শিয়ারদ্দ ও খণ্ডন

রাফেযী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী এর সাহাবী বিদ্বেষ ও সাহাবীদের উপর আক্রমণ

রাফেযী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী এর বিভ্রান্তি

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى أَشْرَفِ الْأَنْبِيَاءِ وَالْمُرْسَلِينَ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি এবং তার পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর—যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবী ও আকাশ বিদ্যমান থাকবে।

আমার দীর্ঘ এই গবেষণাটি পাঠকের সামনে উপস্থাপনের পূর্বে কিছু কথা বলা জরুরী। আলী খামেনেয়ী যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা (আয়াতুল্লাহ) হিসেবে পরিচিত, এই ব্যক্তিত্বকে অনেক সাধারণ সুন্নি ভাই-বোন আজও ‘আহলুস সুন্নাহর বন্ধু’, ‘ইসলামের বীর শাসক’ বা ‘মুসলিম উম্মাহর নেতা’ হিসেবে দেখেন। সম্প্রতি তার মৃত্যুর পরও অনেক মুগ্ধ পোস্ট, অনেক প্রশংসা সামাজিক মাধ্যমে চোখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণে অনেকেই তাকে পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো একজন বীরপুরুষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা কি সত্যিই তাই?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই আমি নেমে পড়ি আলী খামেনেয়ীর রচিত গ্রন্থাবলির গভীর পাঠে। ফার্সি ও আরবি ভাষায় লেখা তার বহু বই, ভাষণ ও ফতোয়ার পাতা ওল্টাতে শুরু করি। আর যা আবিষ্কার করলাম, তা আমাকে স্তম্ভিত করে দিল। একই ব্যক্তি, যাকে অনেকে ‘সুন্নিদের বন্ধু’ ভাবেন, তার কলম থেকে বেরিয়েছে এমন সব কথা, যা সুন্নি আকিদার মূল ভিত্তি—সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা—কে সরাসরি আঘাত করে। আবু বকর সিদ্দীক (রা.) থেকে শুরু করে উমর (রা.), উসমান (রা.)—যাদের প্রতি প্রতিটি সুন্নির হৃদয় ভালোবাসায় ভরপুর, তাদেরকে সে ‘দখলদার’, ‘অত্যাচারী’, এমনকি পরোক্ষভাবে ‘তাগুত’ পর্যন্ত আখ্যা দিতে দ্বিধা করেনি। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-কে ‘প্রতারিতা’ বলতে তার জব্বান কাঁপেনি। মুয়াবিয়া (রা.)-এর মতো নবী-লেখক সাহাবীকে ‘মুশরিকদের প্রধান’ অভিহিত করতে তার বুক কাঁপেনি। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতো তাফসীরের ইমামকে সে ‘চোর’ ও ‘বাইতুল মালের খেয়ানতকারী’ বলে চিত্রিত করেছে।

আমার এই গবেষণার উদ্দেশ্য একটাই: যারা এখনও বিভ্রান্ত, যারা খামেনেয়ীর মুখোশের আড়ালের আসল চেহারা দেখতে পাননি, তাদের চোখ খুলে দেওয়া। সে যে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বরং সাহাবায়ে কেরামের প্রতি গভীর বিদ্বেষ পোষণ করে তার নিজের লেখা কলমের কালিই তার সবচেয়ে বড় সাক্ষী।

সে তার ‘ওয়ালায়াতুল ফকীহ’ তত্ত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে যে, শুধুমাত্র শিয়া ফকীহর শাসনই বৈধ, আর এর বাইরের সব শাসনব্যবস্থা—সেটা সাহাবীদের খিলাফতই হোক বা উমাইয়া-আব্বাসীয় যুগ—সবই ‘তাগুতী শাসন’। সে ফাতিমা যাহরা (রা.)-কে নিয়ে এমন সব বানোয়াট কাহিনী প্রচার করেছে যা তাকে নবুওয়াতের পর্যায়ে নিয়ে যায়, অথচ একই সঙ্গে উম্মুল মুমিনীনদের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে।

তার লেখার আরেকটি ভয়ঙ্কর দিক হলো ‘তাকিয়্যার ফতোয়া’। সে সুন্নিদের সাথে মিশে থাকার সময় হাত বাঁধা অবস্থায় নামাজ পড়ার অনুমতি দিয়েছে ‘তাকিয়্যার অজুহাতে’, আবার অন্যদিকে আয়েশা (রা.)-কে গালি দেওয়া হারাম ঘোষণা করেছে শুধু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার স্বার্থে। তার এই দ্বিচারিতা প্রমাণ করে যে, তার বক্তব্যে কোনো আন্তরিকতা নেই; যা আছে তা শুধু কৌশল—সুযোগ বুঝে আঘাত হানার কৌশল।

সে নিজের বইয়ে দাবি করেছে, রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সাহাবীগণ ‘বিচ্যুত’ হয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে ইসলাম তার আসল চেহারা হারিয়ে ফেলে। তার মতে, শুধু নবী (সা.)-এর যুগ ও আলী (রা.)-এর খিলাফত ছাড়া আর কোনো সময়ই ইসলাম ‘নির্মল ও পবিত্র’ ছিল না। এই ধারাবাহিক আক্রমণের মধ্য দিয়ে সে মুসলিম ইতিহাসের ১৪০০ বছরকে ‘অন্ধকার যুগ’ বলে চিহ্নিত করেছে।

এখন প্রশ্ন হলো—যে ব্যক্তি সাহাবীদেরকে ‘মুনাফিক ও কাফিরদের প্রধান’ বলে, উম্মুল মুমিনীনদেরকে ‘নিন্দিত নারী’ বলে, আবু বকর ও উমর (রা.)-এর অসিয়তকে ব্যঙ্গ করে বলে ‘এগুলো যেন আল্লাহর ওহী’—এই ব্যক্তি কী করে কোনো সুন্নির কাছে সম্মানিত হতে পারে? যে ব্যক্তি কুরআনের সেই আয়াত, যা বিশেষভাবে মরিয়ম (আ.)-কে নিয়ে নাজিল হয়েছে, তা দিয়ে ফাতিমা (রা.)-এর প্রতি ফেরেশতাদের আগমনের মিথ্যা কাহিনী রচনা করে, সে কী করে ইসলামের পতাকাবাহী হতে পারে?

আমার এই গবেষণা তাই শুধু একটি ব্যক্তির সমালোচনা নয়; বরং আহলুস সুন্নাহর ভাই-বোনদের জন্য একটি দলিল যাতে তারা চিনতে পারেন, কার কলম থেকে সাহাবীদের বিরুদ্ধে বিষ বমিত হয়েছে। আলী খামেনেয়ী যতই রাজনৈতিক কারণে সুন্নিদের সাথে সৌহার্দ্যের কথা বলুক না কেন, তার নিজের রচিত গ্রন্থগুলোই তার অন্তরের জ্বালার প্রমাণ বহন করে। সুন্নিরা যখন নবী (সা.)-এর প্রশংসিত সাহাবীদের প্রতি দরুদ পাঠে ‘ওয়া সাহবিহী আজমাঈন’ বলেন, সে ইচ্ছাকৃতভাবে সেটি বাদ দিয়ে ‘ওয়া আলিহী’ পর্যন্ত থেমে যায়। এই ছোট্ট পার্থক্যটিই তার সাহাবী বিদ্বেষের বড় প্রমাণ।

আমি এই গবেষণাপত্রে তার নিজের লেখা বই থেকে শত শত পৃষ্ঠা ঘেঁটে, শত শত উদ্ধৃতি সংগ্রহ করে সাজিয়েছি—যাতে কেউ বলতে না পারেন, ‘আমি তো জানতাম না’। এখন জানার দায়িত্ব আপনাদের।  প্রবন্ধের শেষে আমি সাহাবায়ে কেরামের ফযিলত সমন্ধে আসা কিছু সহীহ হাদিস তুলে ধরেছি যা পাঠকবৃন্দের জন্য একটি রিইমাইন্ডার হিসেবে কাজ করবে কেননা সাহাবায়ে কেরামকে যে ভালোবাসে না তার ঈমানের সংশয় রয়েছে। আসুন, আমরা চিনি সেই ব্যক্তির আসল রূপ, যাকে অনেকে ভুল করে ‘বন্ধু’ ভেবে বসে আছেন। আসুন, সাহাবীদের ভালোবাসা নিয়ে যে দাবি করে, তার কলমের কালি পড়ে দেখি সত্যিই কি সে সাহাবীদের ভালোবাসে, নাকি শুধু তাকিয়্যার আবরণে তাদের প্রতি ঘৃণা লুকিয়ে রাখে? আমরা যদি খামেনেয়ীর লেখা মাপতে চাই, তাহলে কোথায় দাঁড়ায় তার অবস্থান? সাহাবী প্রেমিক, না সাহাবী বিদ্বেষী? উত্তর দিবে তার নিজের লেখা কলম।

– সাফিন চৌধুরী
লেখার কোন অংশ বিনা ক্রেডিট বা কার্টেসী ব্যতীত কপি করা হারাম এবং চুরি। তাই ওয়েবসাইট লিংকসহ লেখকের নাম সহ প্রচার করবেন। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

Table of Contents

আবু বকর, উমর ও উছমান (রাদিআল্লাহু আনহুম) এর খিলাফত সম্পর্কে মুশরিক আলী খামেনেয়ী এর কুৎসিত মন্তব্য ও আক্রমণ.

খামেনীর ‘আল ফিকহুস সিয়াসি ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনিয়ী’ বইয়ের ভূমিকায় রাফেযী প্রকাশনী থেকে শুরার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত খেলাফত সম্পর্কে এই মন্তব্য করা হয়েছে:

فبعدما كان ما كان من أمر سقيفة بني ساعدة وما جرى فيها، انقسم المسلمون، كما هو المعروف إلى من يقول بالخلافة القائمة على الشورى، ومن يقول بالإمامة المؤسسة على الوصية كسبيل لتحديد من من المسلمين يقوم بإمرتهم وتجب عليهم طاعته.

انطلاقا من هذا الانقسام سيتطوّر الفقه السياسي الإسلامي في هذين الاتجاهين. فبعد الحقبة التي عُرفت بحقبة الخلفاء الراشدين، وتحوّل الخلافة، مع معاوية بن أبي سفيان إلى ملك، لم يبق من الشورى، بصرف النظر عن ملابسات ممارستها في تلك الحقبة، إلا البيعة الشكلية التي تفرضها تلك الحقبة، بعيدا عن أي اعتبارات دينية أو أخلاقية

সাকিফা বনু সাঈদার ঘটনা এবং সেখানে যা কিছু ঘটেছিল তার পর, যেমনটি সুবিদিত যে মুসলিমগণ, তারা দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়েন। একদল বলতে থাকেন শুরার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত খিলাফতের কথা, আর অন্যদল বলেন ওসিয়তের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত ইমামতের কথা, যা মুসলমানদের মধ্য থেকে কে তাদের নেতৃত্ব দেবে এবং কার আনুগত্য তাদের ওপর ওয়াজিব তা নির্ধারণের পথ হিসেবে।

এই বিভাজনের ভিত্তিতেই ইসলামী রাজনৈতিক ফিকহ এ দুটি ধারায় বিকশিত হবে।

অতঃপর যে যুগটি খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ নামে পরিচিত ছিল, তার পরবর্তী সময়ে এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের মাধ্যমে খিলাফত যখন বাদশাহীতে রূপান্তরিত হলো, তখন ঐ যুগে শুরার চর্চার জটিলতা যা-ই হোক না কেন, শুরা থেকে আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না—শুধু আনুষ্ঠানিক বাইয়াত ছাড়া, যা ঐ যুগের পরিস্থিতি দ্বারা আরোপিত ছিল, কোনো ধর্মীয় বা নৈতিক বিবেচনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে।[1]আল ফিকহুস সিয়াসি ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনিয়ী ১-২ পৃষ্ঠা

এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। কারণ বইটি:

১. সাকিফায় আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে খলিফা নির্বাচন করাকে একটি ঐতিহাসিক সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করেছে যা অবৈধ শাসনের দিকে নিয়ে যায়, যা পরোক্ষভাবে প্রথম তিন খলিফার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

২. শুরাভিত্তিক খিলাফতকে শিয়া ইমামতের সাথে সমান মর্যাদার দুটি “মতামত”-এর একটি হিসেবে বর্ণনা করেছে—অথচ আহলে সুন্নাত আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর (এই ধারাবাহিকতায়) খিলাফতকে বৈধ, ন্যায়পরায়ণ নেতৃত্ব হিসেবে গণ্য করে যা সাহাবীদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত।

৩. উমাইয়াদের অধীনে আনুষ্ঠানিক বাইয়াত সম্পর্কে “কোনো ধর্মীয় বা নৈতিক বিবেচনা থেকে সম্পূর্ণ দূরে” এই বাক্যাংশটি একটি বৃহত্তর বর্ণনার অংশ যা শিয়া বিতর্কবিদরা সুন্নি রাজনৈতিক ইতিহাসকে অবৈধ প্রমাণের জন্য ব্যবহার করে।

আহলুস সুন্নাহ বিশেষভাবে সাহাবীদের সর্বোচ্চ মর্যাদা দেন এবং প্রথম খলিফাদের ওপর কোনো আক্রমণ বা পরোক্ষ প্রশ্নতোলাকে সঠিক ইসলামী আকিদা থেকে গুরুতর বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য করেন। আহলুস সুন্নাহর উলামা সাহাবীদের সম্পর্কে রাফেযীদের এসব বিশ্বাসকে কুফর বা ন্যূনতমপক্ষে গুরুতর বিদআত বলে ঘোষণা করেন।

খামেনী তিন খলিফার খেলাফতকে আক্রমণ করে আরো লিখেছে:

هذا وقد مرت خمس وعشرون سنة على وفاة الرسول ﷺ وقد بدأت الكثير من الاخطاء والاشتباهات بالظهور أن نفس امير المؤمنين هي نفس الرسول الله ولولا هذه الفترة – الخمس وعشرون سنة – لما كانت تواجه علياً أية مشكلة في بناء ذلك المجتمع إلا انه اجوبه بمثل هذا المجتمع الذي يوصف بعض افراده بانهم يتخذون مال الله دولاً وعباده خولاً ودينه دخلاً

নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পঁচিশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এবং অনেক ভুল-ত্রুটি ও সংশয় প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। অথচ আমিরুল মুমিনিনের (আ.) সত্তা হল রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সত্তার মতোই। আর যদি এই সময়কাল—এই পঁচিশ বছর—না হতো, তাহলে আলীর জন্য সেই সমাজ গঠনে কোনো সমস্যা হতো না। কিন্তু তিনি এইরূপ সমাজের সম্মুখীন হলেন, যার কিছু সদস্যকে বর্ণনা করা হয় যে তারা আল্লাহর সম্পদকে রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত করে, তাঁর বান্দাদেরকে দাসে পরিণত করে এবং তাঁর দ্বীনকে উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে নেয়।[2]আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, পৃষ্ঠা ১৩৭

 

এটি সেই শিয়া বর্ণনার একটি স্পষ্ট সমর্থন যে আবু বকর, উমর ও উসমানের শাসনের পঁচিশ বছর ছিল বিচ্যুতি ও দুর্নীতির সময় যা আলীকে সঠিকভাবে শাসন করতে বাধা দেয়। আহলে সুন্নাত প্রথম তিন খলিফার শাসনকে বৈধভাবে হিদায়াতপ্রাপ্ত খিলাফত হিসেবে গণ্য করে, যা একাধিক সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লিখিত হয়েছে। এই সময়কাল আলীর ওপর অত্যাচারের সময় ছিল বলে দাবি করছে তাগুত আলী খামেনী।

খামেইনী তিন খলিফার খেলাফতকে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর নিচে রেখে বলেছে:

আর সমাজের স্তরে তার ন্যায়বিচার, অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার বাস্তবায়নের দিক থেকে, আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রূপ উপস্থাপন করেন। কারণ তার সরকার ছিল শতভাগ ইসলামী, ৯৯% বা ৯৯.৯৯% নয়। আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর পক্ষ থেকে যা কিছু প্রকাশ পেত, তার চলাফেরা বা সিদ্ধান্ত—তার ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের সীমার মধ্যে—তা কখনোই ইসলামী চরিত্র থেকে বের হয়ে যেত না। অর্থাৎ, তিনিই ছিলেন পরম ন্যায়বিচার।[3]আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, ৮৮-৮৯ পৃষ্ঠা

