؤالك عن الرطوبة هل هي ناقلة للنجاسة؟ فإن كان قصدك بها البلل كالعرق والماء ونحو ذلك، فالجواب أن البلل إذا لاقى عين النجاسة تنجس هو، وتنجس كل ما أصابه ذلك البلل. أما إذا لاقى البلل محلا قد تنجس، وزالت عنه عين النجاسة بأي مزيل، فإن ذلك البلل لا يتنجس، ولا يكون ناقلا للنجاسة، لأن الموجود في ذلك المحل المتنجس إنما هو حكم النجاسة، وليس عينها، وحكم النجاسة لا ينتقل لأنه أمر معنوي

আর আপনার প্রশ্ন রুতুবাহ সম্পর্কে যে তা কি নাপাকী স্থানান্তর করে — যদি আপনি এর দ্বারা বিলাল যেমন ঘাম, পানি ও অনুরূপ কিছু উদ্দেশ্য করে থাকেন, তাহলে উত্তর হলো যখন বিলাল নাপাকীর দৃশ্যমান বস্তুকে স্পর্শ করে তখন তা নিজে নাপাক হয় এবং সেই বিলাল যা কিছু স্পর্শ করে তাও নাপাক হয়ে যায়। কিন্তু যখন বিলাল এমন কোনো স্থানকে স্পর্শ করে যা পূর্ব থেকেই নাপাক হয়েছে অথচ তা থেকে নাপাকীর দৃশ্যমান বস্তু কোনো অপসারণকারীর মাধ্যমে দূর হয়ে গেছে, তাহলে সেই বিলাল নাপাক হবে না এবং নাপাকী স্থানান্তরকারীও হবে না। কারণ সেই স্থানে বিদ্যমান হলো কেবল নাপাকীর বিধান, তার দৃশ্যমান বস্তু নয়। আর নাপাকীর বিধান স্থানান্তরিত হয় না কেননা তা একটি অর্থগত বিষয়।

ফাতাওয়া আশ-শাবাকাহ আল-ইসলামিয়্যাহ, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩০৪৭

মালিকী মাযহাব:

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ-এ মালিকী মত উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে:

لو زال عين النجاسة عن المحل بغير الماء المطلق من مضاف وبقي بلله، فلاقى جافا، أو جف ولاقى مبلولا لم يتنجس ملاقي محلها على المذهب، إذ لم يبق إلا الحكم وهو لا ينتقل، ومقابل المذهب أن المضاف قد يتنجس بمجرد الملاقاة فالباقي نجس، ومقتضى ذلك: أنه إذا لاقى المحل المبلول جافا، أو لاقى المحل الجاف شيء مبلول أنه يتنجس بمجرد الملاقاة

যদি নাপাক বস্তুর দৃশ্যমান অংশ কোনো স্থান থেকে বিশুদ্ধ পানি ছাড়া অন্য মিশ্রিত পানি দ্বারা দূর হয়ে যায় কিন্তু তার বিলাল অবশিষ্ট থাকে, অতঃপর তা কোনো শুষ্ক বস্তুকে স্পর্শ করে, অথবা উক্ত স্থান শুষ্ক হয়ে যাবার পর কোনো ভেজা বস্তু তাকে স্পর্শ করে, তাহলে মাযহাবের মতে উক্ত স্থানের সংস্পর্শে আসা বস্তু নাপাক হবে না। কারণ সেখানে কেবল বিধানগত নাপাকীই অবশিষ্ট আছে আর তা স্থানান্তরিত হয় না। আর মাযহাবের বিপরীত মতে মিশ্রিত পানি নিছক সংস্পর্শের দ্বারাই নাপাক হতে পারে সুতরাং অবশিষ্ট বিলালও নাপাক। এর দাবী হলো যখন ভেজা স্থান কোনো শুষ্ক বস্তুকে স্পর্শ করে অথবা শুষ্ক স্থানকে কোনো ভেজা বস্তু স্পর্শ করে তাহলে নিছক সংস্পর্শের কারণেই তা নাপাক হয়ে যাবে।

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, খণ্ড ৪০, পৃষ্ঠা ৯৪

হাম্বলী মাযহাব:

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ-এ শাফেয়ী ও হাম্বলী মত উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে:

وذهب الشافعية والحنابلة إلى أن الأعيان الطاهرة إذا لاقاها شيء نجس وأحدهما رطب والآخر يابس فينجس الطاهر بملاقاتها