যদিও আহলুস সুন্নাহ আলী (রা.)-কে একজন মহান সাহাবী ও চতুর্থ হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা হিসেবে শ্রদ্ধা করে, তার সরকারকে “শতভাগ ইসলামী” এবং “পরম ন্যায়বিচার” হিসেবে বর্ণনা করা এবং এর মাধ্যমে আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) কে পরোক্ষভাবে বাদ দেওয়া ইঙ্গিত করে যে এই তিন খলিফার সরকার কম বৈধ ছিল, এটি একটি অবস্থান যা সুন্নিরা মহান সাহাবীদের বিরুদ্ধে আক্রমণ বলে মনে করে। আহলুস সুন্নাহ সকল চার হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাকে সমানভাবে বৈধ বলে গণ্য করে।

কাফির আলী খামেনেয়ী তিন খলিফার খেলাফতকে অবৈধ ঘোষণা করতে লিখেছে:

من البديهي أن البناء الذي بناه الرسول ما كان لينهار بهذه السهولة؛ ولهذا نلاحظ أن من بعد رحيل الرسول، استمرت عامة الأمور – بإستثناء قضية الوصية – على ما كانت عليه، فكانت العدالة في وضع حسن،

এটা স্বাভাবিক যে, রাসুল (সা.) যে কাঠামো নির্মাণ করেছিলেন তা এত সহজে ধ্বংস হওয়ার ছিল না। আর এ কারণেই আমরা লক্ষ্য করি যে, রাসুলের বিদায়ের পর, অছিয়তের বিষয়টি ব্যতীত—সাধারণ বিষয়গুলো আগের মতোই চলতে থাকে। তখন ন্যায়বিচার ভালো অবস্থায় ছিল।[4]ওয়ানতাছারাদ দাম, ১৩৬ পৃষ্ঠা

“অছিয়তের বিষয়টি ব্যতীত” — এই বাক্যাংশটি ইঙ্গিত করে যে নবী (সা.)-এর পরে ক্ষমতা হস্তান্তর প্রথম থেকেই অবৈধ ছিল। এটি রাফেযী মতাদর্শ যা তিন খলিফার খেলাফতকে প্রত্যাখ্যান করে।

সে প্রথম তিন খলিফার সময়কালকে এমন একটি সময় হিসেবে বর্ণনা করেছেন যখন খিলাফত তার ঐশী অক্ষ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল।

حتى في الفترة التي أُقصي فيها أمير المؤمنين علي (عليه السلام)، وابتعدت الخلافة في اعتقادنا عن محورها الإلهي الأصيل.. حتى في تلك الفترة يأتي رجل من مصر يشكو إلى الخليفة اعتداء ابن والي مصر آنذاك عمر بن العاص عليه. نعم ابن الوالي لا الوالي نفسه.

এমনকি সেই সময়েও যখন আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)-কে সরিয়ে রাখা হয়েছিল এবং আমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী খিলাফত তার আসল ঐশী অক্ষ থেকে সরে গিয়েছিল, এমনকি সেই সময়েও মিশর থেকে এক ব্যক্তি এসে খলিফার কাছে তখনকার মিশরের শাসক আমর ইবনুল আসের ছেলের অত্যাচারের অভিযোগ জানায়। হ্যাঁ, শাসকের নিজের নয়, বরং শাসকের ছেলের।[5]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২১০, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

এটি আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)-এর খিলাফতের ওপর একটি প্রত্যক্ষ আক্রমণ। সুন্নি আকিদা অনুসারে, চার খলিফাই ছিলেন বৈধ এবং তাদের খিলাফত ছিল ঐশীভাবে অনুগ্রহপ্রাপ্ত। নবী (সা.) বলেছেন: “তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাত অনুসরণ করো।” (আবু দাউদ, সহিহ)

খামেনেয়ী লিখেছে:

بدا انزلاق الخواص المؤيدين للحق بعد وفاة الرسول بست أو سبع أو ثمان سنوات وحديثي هنا مع غض النظر عن مسالة الخلافة تماماً قضية الخلافة على حدة بل اتحدث الآن حول هذا النهج بسبب ما يتصف به من خطورة . القضايا بأجمعها وقعت بعد وفاة الرسول بسبع سنوات وبرزت أولى – مؤشراتها في قولهم : لا يجوز ان يستوي ذوو السابقة في الاسلام – وهم اصحاب الرسول ومن شهد منهم حروبه مع سائر الناس . هؤلاء يجب ان تكون لهم امتيازات فمنحت لهم امتيازات مالية من بيت المال

রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের ছয় বা সাত বা আট বছর পর সত্যের পক্ষসমর্থনকারী খাসদের (বিশিষ্ট ব্যক্তিদের) পিছলে যাওয়া শুরু হয়। খিলাফতের বিষয়টি থেকে সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে আমি এখানে কথা বলছি। খিলাফতের বিষয়টি স্বতন্ত্র। বরং আমি এখন এই পদ্ধতি নিয়ে কথা বলছি তার ভয়াবহতার কারণে। সমস্ত বিষয়ই রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের সাত বছর পর সংঘটিত হয়েছিল। এর প্রথম সূচনা দেখা যায় তাদের এই উক্তিতে: ইসলামে অগ্রগামী ব্যক্তিরা—যারা রাসূলের সাহাবী এবং তাঁর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন—তারা সাধারণ মানুষের সমান হতে পারে না। তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকা উচিত। ফলে তাদের বাইতুল মাল থেকে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলো।[6]আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, পৃষ্ঠা ১৩৬

খামেনেয়ী রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের পরের যুগকে বর্ণনা করতে “انزلاق” (নৈতিক পতন/বিচ্যুতি) শব্দটি ব্যবহার করেছে। সে বিশেষভাবে উসমান (রা.)-এর শাসনামলের জ্যেষ্ঠ সাহাবীদের লক্ষ্য করে তাদেরকে সম্পদ-লোভী পুঁজিপতি হিসেবে চিত্রিত করেছে যারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। আহলুস সুন্নাহ সাহাবীদের সমষ্টিগতভাবে মুসলিমদের সর্বোত্তম প্রজন্ম (خير القرون) হিসেবে দেখে, যাদের ন্যায়পরায়ণতা কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এইভাবে তাদের সততার ওপর আক্রমণ করা ছিচকে রাফেযী আলী খামেনীর নোংরা চাল।

 

সাহাবী উছমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর ব্যাপারে আলী খামেনী আরো লিখেছে:

وكان هذا مما أخذ على الخليفة عثمان في ما بعد. وكان عثمان يعتذر عن ذاك طبعاً ويقول انــه رحمي، وأنا أصل به رحمي لانه يعيش في ضنك وأنا أريد مساعدته او خلاصة القول هي ان الخواص كانوا يتهافتون على جمع الأموال.

আর এটাই ছিল পরবর্তীতে খলিফা উসমানের ওপর আরোপিত অভিযোগগুলোর একটি। আর উসমান অবশ্যই সে সম্পর্কে অজুহাত পেশ করতেন এবং বলতেন: সে আমার আত্মীয়, আমি তার মাধ্যমে আমার আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখছি। কারণ সে অভাব-অনটনে জীবনযাপন করছে এবং আমি তাকে সাহায্য করতে চাই। সংক্ষেপে বলতে গেলে, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ (খাস) সম্পদ সংগ্রহের পেছনে ছুটছিলেন।[7]আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, পৃষ্ঠা ১০১

খামেনেয়ী বইটিতে বারবার উসমান (রা.)-কে স্বজনপ্রীতি ও দুর্বল শাসনের জন্য দোষী হিসেবে চিত্রিত করেছে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক নিয়োগের দায়িত্ব তাঁর ওপর চাপিয়েছে। আহলুস সুন্নাহ উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে “জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের” একজন এবং তৃতীয় হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা হিসেবে গণ্য করে।

সে এই নীতি প্রতিষ্ঠা করেছে যে, নবী (সা.)-এর পর শুধুমাত্র শিয়া নিষ্পাপ ইমামেরই শাসন করার অধিকার রয়েছে, যা কার্যকরভাবে সকল খলিফাকে অবৈধ ঘোষণা করে:

الرسول». والرسول هنا لا باعتباره رسولا ونبيا، بل باعتباره يمثل الحكومة الإلهية. وحين يتوفى الرسول يتولى ذلك الإمام، أي الحاكم الإلهي ، وفي عصر عدم تولي الإمام المعصوم حكومة الأمة، فإن الذي يدير أمور الأنفال والثروات العامة هو الإمام العادل الذي بيده زمام الحكومة الإسلامية

আর এখানে রাসুলকে রাসুল ও নবী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না, বরং তাকে ঐশী সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আর যখন রাসুল (সা.) ইন্তেকাল করেন, তখন সেই ইমামই এর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যিনি হলেন ঐশী শাসক। আর যে যুগে নিষ্পাপ ইমাম উম্মতের শাসনভার গ্রহণ করেন না, সেসময় আনফাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ও সরকারি সম্পদ পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন সেই ন্যায়পরায়ণ ইমাম, যার হাতে ইসলামি সরকারের কর্তৃত্ব ন্যস্ত।

[8]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৪৬, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

এটি প্রথম তিন খিলাফতকে প্রত্যাখ্যান করার মতবাদের ভিত্তি — নবী (সা.)-এর পরে আলী (রা.)-এর খিলাফত ছাড়া সমস্ত শাসনব্যবস্থাকে “অনুপস্থিত নিষ্পাপ ইমামের যুগ” হিসেবে চিহ্নিত করা। এটি একটি মৌলিক শিয়া বিশ্বাস যা সুন্নিরা সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে।

আলী খামেনী আরো লিখেছে:

والدليل الموجب لوجود الإمام والنص عليه هو الدليل نفسه الذي دعا لبعث الأنبياء وارسال الرسل. وأول الأئمة علي بن أبي طالب (ع) وآخرهم المهدي حسب اعتقاد المسلمين الشيعة، والدليل الموجب لوجود المنتظر (عج) (۳).

وبعد انتهاء عصر الامامة بغيبة الامام الثاني عشر، بدأت مرحلة النيابة الخاصة، ثم النيابة العامة التي تتجسد فيها ولاية الأمر وقيادة المجتمع (أنظر المخطط)

↓الله (تعالى)

↓الرسول (ص)

↓الامام (ع)

الفقيه

আর ইমামের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা এবং তার প্রতি নির্দেশের দলিল হল সেই একই দলিল যা নবী-রাসুল প্রেরণের দাবি করে। ইমামদের মধ্যে প্রথম হলেন আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) এবং তাদের শেষ হলেন মুসলিম শিয়াদের বিশ্বাস অনুযায়ী মাহদী (আ.)। আর এটিই হচ্ছে প্রতীক্ষিত ইমামের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তার দলিল।

দ্বাদশ ইমামের গায়বাতের মাধ্যমে ইমামতের যুগ শেষ হওয়ার পর, শুরু হয় বিশেষ নিয়াবাতের পর্যায়, তারপর সাধারণ নিয়াবাতের পর্যায়, যাতে বাস্তবায়িত হয় الولاية (শাসনত্ব) ও সমাজের নেতৃত্ব। (নিচের চিত্রটি দেখুন)

↓আল্লাহ (তা‘আলা)

↓রাসুল (সা.)

↓ইমাম (আ.)

»ফকীহ [9]বই: লিমাযাল খামেনেয়ী, ৩৩ পৃষ্ঠা, প্রকাশক: দারুল ওয়ালায়ি, বৈরত লেবানন হতে … Continue reading

বইটিতে সে সত্যায়ন করে বলেছে যে আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রথম ইমাম হিসেবে ঐশীভাবে নিযুক্ত (মনসুস আলাইহি) ছিলেন এবং এর জন্য নির্দেশ (নস) বিদ্যমান ছিল:

ইমামতের জন্য “নস”-এর উল্লেখ স্পষ্টভাবে শিয়া মতবাদকে নির্দেশ করে যে নবী করীম (সা.) গাদীর খুমের ঘটনায় স্পষ্টভাবে আলীকে ইমাম হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন।

আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করে যে আবু বকর আল-সিদ্দিক (রা.) নবী করীম (সা.)-এর পরে প্রথম সঠিক খলিফা, যিনি সাহাবীদের ঐকমত্য, শুরা ও বাইয়াতের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। আলী ঐশীভাবে নিযুক্ত ছিলেন এবং আবু বকর, উমর ও উসমান ছিলেন দখলকারী—এই দাবি একটি মৌলিক শিয়া অবস্থান যা সাহাবীদের সম্পর্কে আহলুস সুন্নাহর আকিদার সরাসরি বিরোধী।

আলী খামেনী তার ওয়ালাতুল ফাকীহ এর শাসনক্ষমতা ব্যতীত সকল শাসনব্যস্থা তথা শুরাভিত্তিক খেলাফত বা রাজতন্ত্রকে তাগুত আখ্যা দিচ্ছে :

لقد تم استخدام كلمة الطاغوت بدلاً من الشيطان، والشيطان للدلالة على الطاغوت. إذا فإن الشيطان عنصر يقوم بدعوة الإنسان من الخارج للأعمال الشريرة والإفساد والإنحطاط، والذل والظلم، والإنحراف …. وبشكل عام فكل ولاية غير ولاية الله هي ولاية شيطانية وطاغوتية .

শয়তানের পরিবর্তে ‘তাগুত’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, এবং শয়তান দ্বারা তাগুতকে বোঝানো হয়েছে। সুতরাং শয়তান হলো সেই উপাদান যা মানুষকে বাইরে থেকে খারাপ কাজ, দুর্নীতি, পতন, লাঞ্ছনা, অত্যাচার ও পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানায়….. এবং সাধারণভাবে, আল্লাহর ওয়ালায়াত ব্যতীত প্রতিটি ওয়ালায়াত (কর্তৃত্ব) হলো শয়তানি ও তাগুতিপূর্ণ কর্তৃত্ব।[10]ফিকরুল ইমাম আল খামানেয়ী ৩৩৫ পৃষ্ঠা

যিন্দিক খামেনেয়ীর বইয়ের সম্পূর্ণ কাঠামো যে কোনো সরকারকে, যা কোনো শিয়া ফকীহ দ্বারা পরিচালিত নয়, শয়তানি (তাগুতিপূর্ণ) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এর মধ্যে আব্বাসীয় ও উমাইয়া খিলাফত এবং সমস্ত আধুনিক মুসলিম রাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত। এই ধারা ইতিহাসের প্রায় প্রতিটি মুসলিম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষকে, শুধুমাত্র আলীর খিলাফত ও খোমেনী/খামেনেয়ীর শাসনব্যবস্থা ব্যতীত, অবৈধ তাগুত হিসেবে চিহ্নিত করার পর্যায়ে বিস্তৃত:

مفتخرين !! ولكن هل ما نقوله إنصافاً؟ هل أن تلك القدرات قد أعطت ثمارها وانتهت لصالح المجتمع الإسلامي؟ ما الذي ورثه المجتمع الإسلامي من ذلك بعد مرور عشرة قرون، لماذا لم تبق تلك الثورة العلمية والثقافية لنا؟ هل لذلك سبب سوى أن هذه الأنشطة وإن كانت إنسانية إلا أنها مغطاة وتحت ظل الطاغوت ؟

আমরা গর্বিত!! কিন্তু আমরা যা বলছি তা কি ন্যায়সংগত? সেই সক্ষমতাগুলো কি তাদের ফল দিয়েছে এবং ইসলামী সমাজের কল্যাণে পরিসমাপ্ত হয়েছে? দশটি শতাব্দী অতিক্রান্ত হওয়ার পর ইসলামী সমাজ তা থেকে কী উত্তরাধিকার লাভ করেছে? কেন সেই বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক বিপ্লব আমাদের কাছে টিকে থাকেনি? এর কি এমন কোনো কারণ নেই যে, এই কর্মকাণ্ডগুলো মানবিক হলেও তা ছিল তাগুতের ছায়ায় আবৃত ও তার আশ্রয়ে পরিচালিত?[11]ফিকরুল ইমাম আল খামানেয়ী ৩৩৮ পৃষ্ঠা

আব্বাসীয় ও উমাইয়া খিলাফতকে আহলুস সুন্নাহ ইসলামী রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে, যা ত্রুটিমুক্ত না হলেও বৈধ। এগুলোকে সরাসরি ও নিরঙ্কুশভাবে তাগুতি ঘোষণা করা একটি শিয়া রাজনৈতিক চাল। তদুপরি, আহলুস সুন্নাহ এই শর্ত আরোপ করে না যে রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে ইসলামিকভাবে বৈধ হতে হলে অবশ্যই আলীয় বংশধারা থেকে প্রবাহিত হতে হবে অথবা শিয়া ফিকহের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে হবে।

খামেইনী এই ওয়ালায়াতুল ফাকীহ এর শাসব্যবস্থা ব্যতীত সকল শাসনব্যবস্থাকে তাগুত আখ্যা দিয়ে লিখেছে:

وإنّ كلّ من يخرج من تحت ولاية الله، فإنّه لا بد له أن يدخل تحت ولاية الطاغوت والشيطان. فما هي العلاقة والرابطة بين الشيطان والطاغوت؟ وهل يوجد من نسبة بينهما ؟ أجل هناك ما يفوق كلمة النسبة والعلاقة. فالشيطان هو ذاك الطاغوت، والطاغوت هو الشيطان نفسه والآية القرآنية تشير إلى مثل هذا،

আর যে কেউ আল্লাহর ওয়ালায়াতের অধীন থেকে বেরিয়ে যায়, সে অবশ্যই তাগুত ও শয়তানের ওয়ালায়াতের অধীনে প্রবেশ করে। এখন সম্পর্ক কী শয়তান ও তাগুতের মধ্যে? আর কি তাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে? হ্যাঁ, সম্পর্ক ও সংযোগের কথার চেয়েও বেশি কিছু আছে। শয়তানই সেই তাগুত, আর তাগুতই সেই শয়তান। আর কোরআনের আয়াতও এরূপই ইঙ্গিত করে।[12]আল ফিকরিল ইসলামী আলা দ্ব্ওয়িল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা ৬৬৭

এই কাঠামোটি বারবার উল্লিখিত ইয়াজিদ, উমাইয়াগণ এবং কুফা বর্ণনার আলোচনার সাথে মিলিত হয়ে কার্যকরভাবে যেকোনো শাসককে, যিনি বারো ইমামী শিয়া মডেল অনুযায়ী শাসন করেন না, তাকে “তাগুত” হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। প্রথম তিন খলিফা (আবু বকর, উমর, উসমান) এবং পরবর্তী সকল সুন্নি শাসকদের জন্য শিয়া রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্বে এর স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে।  খোলাফায়ে রাশেদীন (বিশেষ করে আবু বকর, উমর, উসমান) ইসলামী ইতিহাসের সেরা প্রজন্মের শাসক হিসেবে সম্মানিত। বৈধ খলিফাদের উপর “তাগুত” ধারণা প্রয়োগ করা নবীর সুন্নাহ এবং মূলধারা সাহাবীদের বোধগম্যতা থেকে একটি বিচ্যুতি।

খামেনেয়ী লিখেছে:

ومن خلال بيانه للمكانة التي تبوأها الحسين بن علي في عهد رسول الله ﷺ والسنوات الخمسين التي اعقبت رحيله ،

আর তাঁর (খোমেনী) বয়ানের মাধ্যমে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে ও তাঁর বিদায়ের পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে হুসাইন ইবনে আলী (আ.) যে মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন তা ব্যাখ্যা করে।[13]আশুরাহ ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী, ১৫ পৃষ্ঠা

বই জুড়ে এই কাঠামোটি ইঙ্গিত করে যে নবী (সা.)-এর মৃত্যুর পরবর্তী পঞ্চাশ বছর ছিল বিচ্যুতি ও অবৈধতার সময় — যা আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলীর নিজের খিলাফতকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি আহলে সুন্নাতের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক, আমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের (الخلفاء الراشدون) বৈধ ও প্রশংসনীয় বলে গণ্য করি।

যিন্দিক আলী খামেনেয়ী উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খিলাফতকে অবৈধ বলে লিখেছে

إننا اليوم، إن كنا جمهورية إسلامية وحكومة علوية، فعلينا الإلتزام بهذه المعالم. وعليكم أنتم أيها الشعب أن تطالبونا بها أن تطالبوا بإقامة دين الله، ولئن عطفنا أنظارنا إلى الشرق والغرب لننظر ما يطرحون من مفاهيم حكومية وسياسية وما يصرحون به ونحاول أقلمة أنفسنا معهم فإنما ذلك نظير خلافة العثمانيين وبني أمية وبني العباس، فلقد كانوا يسمون خلفاء رسول الله ويحملون لقب الحاكم الإسلامي بيد أن ديدنهم وممارستهم كانت كحكومة كسروية وقيصرية وحكومة الملوك، إذ فعلوا ما كان يفعل أولئك.

আমরা আজ যদি একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র এবং আলাভী সরকার হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের এই বৈশিষ্ট্যগুলো মেনে চলা আবশ্যক। আর তোমরা, হে জনগণ, তোমাদের কর্তব্য আমাদের কাছে এগুলো দাবি করা, আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার দাবি করা। আর যদি আমরা আমাদের দৃষ্টি পশ্চিম ও পূর্বের দিকে ফিরাই, দেখার জন্য তারা কী শাসন ও রাজনীতির ধারণা পেশ করছে এবং কী ঘোষণা করছে, আর তাদের সাথে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করি, তাহলে তা হবে উসমানীয় খিলাফত, উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের খিলাফতের মতো। তারা নিজেদেরকে রাসূলুল্লাহর খলিফা বলত এবং ইসলামী শাসকের উপাধি ধারণ করত, কিন্তু তাদের স্বভাব ও কর্মপদ্ধতি ছিল কিসরা ও কায়সারের শাসন এবং বাদশাহদের শাসনের মতো। কারণ তারা তাই করত যা তারা (কিসরা-কায়সার) করত।

সাহাবা বিদ্বেষী আলী খামেনী এই লেখার মাধ্যমে ইঙ্গিত করে যে ইমামত ও ওয়ালায়াত প্রথম ইসলামী শতাব্দী থেকেই একটি অবৈধ বংশানুক্রমিক শাসনে রূপান্তরিত হয়েছিল — যা শিয়া বোধগম্যতায় আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এর খিলাফতকে দখলদারিত্ব হিসেবে নির্দেশ করে। এটিকে সাহাবীগণের নিজেদের উক্তিতে উল্লেখিত বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে, লেখাটি সূক্ষ্মভাবে শিয়া বর্ণনাকে বৈধতা দেয় যে সাহাবীগণ নিজেরাই আলী থেকে কর্তৃত্বের অবৈধ হস্তান্তর স্বীকার করেছিলেন। এটি প্রথম তিন খলিফার বৈধতার উপর একটি প্রত্যক্ষ আক্রমণ, যাদেরকে আহলে সুন্নাত হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা হিসেবে শ্রদ্ধা করে। উসমানীয় খিলাফত ও বনু উমাইয়াকে তারা যা বিরোধিতা করে তার সাথে তুলনা করা একটি অলঙ্কারমূলক কৌশল যা পরোক্ষভাবে এই খিলাফতগুলোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে, যেগুলোকে আহলুস সুন্নাহ (ত্রুটিপূর্ণ হলেও) বৈধ ইসলামী শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করে।[14]হাকিমিয়্যাতুল ইসলামী বাইনান নাযরিয়্যাতি ওয়াত তাতবিক্বী খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১০

যিন্দিক আলী খামেনী তিন খলিফার শাসনকালকে আক্রমণ করে লিখেছে:

وبعد وفاة النبي الله وإقصاء أمير المؤمنين عل السلام عن مقامه الذي نصبه الله تعالى فيه انقسمت الأمة إلى قسمين

আর নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর এবং আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.)-কে আল্লাহ তাআলা যেই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছিলেন তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর উম্মত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।[15]আল ইমামুল খামেনেয়ী, আল ওয়ালিয়ুল ফাক্বীহ, পৃষ্ঠা ২৪

আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-কে ঐশীভাবে নিযুক্ত (নস) করা হয়েছিল এবং তারপর তাকে তার পদ থেকে “সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল” এই দাবিটি সরাসরি ইঙ্গিত করে যে আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.) অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এটি সেই মৌলিক রাফেজী বিশ্বাস যা আহলে সুন্নাত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করেন যে আবু বকরের খিলাফত সাহাবীদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে বৈধ ছিল।

আলী খামেনেয়ী আবু বকর, উমর ও উছমান (রাদিআল্লাহু আনহুম) এর খিলাফতকে অত্যাচারী যুগ বলে আখ্যায়িত করে লিখেছে:

الأمر الذي جعل هذا الطرح مقبولاً لدى الجماهير، وهذه السوابق هي :

۱ – تجربة الناس القاسية مع رجال الدين في أوروبا جراء حكم البابوات .

۲ – تجربة المسلمين القاسية مع الخلافة الإسلامية المنحرفة عن الإسلام، وتسميتها بالخلافة فيه تجوز وهي إلى الملكية أقرب .

فقد عاث الخلفاء سيما في الحقبتين الأموية والعباسية وما بعدهما – فساداً وقهراً بالأمة، ولم تعرف الخلافة الإسلامية نقاء وطهراً إلا في عهدين هما عهد النبي ، وعهد علي بن أبي طالب ، ولا أعرف استثناء آخر غيرهما .

এই বিষয়টিই এই প্রস্তাবনাকে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে, আর এই পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতাগুলো হলো:

১ – পোপদের শাসনের ফলে ইউরোপে ধর্মীয় নেতাদের সাথে জনগণের কঠোর অভিজ্ঞতা।

২ – ইসলাম থেকে বিচ্যুত খিলাফতের সাথে মুসলিমদের কঠোর অভিজ্ঞতা, আর একে খিলাফত বলাতে কিছু শিথিলতা আছে এবং তা বাদশাহীর অধিক নিকটবর্তী।

কারণ খলিফাগণ, বিশেষ করে উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগে এবং তার পরবর্তী সময়ে, উম্মতের মধ্যে দুর্নীতি ও অত্যাচার চালিয়েছে। আর ইসলামী খিলাফত কেবল দুটি যুগ ছাড়া নির্মল ও পবিত্র ছিল বলে পরিচিত নয়: একটি হলো নবী (সা.)-এর যুগ এবং অন্যটি হলো আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর যুগ। আমি এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যতিক্রম জানি না। [16]আল ইমামুল খামেনীয় ওয়া রাওয়াহুল মা’আসিরাতু, ৭৫ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ … Continue reading

এটি আবু বকর আল-সিদ্দিক, উমর ইবনুল খাত্তাব ও উসমান ইবনে আফফান (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর খিলাফতের একটি সরাসরি, স্পষ্ট প্রত্যাখ্যান। আহলে সুন্নাত চার খলিফাকেই বৈধ ও বরকতময় শাসক হিসেবে গণ্য করেন। নবী (সা.) বলেছেন: “তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাত অনুসরণ করো।” আবু বকর, উমর ও উসমানকে বৈধতার গণ্ডি থেকে বাদ দেওয়া একটি মৌলিক রাফেজী/শিয়া অবস্থান যা সুন্নি পণ্ডিতদের দ্বারা বিদআতের একটি রূপ হিসেবে এবং সাহাবীদের অভিশাপ দেওয়ার প্রসঙ্গে একটি গুরুতর কুফর হিসেবে গণ্য।

খামেনেয়ী স্পষ্টভাবে বলেছে যে ইসলামী খিলাফত কেবল নবী (সা.) ও আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর সময়ই “নির্মল ও পবিত্র” ছিল এবং সে বলছে

“আর আমি এ ছাড়া অন্য কোনো ব্যতিক্রম জানি না।”

এটি আবু বকর, উমর ও উসমানের খিলাফতকে অসম্মানিত বা পরোক্ষভাবে বাতিল করার একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যা ও অন্যান্য আহলুস সুন্নাহর আলিম যারা প্রথম তিন খলিফার বৈধতা অস্বীকার করে, এই ধরনের অবস্থানকে একটি কেন্দ্রীয় রাফেজী বিচ্যুতি হিসেবে গণ্য করেন।

খামেইনী তিন খলিফার শাসনকালকে পরোক্ষভাবে দায়ী করে আরো লিখেছে:

إلا أن هذا النظام المقدس الذي شيد صرحه النبي وصحبه أخذ يدب فيه الانحراف بعد وفاته شيئاً فشيئا . حتى انتهى به الأمر بعد خمسين سنة إلى تلك الفاجعة المروعة والتي قتل فيها ابنه. الامام الحسين (ع)

কিন্তু এই পবিত্র ব্যবস্থা, যার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন নবী ও তাঁর সাহাবীগণ, তার ইন্তেকালের পর ধীরে ধীরে এতে বিচ্যুতি প্রবেশ করতে থাকে। এমনকি পঞ্চাশ বছর পরে এর পরিণতি ঘটে সেই ভয়াবহ মর্মান্তিক ঘটনায়, যাতে নিহত হন তাঁর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)। [17]আল ইমামুল খামেনেয়ী, আস সীরাহ ওয়াল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ২৬৫-২৬৬

খামেনেয়ীকে বলেছে যে, নবী ও তাঁর সাহাবীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত “পবিত্র ব্যবস্থা” তাঁর মৃত্যুর পর “ধীরে ধীরে” অবনতি শুরু করে এবং এর চূড়ান্ত পরিণতি হয় হুসাইনের হত্যাকাণ্ডে। এটি হলো শিয়া বর্ণনা যা পরোক্ষভাবে উম্মতের বিচ্যুতির জন্য সাহাবীদের দায়ী করে, যা সাহাবীদের ন্যায়পরায়ণতার সরাসরি বিরোধী।

মুরতাদ খামেইনী তিন খলিফাকে আক্রমণ করে আরো লিখেছে:

الانحرافات بدأت من هنا إلى أن بلغت عهد عثمان، حيث آلت الأوضاع في أواسط عهد الخليفة الثالث إلى حالة صار فيها كبار صحابة رسول الله أثرى الأثرياء في زمانهم. أي أن كبار الصحابة من ذوي الأسماء المعروفة – كطلحة والزبير وسعد بن أبي وقاص وأمثالهم – الذين كان لهم مفاخر، باتوا في رأسماليي الطراز الأول بحيث أن أحدهم لما مات وأرادوا تقسيم أمواله بين وارثيه اضطروا إلى كسر الذهب – الذي أذابه وحوله إلى سبائك -بالفؤوس

বিচ্যুতিগুলো এখান থেকে শুরু হয় এবং তা উসমানের যুগ পর্যন্ত পৌঁছায়, যখন তৃতীয় খলিফার শাসনামলের মধ্যভাগে পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বড় বড় সাহাবীগণ নিজ নিজ সময়ের সবচেয়ে বড় ধনীতে পরিণত হলেন। অর্থাৎ, বিশিষ্ট নামধারী বড় বড় সাহাবী—যেমন তালহা, যুবায়র, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং তাঁদের মতো অন্যজন—যাদের অনেক গৌরব ও মর্যাদা ছিল, তারা প্রথম শ্রেণীর পুঁজিপতিতে পরিণত হয়েছিলেন। এমনকি তাঁদের কেউ যখন মারা যান এবং তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করতে চাওয়া হলো, তখন তাঁকে কুড়াল দিয়ে সোনা ভাঙতে হলো—যে সোনা তিনি গলিয়ে ইট বানিয়েছিলেন। [18]আছ-ছাওরাতুল হুসাইনিয়্যাহ, খাস্বাইস্ব ওয়াল মুরতাকাযাত, ৪২-৪৩ পৃষ্ঠা, ২০০১ … Continue reading

এটি হলো জ্যেষ্ঠ সাহাবী যেমন যুবায়র ইবনুল আওয়াম, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং অন্যদের সততা ও ধার্মিকতার ওপর খামেনেয়ী এর আক্রমণ, যা ইঙ্গিত করে যে তাদের সম্পদ দুর্নীতির লক্ষণ ছিল। আহলে সুন্নাত এই সাহাবীদের — যাদের মধ্যে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনও অন্তর্ভুক্ত — সর্বোচ্চ সম্মানে অধিষ্ঠিত মনে করেন। নবী (সা.) তাদের সম্পর্কে বলেছেন: “সর্বোত্তম মানুষ আমার প্রজন্ম।” বৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদ প্রাথমিক মুসলমানদের দ্বারা দুর্নীতি হিসেবে বিবেচিত হত না।

খামেইনী লিখেছে:

إذا كانت المعايير إلهية جهادية، بعيدة عن الدنيا، كان المجتمع إسلامياً دينياً، فإذا ما تغيرت هذه المعايير وانقلبت رأساً على عقب وهم كل بدنياه وشهواته وملذاته ومنافعه الشخصية، أصبحت زعامة الأمة بيد أفراد كعمر بن سعد وشمر وعبيد الله بن زياد، في حين يذبحالحسين بن علي في كربلاء بتلك الطريقة.