শাফেয়ী ও হাম্বলী ফকীহগণ এই মত পোষণ করেন যে পবিত্র বস্তুসমূহ যখন কোনো নাপাক বস্তু দ্বারা স্পর্শিত হয় এবং এদের একটি ভেজা ও অপরটি শুকনো হয়, তাহলে সংস্পর্শের কারণে পবিত্র বস্তুটি নাপাক হয়ে যাবে।

আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, খণ্ড ৪০, পৃষ্ঠা ৯৪

তবে হাম্বলীদের নিজস্ব কিতাব কাশশাফুল কিনা’তে — যা উপরে মুওয়াসুআহতেও উদ্ধৃত হয়েছে — স্পষ্টভাবে বিলাল ও রুতুবাহর মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। সুতরাং হাম্বলী মতে যে রুতুবাহর কারণে নাপাকী সংক্রমিত হয় বলা হয়েছে তা বিলাল স্তরের রুতুবাহ, নদাওয়াহ স্তরের নয়।

শাফেয়ী মাযহাব:

শাফেয়ী মত উপরে হাম্বলীদের সাথে একত্রে উদ্ধৃত হয়েছে। শাফেয়ীগণ যেকোনো রুতুবাহকে নাপাকী সংক্রমণের কারণ মনে করেন এবং বিলাল ও নদাওয়াহর মধ্যে পার্থক্য করেন না। তাই শাফেয়ী মতে সতর্কতার জন্য ধুয়ে নেওয়া উচিত।

চতুর্থ অংশ: সারসংক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত

শুকনো নাপাক টাইলসে যদি পা পড়ে এবং পায়ে শুধু নদাওয়াহ থাকে — অর্থাৎ গরমে শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতায় টাইলসে ছাপ পড়ে কিন্তু চোখে স্পষ্ট বিলাল নেই — তাহলে হানাফী মতে পা নাপাক হবে না, মালিকী মতে পা নাপাক হবে না, হাম্বলী মতে বিলাল না থাকলে পা নাপাক হবে না এবং শাফেয়ী মতে সতর্কতার জন্য ধুয়ে নেওয়া উচিত।

রাজিহ ও অগ্রগণ্য মত হলো হানাফী ও মালিকী মত — পায়ের নদাওয়াহর কারণে পা নাপাক হবে না। উপরে বর্ণিত উসূলী কায়েদাগুলো — বিশেষত আল-আসলু ফিল আশইয়া আত-তাহারাহ এবং আল-ইয়াকীনু লা ইয়াযুলু বিশ শাক্ক — এই মতকে আরো শক্তিশালী করে।

যদি নাপাক টাইলসে পা রাখা হয় এবং পায়ে কেবল স্বাভাবিক দেহীয় আর্দ্রতা থাকে — চোখে দৃশ্যমান ভেজাভাব বা বলল না থাকে — তাহলে জমহুর উলামার (হানাফি, মালিকি, হানাবিলা) মতে পায়ে নাপাকি ছড়াবে না।
এই মতটিই উসুলুল ফিকহের দৃষ্টিতে শক্তিশালী, কারণ:

الأصل الطهارة — মূলনীতি পবিত্রতা
اليقين لا يزول بالشك — নিশ্চিত পবিত্রতা সন্দেহে যায় না
المشقة تجلب التيسير — সংকট তাসহিল আনে; প্রতিদিনের স্বাভাবিক আর্দ্রতাকে নাপাকি ছড়ানোর কারণ ধরলে অসহনীয় বিপদ তৈরি হয়

তবে সতর্কতার জন্য: যদি টাইলসে নাপাকির চিহ্ন দেখা যায় এবং পা সেখানে পড়ে স্পষ্টভাবে ভিজে যায়, তাহলে পা ধুয়ে নেওয়াই উত্তম। আর যদি কেবল অনুভূতি থাকে, চিহ্ন না থাকে, তাহলে ওয়াসওয়াসার দিকে না গিয়ে পবিত্রতার মূলনীতির উপর থাকুন।

والله أعلم وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين

লেখাঃ সাফিন চৌধুরী

References

References
1আল-মুহীত ফিল লুগাহ, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩১২
2আল-মুওয়াসুআহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুওয়াইতিয়্যাহ, খণ্ড ২২, পৃষ্ঠা ২৬০

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


Back to top button