যদি মানদণ্ডগুলো হয় ঐশী ও জিহাদমূলক, দুনিয়া থেকে দূরবর্তী, তাহলে সমাজ হয় ইসলামী ও ধার্মিক। আর যদি এই মানদণ্ডগুলো পরিবর্তিত হয় এবং সম্পূর্ণ উল্টে যায় এবং তারা সবাই নিজেদের দুনিয়া, কামনা-বাসনা, ভোগ-বিলাস ও ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে উম্মতের নেতৃত্ব চলে যায় উমর ইবনে সাদ, শিমর ও উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদের মতো ব্যক্তিদের হাতে, আর অপরদিকে হুসাইন ইবনে আলী (আ.)-কে কারবালায় সেভাবে জবাই করা হয়। [19]আল ইমামুল খামেনেয়ী, আস সীরাহ ওয়াল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ২৬৯

এই অনুচ্ছেদটি কারবালাকে ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠা করতে চায় যে শুধুমাত্র আলী ও হুসাইনই উম্মতের বৈধ নেতা। উমর ইবনে সাদকে শিমরের পাশাপাশি অবৈধ নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবে স্থাপন করা — এমন একটি বর্ণনার প্রেক্ষাপটে যেখানে সাহাবীদের উত্তরসূরিরা এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল — তা হলো অ-আলী বংশীয় উত্তরাধিকারের বৈধতার ওপর একটি অপ্রচ্ছন্ন আক্রমণ। এটি আবু বকর, উমর ও উসমানের খিলাফতের বৈধতা সম্পর্কিত অবস্থানের সরাসরি বিরোধী।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)এর  উপর আলী খামেনেয়ীর আক্রমণ

খামেইনী উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)এর ইজতিহাদকে আক্রমণ করে লিখেছে:

بدأ انزلاق الخواص المؤيدين للحق بعد وفاة الرسول و بست أو سبع أو ثمان سنوات. وحديثي هنا مع غض النظر عن مسألة الخلافة تماماً. فقضية الخلافة على حدة. بل أتحدث الآن حول هذا النهج بسبب ما يتصف به من خطورة والقضايا بأجمعها وقعت بعد وفاة الرسول بسبع سنوات. وبرزت أولى مؤشراتها في قولهم: لا يجوز أن يستوي ذوو السابقة في الإسلام – وهم أصحاب الرسول ومن شهد منهم حروبه – مع سائر الناس: هؤلاء يجب أن تكون لهم امتيازات فمنحت لهم امتيازات مالية من بيت المال

রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের ছয় বা সাত বা আট বছর পর সত্যের পক্ষসমর্থনকারী খাসদের (বিশিষ্ট ব্যক্তিদের) পিছলে যাওয়া শুরু হয়। খিলাফতের বিষয়টি থেকে সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে আমি এখানে কথা বলছি। খিলাফতের বিষয়টি স্বতন্ত্র। বরং আমি এখন এই পদ্ধতি নিয়ে কথা বলছি তার ভয়াবহতার কারণে এবং সমস্ত বিষয়ই রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকালের সাত বছর পর সংঘটিত হয়েছিল। এর প্রথম সূচনা দেখা যায় তাদের এই উক্তিতে: ইসলামে অগ্রগামী ব্যক্তিরা—যারা রাসুলের সাহাবী এবং তাঁর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন—তারা সাধারণ মানুষের সমান হতে পারে না। তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকা উচিত। ফলে তাদের বাইতুল মাল থেকে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলো। [20]আছ-ছাওরাতুল হুসাইনিয়্যাহ, খাস্বাইস্ব ওয়াল মুরতাকাযাত, ৪২ পৃষ্ঠা

এটি হলো উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নীতির ওপর একটি সরাসরি আক্রমণ, যিনি ইসলামে অগ্রগামিতার ভিত্তিতে একটি ক্রমোন্নত ভাতা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। সুন্নি পণ্ডিতগণ এটিকে একটি বৈধ ইজতিহাদ হিসেবে গণ্য করেন যা অধিকাংশ সাহাবী দ্বারা প্রশংসিত হয়েছিল। যিন্দিক খামেইনী এটিকে এখানে দুর্নীতি ও বিভ্রান্তির সূচনা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

খামেইনী সাহাবীর ইজতিহাদকে আক্রমণ করে লিখেছে:

القسم الأول: لم تكن لديه القابلية لحفظ النصوص وفهمها أو تطويع واقعه وفقاً لها ، فأخذ يعمل الرأي في كل قضية لا يستطيع أن يخضعها للنص أو لا يستطيع إخضاع فهمه وفقها، سواء كان ذلك ناتج عن ضعف قابلياته أم لإعطاء نفسه الصلاحية في الاجتهاد مقابل النص، وبالتالي أصبحت عملية الاجتهاد في تلك الحقبة متكلفة وطائشة ودون قواعد.

كقول أحدهم: « متعتان حلالتان على عهد رسول الله، وأنا محرمهما »،

প্রথম প্রকার: তাদের মধ্যে নস (কোরআন-হাদিসের মূল পাঠ) সংরক্ষণ ও বুঝার অথবা সেই অনুযায়ী নিজেদের বাস্তবতাকে সাজানোর ক্ষমতা ছিল না। ফলে তারা প্রতিটি বিষয়ে নিজস্ব মতামত প্রয়োগ করতে শুরু করলো, যে বিষয়কে তারা নস-এর অধীন করতে পারত না অথবা নিজেদের বুঝকে তার ফিকহ অনুযায়ী করতে পারত না। সেটা তাদের সক্ষমতার দুর্বলতার কারণে হোক বা নস-এর বিপরীতে ইজতিহাদের নিজস্ব কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার কারণে হোক। পরিণামে সেই যুগে ইজতিহাদের প্রক্রিয়াটি কষ্টসাধ্য, লক্ষ্যহীন ও নিয়মবিহীন হয়ে পড়েছিল। যেমন কারো উক্তি: “দুটি মজা (মুত’আ) রাসূলুল্লাহর যুগে হালাল ছিল, আমি সেগুলো হারাম করে দিচ্ছি।” [21]আল ইমামুল খামেনেয়ী, আল ওয়ালিয়ুল ফাক্বীহ, পৃষ্ঠা ২৪

 

এটি হলো সায়্যিদুনা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ওপর একটি সরাসরি আক্রমণ, যিনি সর্বাধিক সম্মানিত সাহাবী ও ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা। তাঁর ইজতিহাদকে “কষ্টসাধ্য, লক্ষ্যহীন ও নিয়মবিহীন” হিসেবে উল্লেখ করা আহলে সুন্নাতের কাছে আপত্তিকর, যা মুলহিদ ও যিন্দিক খামেইনী করেছে।

আলী খামেনেয়ী রাফেযী এর দাবি ১৪০০ বছরের ইতিহাসে একটিও কুরআন ভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র গঠিত হয়নি:

إن بإمكانكم أن تلاحظوا أنه بعد عام ٤١ للهجرة – أي عام صلح الإمام الحسن المجتبى وحتى زمن تشكيل نظام الجمهورية الإسلامية، لم تقم ذات يوم حكومة على أساس القرآن يرأسها شخص عادل ، فهل هذا مزاح؟ أي أن الإمام الصادق والإمام الباقر والإمام موسى بن جعفر والأئمة بعد وقوع حادثة عاشوراء – وطبقاً لما يفهمه المرء من مجموع حياتهم – كانوا يسعون جميعاً لإقامة حكومة إسلامية في مرحلة قريبة من زمانهم، سواء أكان ذلك بشكل مباشر أو غير مباشر

নিশ্চয়ই তোমরা লক্ষ্য করতে পারো যে, ৪১ হিজরির পরে – অর্থাৎ ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)-এর সন্ধির বছর থেকে শুরু করে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থা গঠনের সময় পর্যন্ত, কোনো দিন কোরআনের ভিত্তিতে এমন কোনো সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি যার নেতৃত্বে ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। এটা কি ঠাট্টা? অর্থাৎ, ইমাম সাদিক, ইমাম বাকির, ইমাম মূসা ইবনে জাফর এবং আশুরার ঘটনার পরবর্তী ইমামগণ – তাদের সমগ্র জীবন থেকে একজন যা বুঝতে পারেন তা হলো – তারা সকলেই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তাদের সময়ের কাছাকাছি কোনো এক পর্যায়ে একটি ইসলামী সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিলেন।[22]আল জাওযাতু উলামাউদ দীন আলা দ্বওয়ি ইরশাদাতি সামাহাতিল ক্বায়িদ, ১ম খণ্ড, … Continue reading

যিন্দিক খামেনেয়ীর সাহাবাদের বিরুদ্ধে আনীত সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলির মধ্যে এটি একটি। এই বিবৃতিটি পরোক্ষভাবে খুলাফায়ে রাশেদিন (আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী) এবং পরবর্তী সমস্ত সুন্নি খিলাফতকে কুরআনিক ও ন্যায়পরায়ণ সরকার হিসেবে বৈধতা অস্বীকার করে। আহলুস সুন্নাহ বিশেষ করে আবু বকর ও উমরের খিলাফতকে ন্যায়পরায়ণ ইসলামী শাসনের স্বর্ণমান হিসেবে বিবেচনা করে, যার প্রশংসা স্বয়ং নবী ﷺ করেছেন। ৪১ হিজরি সালটি ইচ্ছাকৃতভাবে এই খিলাফতগুলোকে বাদ দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল, যা রাফেজি মতাদর্শের একটি বৈশিষ্ট্য, যা প্রথম তিন খলিফার বৈধতা স্বীকার করে না।

রাফেযী আলী খামেনেয়ীর দ্বারা আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা এর অসুস্থতা ও অসিয়তকে তিরস্কার

খামেনেয়ী খলিফাদের আক্রমণ করতে ছলচাতুরি করে লিখেছে:

وبانتقال رسول الله إلى جوار ربه أخذت قواعد هذه الشريعة تفك عن واقع الحياة قاعدة قاعدة حتى لم يبق منها إلا الشكل فسقط هذا الشكل بسقوط دولة الخلافة العثمانية ولا بد من التأكيد بأن الإمام علي قد طبق الشريعة خلال عهده الشريف تطبيقاً كاملاً

আর রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন তার রবের সান্নিধ্যে চলে গেলেন, তখন এই শরীয়তের ভিত্তিগুলো ধীরে ধীরে জীবনের বাস্তবতা থেকে খুলে যেতে শুরু করল, একে একে, পরিশেষে এর থেকে কেবল আকারটুকু অবশিষ্ট রইল। অতঃপর এই আকারটিও উসমানীয় খিলাফত রাষ্ট্রের পতনের সাথে সাথে ধ্বংস হয়ে গেল। আর এটা জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন যে, নিশ্চয়ই ইমাম আলী (আ.) তার সম্মানিত শাসনামলে শরীয়তকে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করেছিলেন।[23]ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, ২৪৩ পৃষ্ঠা

আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করে যে আবু বকরের খিলাফত বৈধ ছিল, যা শুরা (পরামর্শ) ও বাইয়াতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং সাহাবীগণ (রা.) সঠিক কাজ করেছিলেন। খামেইনি ইঙ্গিত করছে যে প্রথম খিলাফত নিজেই ঐশী আইন থেকে একটি বিচ্যুতি ছিল এবং খিলাফতের সমগ্র ইতিহাস ছিল শরীয়ত পরিত্যাগের ইতিহাস। নাউযুবিল্লাহ।

খামেনী আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কে তিরষ্কার করে লিখেছে:

إرتفعت الأصوات، وسمعت النسوة من وراء الستر ما قاله الطرفان، فقالت النسوة «ألا تسمعون رسول الله !! قربوا يكتب لكم كتاباً فصاح بهن عمر وهو جالس بحضرة الرسول قائلاً: «إنكن صويحبات يوسف . . . . .

শোরগোল বেড়ে গেল। পর্দার আড়াল থেকে মহিলারা উভয় পক্ষের কথাবার্তা শুনতে পেলেন। তখন মহিলারা বললেন: তোমরা কি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কথা শুনছ না? কাছে এসো, তিনি তোমাদের জন্য একটি কিতাব লিখে দেবেন। তখন উমর, যিনি রাসূলের সামনে বসা ছিলেন, তাদের (মহিলাদের) উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বললেন: তোমরা তো ইউসুফের সঙ্গী-সাথিনীদের মতো।[24]ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৪ পৃষ্ঠা

অতপর খামেনেয়ী খলিফাদের তিরষ্কার করে ঠাট্টার ভঙ্গিমায় লিখেছে:

مرض الخليفة الأول واشتد به الوجع وأراد أن يكتب وصيته وتوجيهاته النهائية فقال : اكتبوا إني قد ولّيتُ عليكم … ثم أغمي، وانتظروه حتى فاق من غيبوبته فأكمل الجملة، وكان عمر وأصحابه موجودين فلم يقل أي واحد إن المرض قد اشتد بالخليفة، أو حسبنا كتاب الله ، أو أن الخليفة قد هجر، مع أن المرض قد اشتد به أكثر مما اشتد المرض برسول الله .

ومرض الخليفة الثاني واشتد به المرض، ومع هذا كتب وصيته وأصدر توجيهاته النهائية، ومع هذا لم يقل له أحد أن المرض قد اشتد به أو حسبنا كتاب الله لقد نفذت الوصيتان كأنهما وحي من الله !!

প্রথম খলিফা অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তার ব্যথা তীব্র হয়ে উঠল। তিনি তার ওসিয়ত ও চূড়ান্ত নির্দেশনা লিখতে চাইলেন। তিনি বললেন: লিখো, আমি তোমাদের উপর অমুককে শাসক নিযুক্ত করছি… তারপর তিনি অচেতন হয়ে পড়লেন। তারা অপেক্ষা করলো যতক্ষণ না তিনি জ্ঞান ফিরে পান এবং বাক্যটি সম্পূর্ণ করেন। তখন উমর এবং তার সঙ্গীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের কেউ বলল না যে, খলিফার রোগ তীব্র হয়েছে, অথবা আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব যথেষ্ট, অথবা খলিফা বক বক করছেন (হাজার), অথচ তার রোগ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর রোগের চেয়েও বেশি তীব্র হয়েছিল।

আর দ্বিতীয় খলিফা অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তার রোগ তীব্র হয়ে গেল। এরপরও তিনি তার ওসিয়ত লিখলেন এবং চূড়ান্ত নির্দেশনা জারি করলেন। এরপরও কেউ তাকে বলেনি যে তার রোগ তীব্র হয়েছে অথবা আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাব যথেষ্ট। কেননা, দুটো ওসিয়তই কার্যকর করা হলো যেন সেগুলো আল্লাহর ওহী!![25]ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৬ পৃষ্ঠা

তাগুত আলী খামেইনী সাহাবীদের ওপর একটি সূক্ষ্ম ও বিদ্রূপাত্মক তুলনামূলক আক্রমণ করছে এই ইঙ্গিত করে যে, যখন আবু বকর ও উমর অসুস্থ ছিলেন, তখন কেউ তাদের ওসিয়ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করে যে এই ঘটনাটি (যা “কিরতাস” ঘটনা নামে পরিচিত) সাহাবীদের কোনো ভুল প্রমাণ করে না। ইমাম নববী এবং অন্যান্য পণ্ডিত ব্যাখ্যা করেছেন যে সাহাবীরা প্রকৃত উদ্বেগ থেকে কাজ করেছিলেন এবং নবী (সা.) নিজেই শেষ পর্যন্ত না লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। উমর (রা.) হলেন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজনের একজন এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। খামেনী তাঁকে নবী (সা.)-এর বিরোধিতাকারী ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে বদনাম করছে। নাউযুবিল্লাহ।

খামেনী লিখেছে:

فمن البديهي أن البناء الذي بناه الرسول ما كان لينهار بهذه السهولة. ولهذا نلاحظ أن من بعد رحيله، استمرت عامة الأمور -باستثناء قضية الوصية – على ما كانت عليه. فكانت العدالة في وضع حسن، والذكر في حالة حسنة، والعبادة على ما يرام.

সুতরাং এটা স্বাভাবিক যে, রাসুল (সা.) যে কাঠামো নির্মাণ করেছিলেন তা এত সহজে ধ্বংস হওয়ার ছিল না। আর এ কারণেই আমরা লক্ষ্য করি যে, তাঁর বিদায়ের পর, অছিয়তের বিষয়টি ব্যতীত—সাধারণ বিষয়গুলো আগের মতোই চলতে থাকে। তখন ন্যায়বিচার ভালো অবস্থায় ছিল, আল্লাহর স্মরণ (যিকর) ভালো অবস্থায় ছিল এবং ইবাদত-বন্দেগীও ঠিকঠাক ছিল।[26]আছ-ছাওরাতুল হুসাইনিয়্যাহ, খাস্বাইস্ব ওয়াল মুরতাকাযাত, ১৫ পৃষ্ঠা

এই চরিত্রায়ণ যে ইসলামী উম্মত নবী (সা.)-এর মৃত্যুর পরপরই অবনতি শুরু করেছিল (উত্তরাধিকারের বিষয়টি ব্যতীত) তা সরাসরি সুন্নি অবস্থানের বিপরীত, যা ধারণা করে যে আবু বকর, উমর, উসমান ও আলীর যুগ (হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাগণ) ছিল ইসলামের স্বর্ণযুগ, যা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাত অনুসরণ করো।”

রাফেযী আলী খামেনেয়ী জৈষ্ঠ্য সাহাবী আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর খিলাফতের বিরুদ্ধে লিখেছে:

وفي ذلك اليوم الذي اجتمع فيه المسلمون على شخص غير علي السلام ليسلموه الأمرة والخلافة حيث اتبع جمع الناس مجموعة صغيرة انسلخت لتبايع غير علي السلام ، وعلي الذي كان يرى ويعلم بأن الخلافة من حقه وهو اللائق بها، وكان يستطيع إن أراد أن يواجه أولئك ويقوم بدعوة الناس وتحريضهم

ولكنه السلام رفض ذلك فهذا مخالف لما يؤمن به ويتعارض مع تكليفه والتزامه. وأدى هذا الرفض به إلى أن يتأخر باستلام الخلافة ١٢ عاماً أخرى،

আর সেই দিনে যখন মুসলিমগণ আলী (আ.) ছাড়া অন্য এক ব্যক্তির ওপর একমত হয়ে তাকে নেতৃত্ব ও খিলাফত অর্পণ করল। যেখানে জনতার একটি দল একটি ছোট দলের অনুসরণ করল যা আলী (আ.) ছাড়া অন্য কারো কাছে বাইয়াতের জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। অথচ আলী (আ.) দেখছিলেন এবং জানতেন যে খিলাফত তারই অধিকার এবং তিনিই এর জন্য উপযুক্ত। তিনি চাইলে তাদের মুখোমুখি হতে পারতেন এবং লোকদেরকে আহ্বান ও উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন।

কিন্তু তিনি (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন। কারণ এটি তার বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং তার দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। আর এই প্রত্যাখ্যানের ফলে তাকে আরও বারো বছর খিলাফত গ্রহণে বিলম্ব করতে হলো।[27]আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৩

এটি আহলুস সুন্নাহর সাথে সবচেয়ে গুরুতর বিরোধের একটি। আহলুস সুন্নাহর ঐকমত্য, যা ইজমা দ্বারা সমর্থিত, এই যে আবু বকর (রা.)-এর প্রতি বাইয়াত বৈধ ছিল এবং আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) নিজেও কিছু সময় পর তার বাইয়াত প্রদান করেন এবং আবু বকর, উমর ও উসমানের খিলাফত মেনে নেন। এটাকে দখলদারিত্ব বলা সাহাবীদের অপবাদ দেওয়া এবং এটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যাত।

খামেনেয়ী লিখেছে:

وإن الولاية السياسية التي هي حق له قد أخذت منه

আর নিশ্চয়ই রাজনৈতিক কর্তৃত্ব, যা তার অধিকার, তা তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।[28]আল ফিকরুস সিয়াসী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী ১০৭ পৃষ্ঠা

খামেনেয়ী দাবি করছে যে সাইয়্যেদুনা আলীর রাজনৈতিক অধিকার দখল করা হয়েছিল। এটি হলো একটি রাফেজী দাবি যে আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.) আলীর বৈধ কর্তৃত্ব দখল করেছিলেন। এটি নবী করীম (সা.)-এর শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের বিরুদ্ধে সরাসরি অপবাদ। আহলে সুন্নাত সর্বসম্মতভাবে আবু বকর, উমর ও উসমানকে বৈধ ও ন্যায়পরায়ণ খলিফা হিসেবে গণ্য করে।

আলী খামেনেয়ী লিখেছে,

انظروا اليوم الى العالم الاسلامي والى بعض البلدان الاسلامية ولاحظوا من يحكمها من فساق وفجار وهكذا في بقية الأماكن ومن هنا تقولون في زيارة عاشوراء «اللهم العن أول ظالم ظلم حق محمد وآل محمد»

আজ ইসলামী বিশ্ব এবং কিছু ইসলামী দেশের দিকে তাকান এবং লক্ষ্য করুন কে তাদের শাসন করছে, দুশ্চরিত্র ও পাপীদের মধ্যে থেকে, এবং এভাবেই অন্যান্য স্থানেও। আর এখান থেকে তোমরা জিয়ারাতে আশুরায় বলো: “হে আল্লাহ! প্রথম অত্যাচারীকে অভিশাপ দিন, যে মুহাম্মদ ও মুহাম্মদের বংশধরের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।”[29]আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, ১৩৬ পৃষ্ঠা

“জিয়ারাতে আশুরা” একটি সুপরিচিত শিয়া প্রার্থনা যা “আওয়ালু জালিম” (প্রথম অত্যাচারী) শব্দটির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রথম তিন খলিফা ও নবী (ﷺ)-এর সাহাবীদের উপর ব্যাপক অভিশাপ (লান) ধারণ করে। আহলে সুন্নাত আবু বকর, উমর ও উসমান (রা.)-কে সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত মনে করেন। কোরআন সাহাবীদের প্রশংসা করে (যেমন সূরা ফাতহ ৪৮:২৯, সূরা তাওবা ৯:১০০)।

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবী উমর ইবনুল খাত্তাব এর উপর আলী খামেনেয়ীর শাসনক্ষমতা চুরির ও ফাতিমা (রাঃ) এর ঘর জালানোর অভিযোগ

রাফেযী মুরতাদ আলী খামেনী লিখেছে:

نعم لقد ادى واجبه تجاه النبي الله من التجهيز والتغسيل والتدفين لكن الآخرين وللأسف الشديد استغلوا انشغاله فقاموا بالاستيلاء على الخلافة وسرقتها ومنعوا حقه منها وقد كان لذلك العمل الجبان اثاراً سلبية ستبقى في سجل التاريخ ما بقي الليل والنهار . وفي هذا المجال ننقل هذا المقطع من احدى خطب نهج البلاغة قال : …. حتى اذا قبض الله رسوله الله

হ্যাঁ, সে (আলী) নবী (সা.)-এর কাফন-দাফন ও গোসল দেওয়ার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছিল। কিন্তু অপরপক্ষ, দুর্ভাগ্যবশত, তার ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে খিলাফত দখল করে নেয় এবং তা চুরি করে, আর তা থেকে তার প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেয়। সেই কাপুরুষোচিত কাজের নেতিবাচক প্রভাব ইতিহাসের পাতায় চিরকাল জাগরুক থাকবে যতদিন রাত-দিন বিরাজমান। এই প্রসঙ্গে আমরা নাহজুল বালাগার একটি খুতবা থেকে একটি অংশ উদ্ধৃত করছি, যেখানে তিনি (আলী) বলেছেন: অবশেষে যখন আল্লাহ তাঁর রাসুলকে (সা.) তুলে নিলেন[30]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৫৪

আলী খামেনী বলছে যে সাহাবীগণ “নবী (সা.)-এর দাফনের কাজে আলীর ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে খিলাফত দখল ও চুরি করে এবং তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।”

এটি আবু বকর ও উমর (রা.)-সহ জ্যেষ্ঠ সাহাবীদের সরাসরি অপমান করে, তাদের চুরি ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এটি সাহাবীদের সততা (আদালা)-তে আক্রমণের শামিল যা মুরতাদ ছিচকে রাফেযী খামেইনী করেছে।

খামেইনী লিখেছে:

فقال رسول الله ﷺ : انصرفوا ، فان تك لي حاجة ابعث اليكم ، فانصرفوا ، وظل بيت النبي الله على هذه الحالة من عدم الاستقرار حتى حانت وفاته وعندما غلب الوجع على النبي الله ذهب عمر الى معسكر جيش اسامة في خارج المدينة المنورة وطلب من ابي بكر ترك جيش اسامة والعودة الى المدينة ويكون عمر بعمله هذا قد خالف أوامر ووصايا الرسول ﷺ في تجهيز جيش اسامة ولم يكتف بذلك بل كان له الدور الفاعل في وضع الخطة السياسية لنشاط قريش في المدينة في بداية رحلته الله الى الرفيق الأعلى ، وقد اشار النبي ﷺ في أواخر ايام حياته الى الفتن والاضطرابات التي ستثيرها مجموعة من الخواص في المدينة ، وما أن توفي النبي الله وعرجت روحه الطاهرة الى الرفيق الاعلى بدأت المرحلة الفعلية لتنفيذ تلك المؤامرات التي حيكت خلف الستار ضد اهل البيت الله فبينما كان الهاشميون وجمع كثير من المؤمنين جالسين حول الجثمان الطاهر للنبي الله ، ذهب عمر وابو عبيدة الجراح الى المسجد لغرض الاتفاق حول موضوع الخلافة فاقترح عمر على ابي عبيدة ان يكون الخليفة بعد النبي ﷺ أبو بكر لأنه يحمل كثير من الصفات التي تؤهله لهذا المنصب

রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: তোমরা ফিরে যাও, যদি আমার কোনো প্রয়োজন হয় আমি তোমাদের ডেকে পাঠাব। তখন তারা ফিরে গেল এবং নবীর ঘর এভাবে অস্থির অবস্থায় রইল তার মৃত্যুর সময় পর্যন্ত। যখন নবী (সা.)-এর ব্যথা তীব্র হয়ে উঠল, তখন উমর মদিনার বাইরে উসামার সেনাছাউনীতে গেলেন এবং আবু বকরকে উসামার সেনাবাহিনী ছেড়ে মদিনায় ফিরে আসতে বললেন। উমর তার এই কাজের মাধ্যমে উসামার সেনাবাহিনী প্রস্তুত করার ব্যাপারে রাসূল (সা.)-এর আদেশ ও নির্দেশ লঙ্ঘন করলেন। শুধু তা-ই নয়, বরং রাসূল (সা.)-এর বিদায়কালীন সময়ে কুরাইশদের মদিনায় কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। নবী (সা.) তার জীবনের শেষ দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন সেই ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার দিকে যা কিছু বিশেষ ব্যক্তি মদিনায় সৃষ্টি করবে। নবী (সা.) ইন্তেকাল করলে এবং তার পবিত্র রুহ পবিত্রতম বন্ধুর কাছে আরোহণ করলে, পর্দার আড়ালে আহলে বাইতের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল তার বাস্তবায়ন পর্যায় শুরু হলো। যখন হাশেমীগণ এবং অনেক মুমিন নবী (সা.)-এর পবিত্র দেহের চারপাশে বসেছিল, তখন উমর এবং আবু উবাইদা জাররাহ মসজিদে গেলেন খিলাফতের বিষয়ে চুক্তি করার উদ্দেশ্যে। উমর আবু উবাইদাকে প্রস্তাব করলেন যে নবী (সা.)-এর পর আবু বকর খলিফা হোন, কারণ তার মধ্যে অনেক গুণাবলী রয়েছে যা তাকে এই পদের জন্য যোগ্য করে তোলে। [31]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, {পৃষ্ঠা ৫৪}

বইটি স্পষ্টভাবে আবু বকরের বাইয়াতকে (আনুগত্যের শপথ) একটি প্রতারণামূলক ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেছে, একে বলেছে: «আল-বাই’আতুল মুযাইফাহ» (প্রতারকী বাইয়াত)

এতে বলা হয়েছে যে, আবু বকর, উমর এবং আবু উবাইদাহ নবীর দাফন সম্পন্ন হওয়ার আগেই খিলাফত নিয়ে ষড়যন্ত্র করতে গিয়েছিলেন এবং আহলে বাইতকে সমর্থনকারী আনসার ও মুহাজিরগণ নবীর দাফনের কাজে ব্যস্ত থাকায় সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন।

আহলে সুন্নাত সাহাবীদের আবু বকরের প্রতি বাইয়াতকে বৈধ শুরা (পরামর্শ) হিসেবে গণ্য করেন। নবী (সা.) নিজেই আবু বকরের প্রশংসা করেছেন। আবু বকরের প্রতি সাহাবীদের ঐকমত্য (ইজমা) প্রামাণ্য। এটিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করা সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যাত, যা রাফেযী খামেইনীর চাল।

অতঃপর সে এরপর লিখেছে:

فانصرفوا ، وظل بيت النبي الله على هذه الحالة من عدم الاستقرار حتى حانت وفاته وعندما غلب الوجع على النبي الله ذهب عمر الى معسكر جيش اسامة في خارج المدينة المنورة وطلب من ابي بكر ترك جيش اسامة والعودة الى المدينة ويكون عمر بعمله هذا قد خالف أوامر ووصايا الرسول ﷺ في تجهيز جيش اسامة ولم يكتف بذلك بل كان له الدور الفاعل في وضع الخطة السياسية لنشاط قريش في المدينة في بداية رحلته الله الى الرفيق الأعلى ، وقد اشار النبي ﷺ في أواخر ايام حياته الى الفتن والاضطرابات التي ستثيرها مجموعة من الخواص في المدينة

তারপর তারা ফিরে গেল এবং নবী (সা.)-এর ঘর এভাবে অস্থির অবস্থায় রইল তার মৃত্যুর সময় পর্যন্ত। যখন নবী (সা.)-এর ব্যথা তীব্র হয়ে উঠল, তখন উমর মদিনার বাইরে উসামার সেনাছাউনীতে গেলেন এবং আবু বকরকে উসামার সেনাবাহিনী ছেড়ে মদিনায় ফিরে আসতে বললেন। উমর তার এই কাজের মাধ্যমে উসামার সেনাবাহিনী প্রস্তুত করার ব্যাপারে রাসূল (সা.)-এর আদেশ ও নির্দেশ লঙ্ঘন করলেন। শুধু তা-ই নয়, বরং রাসূল (সা.)-এর বিদায়কালীন সময়ে কুরাইশদের মদিনায় কর্মকাণ্ডের রাজনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়নে তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। নবী (সা.) তার জীবনের শেষ দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন সেই ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার দিকে যা কিছু বিশেষ ব্যক্তি মদিনায় সৃষ্টি করবে। [32]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, {পৃষ্ঠা ৫৪}

খামেইনী ইঙ্গিত করছে যে উমর ইবনুল খাত্তাব:

  • নবী (সা.)-এর উসামার সেনাবাহিনী প্রেরণের আদেশ লঙ্ঘন করেছিলেন
  • নবী (সা.)-এর মৃত্যুর সময়ে মদিনায় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন
  • নবী (সা.) মৃত্যুশয্যায় থাকাকালে খিলাফতের উত্তরাধিকার পরিকল্পনা করার জন্য আবু বকরের কাছে গিয়েছিলেন

উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হলেন দ্বিতীয় হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা, যাঁর নবী (সা.) ব্যাপকভাবে প্রশংসা করেছেন। নবী (সা.)-এর শেষ অসুস্থতার সময় তাঁকে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা সর্বোচ্চ মর্যাদার একজন সাহাবীর বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপবাদ।

খামেইনী (লানাতুল্লাহ আলাইহ) উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর উপর আরো জঘন্য মিথ্যাচার করে লিখেছে:

فكيف يسمح لنفسه ان يقف بباب دار علي وينادي : ( والذي نفس عمر بيده ليخرجن أو لا حرقته على ما فيه فقيل لعمر : ان في الدار فاطمة بنت رسول الله ﷺ.

সে কীভাবে নিজেকে অনুমতি দেয় যে, আলীর দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকবে: “সেই সত্তার কসম, যার হাতে উমরের প্রাণ, তোমাকে বের হতেই হবে অন্যথায় আমি এর মধ্যে যারা আছে তাদের সহ এটি জ্বালিয়ে দেব।” তখন উমরকে বলা হল: ঘরে তো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কন্যা ফাতিমা রয়েছেন।[33]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৫৪

উমর ফাতিমার ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং দরজা লাথি মেরে ভেঙে ফেলেছিলেন এই দাবিটি একটি রাফেযী বর্ণনা যা:

আহলুস সুন্নাহ এর মুহাদ্দিস এবং ইতিহাসবিদ দ্বারা সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যাত। এই কাহিনীর বর্ণনাসূত্রগুলি হয় দুর্বল, জাল, অথবা সম্পূর্ণরূপে শিয়া সূত্র থেকে আগত। আহলুস সুন্নাহ এটিকে উমর (রা.)-কে বদনাম করার জন্য রচিত একটি রাফেযী কল্পকাহিনী বলে গণ্য করেন।

খামেইনী রাফেযী তার নাপাক জবানে লিখেছে:

الشورى التي منحت الحق الى غير أهله قام عمر بن الخطاب قبل وفاته بتعيين ستة من الصحابة سماهم اصحاب الشورى وهم : علي ، عثمان ، سعد بن ابي وقاص ، الزبير ، طلحة بن عبد الله ، وعبد الرحمن بن عوف وقد وضع عمر لهذه المجموعة ضوابط صارمة الزم الجميع التقيد بها ومن جملة تلك الضوابط هي : ان يكون عبد الرحمن بن عوف رئيساً لهذه الشورى وان تجتمع في مكان معين بحراسة خمسين نفراً من الانصار ويقومون بانتخاب واحد من بينهم ولو فرضنا قام خمسة منهم بانتخاب واحد وقام الشخص السادس بمخالفة ذلك فستكون عقوبته القتل ، واذا اصبحوا ثلاثة مقابل اثنان فلا بد من قتل الاثنين ، واذا اصبحوا ثلاثة مقابل ثلاثة فيجب عليهم الخضوع الى تحكيم عبد الله بن عمر وفي حالة عدم الاتفاق على رأيه تكون المجموعة التي فيها عبد الرحمن بن عوف هي الغالبة ويكون حكم المجموعة المقابلة لمجموعة عبد الرحمن القتل المحقق ، وبهذه الطريقة استطاع عمر ان يوحي للجميع بان الخلافة لا بد ان تكون لعثمان ، وفي تحليل لعلي المسرحية الشورى التي وضعها عمر قال لابن عباس : أولا تعلم ان عبد الرحمن ابن عم سعد بن ابي وقاص وان عثمان صهر عبد الرحمن ؟ قال بلى قال : فان عمر قد علم ان سعد وعبد الرحمن وعثمان لا يختلفون في الرأي ، وانه من بويع منهم كان الاثنان معه ،

যে শুরা অযোগ্য ব্যক্তিকে অধিকার দান করেছিল, তা হলো উমর ইবনুল খাত্তাব তার মৃত্যুর পূর্বে ছয়জন সাহাবীকে মনোনীত করেছিলেন, যাদের তিনি শুরার সদস্য নামে অভিহিত করেন। তারা হলেন: আলী, উসমান, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, যুবায়র, তালহা ইবনে আবদুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফ। উমর এই দলের জন্য কঠোর বিধান নির্ধারণ করেছিলেন যা সবাইকে মেনে চলতে বাধ্য করেছিলেন। সেই বিধানগুলোর মধ্যে ছিল: আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এই শুরার সভাপতি হবেন, তারা একটি নির্দিষ্ট স্থানে পঞ্চাশ জন আনসারের প্রহরায় একত্রিত হবেন এবং নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করবেন। আর যদি ধরে নেওয়া হয় যে তাদের মধ্যে পাঁচজন একজনকে নির্বাচন করল এবং ষষ্ঠজন তার বিরোধিতা করল, তাহলে তার শাস্তি হবে হত্যা। আর যখন তারা তিনজন বনাম দুইজন হয়ে যায়, তখন দুইজনকে হত্যা করা আবশ্যক। আর যখন তারা তিনজন বনাম তিনজন হয়ে যায়, তখন তাদের আবদুল্লাহ ইবনে উমরের মধ্যস্থতা মেনে নিতে হবে। আর যদি তার মতের ওপর একমত না হয়, তাহলে যে দলে আব্দুর রহমান ইবনে আউফ আছে, সেই দল বিজয়ী হবে এবং আব্দুর রহমানের দলের বিপরীত দলের জন্য নির্ধারিত হবে নিশ্চিত মৃত্যুদণ্ড। আর এই পদ্ধতিতে উমর সকলকে এই মর্মে ধারণা দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন যে খিলাফত অবশ্যই উসমানের জন্য নির্ধারিত। আর উমর কর্তৃক প্রণীত শুরা নাটকীয়তার বিশ্লেষণে আলী ইবনে আব্বাসকে বললেন: তুমি কি জান না যে আব্দুর রহমান সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাসের চাচাতো ভাই এবং উসমান আব্দুর রহমানের জামাতা? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই উমর জানতেন যে সাদ, আব্দুর রহমান ও উসমান মতের দিক থেকে পৃথক হবে না এবং তাদের মধ্যে যারই বাইয়াত হোক, অন্য দুজন তার সাথে থাকবে।[34]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬০

সাহাবী আব্দুর রহমান ইবন আওফ এর উপর খামেনেয়ীর আক্রমণ

 

খামেনেয়ী  সাহাবী আব্দুর রহমান ইবন আওফ কে জঘন্যভাবে চিত্রায়িত করে লিখেছে:

وفي مقابل تلك الفضائل التي ذكرها وذكرهم بها الامام الله لم يستطع عبد الرحمن ان يعترض بشكل علني فالتجأ الى المكر والخداع لانه كان يعلم أفضلية الامام ومنزلته من رسول الله ﷺ ،

আর ইমাম (আ.) যে সমস্ত গুণাবলি উল্লেখ করেছিলেন এবং তাদেরকে সেগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন, তার বিপরীতে আব্দুর রহমান প্রকাশ্যে আপত্তি জানাতে সক্ষম হল না। তাই সে প্রতারণা ও ধোঁকাবাজির আশ্রয় নিল। কারণ সে ইমামের শ্রেষ্ঠত্ব এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট তার মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিল। [35]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৩

উমরের শুরাকে আলীকে বঞ্চিত করার জন্য একটি কারচুপির পরিকল্পনা হিসেবে বর্ণনা করে খামেইনী উমরের ছয় সদস্যের শুরা পরিষদকে একটি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি ফাঁদ হিসেবে উপস্থাপন করেছে যা আলী (আ.)-কে বাদ দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, এবং এতে বলা হয়েছে যে উমর: “উমর এটা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছিল যে বিষয়টি (খিলাফত) আলী পর্যন্ত না পৌঁছায়।”

এবং এটি আব্দুর রহমান ইবনে আউফকে আলীর খিলাফত আটকানোর জন্য “প্রতারনা ও ধোঁকাবাজি” (আল-মাকরু ওয়াল-খিদা’) অবলম্বন করার বর্ণনা দিয়েছে এবং ‘সিরাত আশ-শায়খাইন’ (আবু বকর ও উমরের পদ্ধতি) কে শর্ত বানানোকে এভাবে চিত্রিত করেছে:

“সে সত্যের বিরুদ্ধে তার অন্তরে জমা থাকা শেষ বিদ্বেষটি উগরে দিল।”

শুরা ছিল একটি বৈধ ইসলামী পরামর্শমূলক প্রক্রিয়া। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) হলেন প্রমাণিত সততার অধিকারী একজন জ্যেষ্ঠ সাহাবী। তাঁকে সত্যের প্রতি “বিদ্বেষ” (হিকদ) থেকে কাজ করা হিসেবে বর্ণনা করা একজন সাহাবীর জন্য একটি গুরুতর অপমান। আবু বকর ও উমরের সুন্নাত মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা নিজেই আহলে সুন্নাতের নিকট প্রশংসনীয় বলে বিবেচিত, কারণ তাদের সুন্নাত নবীর সুন্নাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

 

উম্মাহাতুল মুমিনীন ও উম্মুল মুমিমীন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)এর উপর আলী খামেনীর আক্রমণ

খামেইনী উম্মুল মুমিমীন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সমন্ধে লিখেছে:

فقد كانوا على علم بنواياهم الباطلة وعطشهم للرئاسة والزعامة الجاهلية والرعب من عدالة أمير المؤمنين كل ذلك دفعهم وراء زوجة رسول الله الله المخدوعة للتوجه الى البصرة

আর নিশ্চয়ই তারা তাদের বাতিল উদ্দেশ্য, জাহিলিয়াতের নেতৃত্ব ও প্রধান্য পিপাসা এবং আমিরুল মুমিনিনের ন্যায়বিচারের ভয় সম্পর্কে অবগত ছিল। এই সবকিছুই তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতারিত স্ত্রীর পিছনে বসরার দিকে ধাবিত করেছিল।[36]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৮

আলী খামেনী এখানে আয়েশা, উম্মুল মুমিনিন (মুমিনদের মাতা), তাঁকে “প্রতারিত” এবং পথভ্রষ্ট হিসেবে বর্ণনা করেছে। যদিও আহলুস একমত যে জামালের যুদ্ধে আয়েশা (রা.)-এর ইজতিহাদ একটি ভুল ছিল, তবুও আহলুস সুন্নাহ তাঁকে নবী করীম (সা.)-এর সর্বাধিক প্রিয়তমা স্ত্রী, উম্মুল মুমিনিন এবং হাদিসের একজন প্রধান বর্ণনাকারী হিসেবে সর্বোচ্চ সম্মানের সাথে স্মরণ করেন। তাঁকে এই অবমাননাকর পদ্ধতিতে উল্লেখ করা তাঁর প্রতি আবশ্যকীয় শ্রদ্ধার পরিপন্থী যা মুরতাদ খামেইনী নোংরা জবানে উচ্চারণ করেছে।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর সম্মানকে নীচু করতে খামেইনী লিখেছে:

وقد تنبأ رسول الله ﷺ بهذه الاحداث قبل وفاته عندما كان جالساً يوم من الايام في البيت مع عائشة وبحضور بعض ازواجه فقال : «كأني باحداكن قد نبحها كلاب الحوأب» ثم نظر الى عائشة وقال لها : «وإياك ان تكوني أنت يا حميراء» . واخذت تنظر كل واحدة منهن للاخرى نظره تعجب واستنكار عندما سمعن كلام النبي ﷺ وأخذن يستنكرن تلك المرأة التي تحدث عنها ، وظلت تلك الكلمات منقوشة في ذهن عائشة وبعض نساء النبي الله ولكن هذه الكلمات وبمرور السنين تغطت بشيء من السحاب بسبب الاهمال والنسيان وبعد أن مرت ٢٥ سنة مليئة بحوادث الانتصار والانكسار بدأت بوادر ذلك الكلام بالتحقق عندما مرت قافلة مكونة من ٦٠٠ رجل على مقربة من بيت الله الحرام متجهة الى البصرة وفيها عائشة زوج الرسول ﷺ وفي الطريق انتهوا الى ماء الحواب فنبحها كلاب الحوأب فقالت عائشة : ما أراني إلا راجعة ؛ فقيل لها : ولم ذلك ؟

আর রাসূলুল্লাহ (সা.) তার মৃত্যুর পূর্বে এই ঘটনাগুলোর ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। একদিন তিনি আয়েশার সাথে ঘরে বসে ছিলেন এবং তাঁর কিছু স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। তখন তিনি বললেন: “আমি যেন তোমাদের একজনকে দেখতে পাচ্ছি, যাকে ‘হাওয়াব’-এর কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করবে।” তারপর তিনি আয়েশার দিকে তাকিয়ে তাকে বললেন: “আর সাবধান, তুমি যেন সেই না হও, হে হুমায়রা!” নবী (সা.)-এর কথা শুনে তাঁদের প্রত্যেকে পরস্পরের দিকে বিস্ময় ও অস্বীকৃতির দৃষ্টিতে তাকাতে লাগলেন এবং তিনি যে নারীর কথা বলেছেন তাকে তারা অস্বীকার করতে লাগলেন। এই কথাগুলো আয়েশা ও নবীর কিছু স্ত্রীর মনে গেঁথে গিয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে, অবহেলা ও বিস্মৃতির কারণে এই কথাগুলো মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে গেল। পঁচিশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর, যা জয়-পরাজয়ের ঘটনায় পরিপূর্ণ ছিল, সেই কথার সূচনা বাস্তবায়িত হতে শুরু করল যখন ৬০০ জনের একটি কাফেলা বায়তুল্লাহর নিকট দিয়ে অতিক্রম করে বসরার দিকে অগ্রসর হলো, যেখানে রাসূলের স্ত্রী আয়েশা ছিলেন। পথিমধ্যে তারা ‘হাওয়াব’-এর পানির কাছে পৌঁছালে ‘হাওয়াব’-এর কুকুরগুলো তাকে ঘেউ ঘেউ করল। তখন আয়েশা বললেন: আমি তো ফিরে যাওয়াই উচিত মনে করছি। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: কেন?[37]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৫

এই হাদীসটি ব্যবহার করে খামেনী আম্মাজান আয়েশাকে এমনভাবে চিত্রিত করেছে যে নবী (সা.) নিজেই তাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে সে পথভ্রষ্ট হবে। হাদীসটি নিজেই আহমদ, আল-হাকিম থেকে বর্ণিত আছে, কিন্তু এখানে এর প্রয়োগ আয়েশাকে নৈতিকভাবে নিন্দা করা এবং তার ভূমিকাকে অবৈধ ঘোষণা করা যেভাবে আহলুস সুন্নাহ বোঝে তার বিপরীত। সুন্নি পণ্ডিতরা যারা হাদীসটি গ্রহণ করেন, তারা এটিকে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখেন, নিন্দা হিসেবে নয়, এবং তারা আয়েশার পরবর্তী তওবা এবং তার সামগ্রিক সম্মানিত মর্যাদার ওপর জোর দেন।

খামেইনী আরো লিখেছে:

فلما أصبحا إذا عبد الله بن الزبير وقد أتى بخمسين رجلاً يشهدون عندها ان هذا الماء ليس بماء الحواب وانهم قد جازوا ماء الحواب بليل ، فكانت هذه الشهادة أول شهادة زور شهد بها في الاسلام ، وتحرك الجيش نحو البصرة بوجود عائشة ووقعت تلك الفتنة الكبرى التي حذر الرسول زوجته منها منذ سنين ليست ببعيدة

অতঃপর যখন সকাল হলো, তখন আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়র পঞ্চাশজন লোক নিয়ে উপস্থিত হলো, তারা তার (আয়েশার) নিকট সাক্ষ্য দিল যে, এই পানি ‘হাওয়াব’-এর পানি নয় এবং তারা রাতের বেলায় ‘হাওয়াব’-এর পানি অতিক্রম করেছে। এই সাক্ষ্যই ছিল প্রথম মিথ্যা সাক্ষ্য যা ইসলামে দেওয়া হলো। আর আয়েশার উপস্থিতিতে সেনাবাহিনী বসরার দিকে অগ্রসর হলো এবং সেই মহা ফিতনা (বিপর্যয়) সংঘটিত হলো য থেকে রাসূল (সা.) তার স্ত্রীকে অনেক দিন আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন।[38]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৫

এভাবে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে খামেইনী তার বইজুড়ে অপমান অপদস্ত করতে চেষ্টা করেছে, আহলুস সুন্নাহ তার ইজতিহাদি ভুলকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে যেটা স্বয়ং আল্লাহ্ সূরা তাওবাহ তে বলেছেন ১০০ নং আয়াতে। মুমিনদের মাতাকে সে প্রতারিত ও নিম্ন ভাষায় সমালোচনা করে তাঁর সম্মানে আঘাত হেনেছে।

মুশরিক আলী খামেনী আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে আক্রমণ করে আরো লিখেছে:

وقال الله تعالى : ( يا نساء النبي من يأت منكن بفاحشة مبينة يضاعف لها العذاب ضعفين) (سورة الأحزاب: (۳۰) وقوله: (وقرن في بيوتكن ولا تبرجن تبرج الجاهلية الأولى ) (سورة الأحزاب: (۳۳) وقد عرف من خرج وتبرج وشهد على أولاد الأنبياء أنهن إذا عصين عذبن بالنار ..

আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্য অশ্লীল কাজ করলে তার জন্য দ্বিগুণ শাস্তি বৃদ্ধি করা হবে।) (সূরা আহযাব: ৩০) এবং তাঁর বাণী: (আর তোমরা নিজেদের ঘরে অবস্থান কর এবং প্রাক-জাহেলিয়াতের যুগের মতো নিজেদের প্রদর্শন করো না।) (সূরা আহযাব: ৩৩) আর জানা গেছে যে, যারা বেরিয়েছিল, প্রদর্শন করেছিল এবং নবীদের সন্তানদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিল, তারা যদি অবাধ্যতা করে তবে আগুনে শাস্তি পাবে।[39]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৪২ পৃষ্ঠা

খামেইনী উম্মাহাতুল মুমিনীনদের ব্যাপারে জঘন্য ভাষায় লিখেছে:

والمذمومات عائشة – وحفصة ، وأم حبيبة بنت أبي سفيان ، وهن ممن قال الله فيهن (عسى ربه إن طلقكن أن يبدله أزواجاً خيراً منكن مسلمات مؤمنات قانتات تائبات عابدات سائحات ثيبات وأبكارا ) (سورة التحريم: ٥). وهذا أوضح دليل أنه لم يكن فيهن من هذا الوصف شي .

আর নিন্দিত মহিলারা হলেন আয়েশা, হাফসা এবং আবু সুফিয়ানের কন্যা উম্মে হাবীবা। আর তারা তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন: (যদি নবী তোমাদেরকে তালাক দেন, তবে তার রব সম্ভবত তোমাদেরকে পরিবর্তে দেবেন এমন স্ত্রী যারা হবে তোমাদের চেয়ে উত্তম, আজ্ঞাবহ, ঈমানদার, অনুগত, তাওবাকারী, ইবাদতকারী, রোযাদার, অকুমারী ও কুমারী।) (সূরা তাহরীম: ৫)। আর এটিই স্পষ্ট প্রমাণ যে তাদের মধ্যে এই গুণাবলির কিছুই ছিল না।[40]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৪৬ পৃষ্ঠা

মুহাম্মদ (ﷺ)-এর স্ত্রীগণকে আল্লাহর কিতাবের নির্দেশিত গুণাবলী (মুসলিম, মুমিনাত, ক্বানিতাত) থেকে বঞ্চিত করার দাবি উম্মাহাতুল মুমিনিনের প্রতি গুরুতর অপমান।

খামেইনীর এই দাবি করা যে আয়েশা, হাফসা ও উম্মে হাবীবার মধ্যে কোরআনে বর্ণিত (মুসলিম, মুমিনাত, কানিতাত ইত্যাদি) গুণাবলির কিছুই ছিল না, তা উম্মাহাতুল মুমিনিনের প্রতি একটি গুরুতর অপমান। আয়েশা বিনতে আবি বকর (রা.) ইসলামের সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। নবী (সা.) নিজেই তার মর্যাদা এবং তার প্রতি তার ভালোবাসার বিবরণ স্বীকার করেছেন। যে কোনো লেখা যা তাকে স্পষ্টভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে তা কুফর বলে বিবেচিত। যা মুশরিক খোমেইনী তার বই জুড়ে নোংরা জবানে করে গেছে।

খামেনেয়ী লিখেছে:

ويقول في مكان آخر موضحًا كيفية تعاطي الإمام أمير المؤمنين عليه السلام عند قبوله الخلافة:

الإمام أمير المؤمنين عليه الصلاة والسلام هو إمام العادلين في العالم ومظهر التقوى والعدل. عندما توافدوا إلى منزله بعد مقتل عثمان ليأخذوه إلى ساحة الخلافة رفض عليه السلام ذلك لأن له أدلة هامة وكثيرة المعاني. لكن بعد أن قبل قال: لولا حضور الحاضر وقيام الحجة بوجود الناصر وما أخذ الله على العلماء أن لا يقاروا على كظة ظالم وسغب مظلوم لألقيت حبلها على غاربها

এবং অন্যত্র তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) কীভাবে খিলাফত গ্রহণের সময় আচরণ করেছিলেন: আমিরুল মুমিনিন (আ.) হলেন বিশ্বের ন্যায়পরায়ণদের ইমাম এবং তাকওয়া ও ন্যায়ের মূর্ত প্রতীক। উসমান নিহত হওয়ার পর যখন লোকেরা তাকে খিলাফতের ময়দানে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার বাড়িতে ভিড় জমালো, তখন তিনি (আ.) তা প্রত্যাখ্যান করলেন, কারণ তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ অনেক যুক্তি ছিল। কিন্তু তিনি যখন (পরে) তা গ্রহণ করলেন, তখন বললেন: যদি উপস্থিত জনতার উপস্থিতি এবং সাহায্যকারীর অস্তিত্বের মাধ্যমে হুজ্জত (যুক্তি-প্রমাণ) প্রতিষ্ঠিত না হতো এবং আল্লাহ আলেমদের থেকে এই অঙ্গীকার না নিতেন যে, তারা অত্যাচারীর পেটুকতা ও অত্যাচারিতের ক্ষুধার ওপর নীরব থাকবেন না, তাহলে আমি এর রশি তার কাঁধে ফেলে দিতাম (দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেতাম)।[41]আস-সিয়াদাতুস শিয়া’তুদ দীন্যিয়াহ, ৮২ পৃষ্ঠা

এটি উষ্ট্রের যুদ্ধে সাইয়িদা আয়িশা, তালহা ও যুবায়র (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর সম্পৃক্ততার ঘটনাকে নির্দেশ করে যাঁরা সকলেই নবী ﷺ-এর সম্মানিত সাহাবী। ইমাম/ফকীহ-এর বিরোধিতাকে অবৈধ ঘোষণা করে এমন একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য এই প্রসঙ্গটি ব্যবহার করা পরোক্ষভাবে এই সাহাবীদের নিন্দা করে। আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করে যে, ফিতনা (গৃহযুদ্ধ)-তে অংশগ্রহণকারী সাহাবাগণ ইজতিহাদের ভিত্তিতে কাজ করেছিলেন এবং ভুল পক্ষ যদি থেকে থাকে তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত, এবং সকলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়।

আলী হলেন বৈধ নেতা এবং তার বিলম্ব মেনে নেওয়ার অর্থ হল পূর্ববর্তী খলিফাগণ ছিলেন দখলকারী – এটি রাফেযী চাল যা সকল আহলুস সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করে। আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করে যে আবু বকর, উমর ও উসমান (আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন) বৈধ শুরার মাধ্যমে সঠিকভাবে নির্বাচিত খলিফা ছিলেন। যে কোনো ইঙ্গিত যে তারা খিলাফত “অবৈধভাবে” দখল করেছিল, তা সাহাবীদের উপর আক্রমণ গঠন করে, যা আহলুস সুন্নাহর মতে নিষিদ্ধ।

সুন্নিদের সাথে থাকাকালীন খামেইনীর তাকিয়্যাহ অবলম্বন করতে তাগিদ দেয়ার ফতোয়া:

س: إذا تؤدّي الجماعة مع أهل السنة الإجبار إلى التكتف هل يجوز لنا الحضور في جماعاتهم ؟

ج: لا يجب عليك الحضور في جماعتهم، ولكن لو حضرت وصليت بصلاتهم أجزأتك إلا أن التكتف ما دام يمكنك تركه يجب عليك الترك وعلى الظاهر لا تقية هناك في مورد التكتف نعم لو اقتضت التقية التكتف لم يضر أيضاً بصحة الصلاة معهم .

প্রশ্ন: যদি সুন্নিদের সাথে জামাআতে (সম্মিলিত নামাজে) বাধ্য হয়ে হাত বাঁধতে (তাকতিফ) হয়, তবে কি তাদের জামাআতে আমাদের উপস্থিত হওয়া জায়েজ?

খামেনেয়ীর উত্তর: তোমার জন্য তাদের জামাআতে উপস্থিত হওয়া আবশ্যক নয়। কিন্তু যদি তুমি উপস্থিত হও এবং তাদের সাথে নামাজ পড়, তবে তা তোমার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত হাত না বাঁধার সুযোগ থাকে, তোমার জন্য তা না বাঁধা আবশ্যক। এবং হাত বাঁধার ব্যাপারে স্পষ্টতই তাকিয়্যার প্রয়োজন নেই। হ্যাঁ, যদি তাকিয়্যার কারণে হাত বাঁধতে হয়, তবে তাদের সাথে নামাজের সহিহ হওয়ার ক্ষেত্রেও তা ক্ষতিকর নয়।[42]আল ইসতিফতাআতুল জাদিদাতু ওয়াল আস’ইলাতুল শা’য়িআতু মাআ মুলহাকিল ফাতাওয়িল … Continue reading

খামেইনী আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে অপমান হারাম ঘোষণা করেছে তাকিয়্যাহ অবলম্বন করতে, তার ফতোয়া দেখুন:

بسم الله الرحمن الرحيم، السلام عليكم ورحمة الله وبركاته: يحرم النيل من رموز إخواننا السنة فضلا عن اتهام زوج النبي صلى الله عليه وآله بما يخل بشرفها بل هذا الأمر ممتنع على نساء الأنبياء وخصوصا سيدهم الرسول الأعظم صلى الله عليه وآله. موفقين لكل خير».

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আমাদের সুন্নি ভাইদের প্রতীক ও ব্যক্তিত্বদের সমালোচনা করা হারাম, এমনকি নবী (সা.)-এর স্ত্রীর ইজ্জত-আব্রুতে আঘাত হানা তো আরও নিষিদ্ধ। বরং নবীগণের স্ত্রীদের জন্য, বিশেষ করে নবীগণের সর্দার ও মহান রাসুল (সা.)-এর স্ত্রীদের জন্য এ ধরনের বিষয় অসম্ভব। তোমরা সকল কল্যাণে সফল হও।[43]আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১০

উপরন্তু যদিও উপরিউক্ত বক্তব্যের বহিঃপ্রকাশ ইতিবাচক মনে হয়, প্রেক্ষাপটটি সমস্যাযুক্ত। ফতোয়াটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা এবং ফিতনা এড়ানোর জন্য রাজনৈতিক/সাম্প্রদায়িক কারণে জারি করা হয়েছিল। লেখিকা (ড. সুআদ আল-হাকিম), যিনি নিজেকে “আহলে সুন্নাহ”-এর অন্তর্ভুক্ত বলে পরিচয় দেন এবং এই ফতোয়াকে সম্প্রীতির একটি অঙ্গীভূতি হিসেবে প্রশংসা করেন, তিনি ইঙ্গিত দেন যে এই ধরনের ফতোয়া শুধুমাত্র প্রকাশ্য অপবাদ নিষিদ্ধ করাকে একটি বড় ছাড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই কাঠামোটি প্রকাশ করে যে এই বইয়ের চারপাশের শিয়া পরিবেশে, আয়েশাকে প্রকাশ্যে অপমান করা একটি পরিচিত প্রথা ছিল যা নিষিদ্ধ করার জন্য একটি বিশেষ ফতোয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। সুন্নি দৃষ্টিকোণ থেকে, উম্মুল মুমিনিন আয়েশাকে অপমান করা কুফর অথবা ন্যূনতমপক্ষে একটি গুরুতর পাপ, যা নিয়ে কোনো বিতর্কের প্রয়োজন নেই, এটি “সাম্প্রদায়িক সদিচ্ছার” বিষয় নয়।

যা এই প্রসঙ্গটিকে উল্লেখযোগ্য করে তোলে:

  • ফতোয়াটি বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছিল কারণ আয়েশাকে অপমান করা শিয়া মিডিয়া, স্যাটেলাইট চ্যানেল এবং ইন্টারনেটে একটি চলমান, সুসংহত সমস্যা ছিল যেমনটি প্রশ্নটিতেই স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
  • তারা এটিকে «منهجيّ» (শিয়াদের প্রচলিত কর্মপন্থা) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ এটি মাঝে মাঝে ঘটত না বরং সংগঠিত ছিল।
  • খামেনেয়ীর নিষেধাজ্ঞাকে সম্পূর্ণরূপে একটি রাজনৈতিক/সাম্প্রদায়িক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে মুসলিম ঐক্য রক্ষার জন্য, এটি সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে নিহিত কোনো নিন্দা হিসেবে নয়।
  • লেখিকা ড. সুআদ আল-হাকিম, যিনি নিজেকে সুন্নি হিসেবে পরিচয় দেন, এই ফতোয়াকে একটি অসাধারণ অঙ্গীভূতি হিসেবে প্রশংসা করেন যা নিজেই প্রকাশ করে যে এই পরিবেশে মানদণ্ড কতটা নিচু ছিল।

সাহাবীদের কাঠামোগত বিলোপ

যদিও কোনো সাহাবীর প্রকাশ্য সমালোচনা করা হয়নি, বইটি উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ও অন্যান্য মহিলা সাহাবীদেরকে আদর্শ হিসেবে সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়েছে, এবং তাদের স্থান সম্পূর্ণরূপে শিয়া ব্যক্তিত্বদের দিয়ে পূর্ণ করেছে।  আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী বইটিতে “প্রাথমিক যুগের আদর্শ মহিলা” হিসেবে ইতিবাচকভাবে উল্লেখিত একমাত্র ব্যক্তিত্বরা হলেন:

  • ফাতিমা যাহরা
  • জয়নব বিনতে আলী
  • খাদিজা (সংক্ষেপে উল্লেখিত, পৃষ্ঠা ১২)
  • খানসা (পৃষ্ঠা ১৯, পুত্রদের যুদ্ধে প্রেরণের ভূমিকার জন্য )

আয়েশা, হাফসা, উম্মে সালামা, উম্মে সুলায়ম এবং অন্যান্য বিশিষ্ট মহিলা সাহাবীদের কথা বইটিতে সম্পূর্ণরূপে অনুপস্থিত। এটি আকস্মিক নয় — এটি শিয়াদের ছিচকে চালের প্রতিফলন যেখানে নবী (সা.)-এর স্ত্রীগণ (খাদিজা ব্যতীত) এবং বৃহত্তর সাহাবীগণ কর্তৃপক্ষ বা আদর্শ হিসেবে গণ্য হন না।

তাকিয়্যাহ সমন্ধে খামেনীর বক্তব্য্য:

«إن علماء الدين الشيعة ظلوا باقين كفئة وطبقة على مدى ألف عام فهناك نحو أربعمئة عام منها تمثل مرحلة الجهر وعدم التقية، وأما الستمئة عام الأخرى فهي تؤرخ لتلك المرحلة التي عاشها العلماء في التقية والسجون والتخفي والهجرة.

“নিঃসন্দেহে শিয়া ধর্মীয় আলিমগণ একটি শ্রেণী ও স্তর হিসেবে এক হাজার বছর ধরে টিকে আছেন। এর মধ্যে প্রায় চারশ বছর হলো সেই পর্যায় যখন তারা প্রকাশ্যে ছিলেন এবং তাকিয়্যা করেননি। আর বাকি ছয়শ বছর হলো সেই সময়ের ইতিহাস যখন আলিমগণ তাকিয়্যার মধ্যে, কারাগারে, গোপন অবস্থায় এবং দেশত্যাগের মধ্যে জীবনযাপন করেছেন।!![44]আল জাওযাতু উলামাউদ দীন আলা দ্বওয়ি ইরশাদাতি সামাহাতিল ক্বায়িদ, খণ্ড ১, ২২-২৩ … Continue reading

যারা সালাতের ক্ষেত্রে তাক্যিয়াহ অবলম্বন করতে পারে তারা মুমিনদের মা কে গালি দেয়ার ক্ষেত্রেও করবে এবং করেছে। যার প্রমাণ আপনারা উপরের আলচনায় দেখতে পাবেন। খামেনেয়ী যদি আম্মাজান আয়েশা রাঃ কে গালি দিয়েয়ার বিরুদ্ধে হতো তাহলে কেন সে তওবা করলো না এবং তার কিতাবাদিতে আম্মাজান আয়েশাকে উম্মাহাতুল মুমীনীনদের আদর্শ হিসেবে সম্মানভরে উল্লেহ্য করলো না? যা সে ফাতিমা রাঃ এর ক্ষেত্রে করেছে? আলী খামেনেয়ীর উদ্দেশ্য পরিষ্কার আর তা হলোঃ আকিয়্যাহ অবলম্বন করে মুমিনদের সমর্থন আদায় করা ও সুযোগ বুঝে ছুরি মারা।

ফাতিমাতুয যাহরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে নবীর পর্যায়ে নেয়া ও সাহাবীদের বিপক্ষে দাঁড় করাতে আলী খামেনীর হীন কৌশল

ফাতিমা আয-যাহরা (রা.)-কে সাহাবীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা:

ولقد حذرت فاطمة الزهراء سلام الله عليها مما سينزل بالمجتمع إذا ابتعد عن الولاية، لكن آذان المجتمع لم تكن تستوعب هذا التحذير، وهذا التحذير قائم إلى يومنا هذا المجتمع صاحب الولاية مجتمع تنمو فيه الكفاءات الإنسانية، وكل شيء فيه ينحو إلى السموّ والكمال والرقي.

আর নিঃসন্দেহে ফাতিমা যাহরা (সালামুল্লাহি আলাইহা) সতর্ক করে গিয়েছিলেন যে, সমাজ যদি ওয়ালায়াত থেকে দূরে সরে যায় তাহলে তার উপর কী আপতিত হবে। কিন্তু সমাজের কান এই সতর্কবাণী আয়ত্ত করতে প্রস্তুত ছিল না। আর এই সতর্কবাণী আজও বিদ্যমান। যে সমাজ ওয়ালায়াতের অধিকারী, সেই সমাজেই মানবিক দক্ষতার বিকাশ ঘটে এবং তার প্রতিটি বিষয়ই উচ্চতা, পরিপূর্ণতা ও সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত হয়।[45]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২২, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

এটি একটি শিয়া রাজনৈতিক বর্ণনা যা ইঙ্গিত করে যে মুসলিম সম্প্রদায় — অর্থাৎ সাহাবীগণ — ফাতিমার সতর্কবাণী উপেক্ষা করেছিলেন এবং নবীর মৃত্যুর পর পথভ্রষ্ট হয়েছিলেন। এই বর্ণনা, যা শিয়া ঐতিহাসিক ধারায় নিহিত, তা সাহাবীগণ ও প্রথম খিলাফতকে অবৈধ প্রমাণের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং আহলুস সুন্নাহ তা প্রত্যাখ্যান করে।

ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা কে রাফেযী আলী খামেনেয়ীর নবীর পর্যায়ে  নেয়া

খামেনেয়ী লিখেছে:

حديثين: الأول: «إنّ فاطمة كانت محدثة ) (۱۸)، والثاني: «إن الملائكة كانت تأتي فاطمة الزهراء عليها السلام، وتتحدث معها، وتقرأ عليها آيات الله». وقد كتب أمير المؤمنين ما أملته الملائكة على فاطمة الزهراء عليها سلام الله، وأصبح هذا كتابًا موجودًا لدى الأئمة اسمه مصحف فاطمة.

দুটি হাদিস: প্রথমটি: “নিশ্চয়ই ফাতিমা ছিলেন মুহাদ্দাসা (যার সাথে ফেরেশতারা কথা বলত)” (১৮)। দ্বিতীয়টি: “নিশ্চয়ই ফেরেশতারা ফাতিমা যাহরা (আ.)-এর কাছে আসত, তার সাথে কথা বলত এবং আল্লাহর আয়াত তার কাছে পাঠ করত।” আর আমিরুল মুমিনিন (আ.) ফেরেশতারা ফাতিমা যাহরা (আ.)-কে যা বলত তা লিখে রাখতেন। আর এটি একটি পুস্তকে পরিণত হয় যা ইমামগণের কাছে বিদ্যমান, যার নাম মুসহাফে ফাতিমা।[46]আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৭

“মুসহাফে ফাতিমা” কিতাবটি ফেরেশতাদের দ্বারা ফাতিমাকে নির্দেশিত একটি গ্রন্থ, যা আলী লিখেছিলেন এবং শিয়া ইমামদের মধ্যে প্রচলিত ছিল – এটি একটি স্পষ্টতই শিয়া বিশ্বাস যা আল-কাফি এবং অন্যান্য জাল শিয়া হাদিস গ্রন্থের বর্ণনায় এসেছে। এটি কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে একটি আলাদা ওহী নাযিলের দাবি করে। এটি নবুওয়াতের সমাপ্তি এবং ঐশী ওহী হিসেবে কোরআনের পরিপূর্ণতার সাথে সাংঘর্ষিক। “মুসহাফ” শব্দটি (কোরআনের জন্য ব্যবহৃত একই শব্দ) বিশেষভাবে সমস্যাযুক্ত, কারণ এটি এই বানোয়াট কথিত গ্রন্থের জন্য একটি ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা ইঙ্গিত করে। খামেনীও অন্যান্য রাফেযীর ন্যায় এই বানোয়াট গ্রন্থে বিশ্বাসী যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর নামে প্রমাণিত নয়।

খামেনেয়ী আরো লিখেছে:

الملمح الثامن: الزهراء سيدة محدثة، تتنزل عليها الملائكة وتأنس معها وتحدثها، فعلمها لدني لا كسبي

অষ্টম বৈশিষ্ট্য: ফাতিমা যাহরা (আ.) হলেন মুহাদ্দাসা নারী, তার উপর ফেরেশতা অবতীর্ণ হন, তার সাথে সখ্যতা স্থাপন করেন এবং কথা বলেন। তাই তার জ্ঞান হল লাদুন্নি (ঐশী দান), অর্জিত নয়।[47]আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৬

খামেইনী আরও সমালোচনামূলকভাবে, ফাতিমার জ্ঞানকে “লাদুন্নি” (প্রত্যক্ষ, ঐশী, অর্জিত নয় — একই ধরনের জ্ঞান যা নবীদের প্রতি আরোপিত এবং কোরআন খিজিরের সাথে সম্পর্কিত) হিসেবে বর্ণনা করা আহলে সুন্নাতের অবস্থান নয়, বরং রাফেযী মতাদর্শ। এটি তাকে একটি আধা-নবুওয়াতী জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদায় উন্নীত করার জন্য শয়তান রাফেযীরা করে থাকে।

 

এরপর খামেনী আরো লিখেছে:

وكما أن هناك تعبير في القرآن حول مريم عليه السلام في الآية وان الله اصطفاك وظهركِ وَاصْطَفَاكِ عَلَى نِسَاءِ العَالَمِينَ ) فإن الملائكة كانت تخاطب فاطمة الزهراء عليها السلام وتقول: يا فاطمة إن الله اصطفاك وطهرك واصطفاك على نساء العالمين.

আর যেমন কোরআনে মরিয়ম (আ.) সম্পর্কে আয়াতে রয়েছে যে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বজগতের নারীদের উপর তোমাকে মনোনীত করেছেন” (আলে ইমরান: ৪২), তেমনি ফেরেশতারা ফাতিমা যাহরা (আ.)-কে সম্বোধন করে বলত: “হে ফাতিমা, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাকে মনোনীত করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং বিশ্বজগতের নারীদের উপর তোমাকে মনোনীত করেছেন।”[48]আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৭

কোরআনের আয়াত «إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَاكِ وَطَهَّرَكِ وَاصْطَفَاكِ عَلَى نِسَاءِ الْعَالَمِينَ» (সূরা আলে ইমরান: ৪২) বিশেষভাবে মরিয়ম (আ.) সম্পর্কিত, যেমনটি সকল মুফাসসির সর্বসম্মতভাবে মনে করেন। মরিয়মকে সম্বোধন করে কোরআনের একটি বক্তব্য ব্যবহার করে দাবি করা যে ফেরেশতারা ফাতিমাকে একই কথা বলেছিল, এটি একটি জাল শিয়া বর্ণনা। অধিকন্তু, ফাতিমাকে তারপর সর্বকালের নারীদের ওপর মরিয়মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা বুখারী ও মুসলিমের সেই হাদিসের পরিপন্থী যেখানে নবী (সা.) চারজন শ্রেষ্ঠ নারীর নাম উল্লেখ করেছিলেন: খাদিজা, ফাতিমা, মরিয়ম ও আসিয়া।

 

খামেনী ফাতিমা (রাদিআল্লাহু আনহা) কে নিয়ে বাড়াবাড়ি করে লিখেছে:

كل نساء العالم من أوله إلى آخره تبدو أمامها كالخدم أو كالذرات في مقابل الشمس الساطعة

সমগ্র বিশ্বের নারীজাতি, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত, তাঁর সামনে সেবিকার মতো অথবা উজ্জ্বল সূর্যের সামনে ধূলিকণার মতো প্রতীয়মান হয়।[49]আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৪

যদিও আহলুস সুন্নাহ এই সহিহ হাদিসটি গ্রহণ করে যে ফাতিমা হলেন “সাইয়্যিদাতু নিসা’ই আহলিল জান্নাহ” (জান্নাতের নারীদের নেত্রী), এখানে ব্যবহৃত ভাষা হল চরম গুলু (অতিরঞ্জন)। ইতিহাসের সকল নারীকে ফাতিমার তুলনায় সেবিকা অথবা উজ্জ্বল সূর্যের সামনে ধূলিকণার সাথে তুলনা করা আহলুস সুন্নাহর অবস্থান নয় এবং তা সেই ধরনের অতিরঞ্জনের সীমায় পৌঁছে যায় যা নবী (সা.) স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন।

খামেনী ফাতিমা যাহরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে নবীর পর্যায়ে নিয়ে যেয়ে লিখেছে:

الملمح الخامس: الزهراء هي العبد الكامل الله سبحانه. إنها «روحخالصة»، و «غير قابلة للإدراك ) (۱۱) ، جعل الله طينتها طينة متعالية

পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: যাহরা (আ.) হলেন আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ বান্দা। তিনি হলেন ‘বিশুদ্ধ আত্মা’ এবং ‘অনুভবের অগম্য’। আল্লাহ তার মাটির গঠন করেছেন অতিকায় উন্নত।

অতঃপর একই পৃষ্ঠায় টীকায় সে লিখেছে:

فالأبعاد الوجودية لهذه الحوراء الإنسية والروح الخالصة وخلاصة النبوة والولاية واسعة ولا متناهية وغير قابلة للإدراك وهي بصورة بحيث يتحير الإنسان فيها.

এই মানবীয় হুর (ফাতিমা), বিশুদ্ধ আত্মা এবং নবুওয়াত ও ওয়ালায়াতের সারাংশের অস্তিত্বগত মাত্রা অতি বিস্তৃত, অসীম, অনুভবের অগম্য এবং এমন পর্যায়ের যে মানুষ তার সম্পর্কে বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যায়।[50]আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৫

ফাতিমাকে “নবুওয়াত ও ওয়ালায়াতের সারাংশ” (خلاصة النبوّة والولاية) হিসেবে বর্ণনা করা এবং তার অস্তিত্বগত মাত্রাকে “অসীম ও অনুভবের অগম্য” বলা হলো বিশুদ্ধ শিয়া অধিবিদ্যাগত মতবাদ যা মোল্লা সাদরা-শৈলীর দর্শন ও শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক ঐতিহ্য থেকে উদ্ভূত। এটি আহলুস সুন্নাহর পরিপন্থী, যারা ফাতিমাকে একজন মহীয়সী নারী হিসেবে শ্রদ্ধা করে কিন্তু তাকে কোনো বিশ্বতাত্ত্বিক বা অধিবিদ্যাগত মর্যাদা প্রদান করে না। যা শিরক আত-তাকদীরের (ঐশী গুণাবলিতে কাউকে অংশীদার করা) অধিক নিকটবর্তী বলে বিবেচিত।

আলী খামেনীর নিৎকৃষ্ট আকীদা দেখুন, সে লিখেছে:

وقال الإمام الباقر الله : وإن عندنا لمصحف فاطمة علي وما يدريهم ما مصحف فاطمة ، قال : مصحف فيه مثل قرآنكم هذا ثلاث مرات ، والله ما فيه من قرآنكم حرف واحد إنما هو شيء أملاها الله وأوحى إليها. قال : قلت : هذا والله هو العلم ، قال : إنّه لعلم وليس بذاك قال : ثم سكت ساعة ثم قال : إن عندنا لعلم ما كان وما هو كائن إلى أن تقوم الساعة .

ইমাম বাকির (আ.) বলেছেন: নিশ্চয়ই আমাদের কাছে ফাতিমার একটি মুসহাফ রয়েছে। আর তারা কী জানবে, ফাতিমার মুসহাফ কী? তিনি বললেন: এটি এমন একটি মুসহাফ যাতে তোমাদের এই কোরআনের তিন গুণ পরিমাণ রয়েছে। আল্লাহর কসম, এতে তোমাদের কোরআনের একটি হরফও নেই। বরং এটি এমন একটি বিষয় যা আল্লাহ তা নির্দেশ দিয়েছেন এবং ফাতিমার প্রতি ওহী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম, আল্লাহর কসম, এটাই তো জ্ঞান। তিনি বললেন: নিঃসন্দেহে এটি জ্ঞান, কিন্তু তা সে জ্ঞান নয় (যা তোমরা ভাবছ)। অতঃপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন, তারপর বললেন: নিশ্চয়ই আমাদের কাছে জ্ঞান রয়েছে যা ছিল এবং যা কেয়ামত পর্যন্ত ঘটবে তার।[51]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৪৪ পৃষ্ঠা

“মুসহাফে ফাতিমা” – কোরআনের তিনগুণ আয়তনের, কিয়ামত পর্যন্ত আগত সমস্ত জ্ঞানের অধিকারী এবং ফাতিমার প্রতি ঐশী প্রেরণা (ওয়াহি) হিসেবে প্রদত্ত একটি গ্রন্থের অস্তিত্বের বর্ণনা যা শিয়াদের বানোয়াট সনদবিহীন কিতাবাদি বিহারুল আনওয়ার ও নাহজুল বালাগাহ হতে এসেছে, যা আহলুস সুন্নাহ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে। এটি ইঙ্গিত করে:

১. ফাতিমা ওয়াহি (ঐশীবাণী) পেয়েছিলেন, যা ইসলামে শুধুমাত্র নবীদের জন্য নির্ধারিত।

২. বারো ইমামগণ গায়বের (অদৃশ্যের) গুপ্ত জ্ঞানের অধিকারী।

৩. কোরআনের পাশাপাশি আরেকটি ঐশীভাবে নাযিলকৃত গ্রন্থের অস্তিত্ব রয়েছে।

এই তিনটি বিষয়ই আলী খামেইনীর কাফির হবার জন্য যথেষ্ট।

ফাতেমা যাহরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কে নিয়ে সে আরো লিখেছে:

ندعو الله تعالى أن يبارك لكم هذا العيد السعيد، وأن تشملكم جميعا العناية الإلهية والألطاف الملكوتية لسيدة نساء العالمين»

আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি এই পবিত্র ঈদকে তোমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং বিশ্ব-নারীদের নেত্রীর ঐশী করুণা ও রাজত্বের অনুগ্রহ তোমাদের সকলকে পরিবেষ্টিত রাখে।[52]আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৪

এই সকল বাক্যাংশে ফাতিমার “রাজত্বের অনুগ্রহ” কামনা করা, তার সান্নিধ্যের মাধ্যমে আমাদের তাওয়াসসুলের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং বলা যে “আমরা সেই মহান ব্যক্তির মুখাপেক্ষী” — এই সবকিছুই তাওয়াসসুল বি-যাতিল মাইয়িত (মৃত ব্যক্তির সত্তার মাধ্যমে সুপারিশ প্রার্থনা) এর একটি রূপ গঠন করে, যা একটি শিরকী বিষয়।

খামেনেয়ী ফাতিমা যাহরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করে লিখেছে:

وعن الإمام الصادق ال : فوضعت خديجة فاطمة طاهرة مطهرة فلما سقطت إلى الأرض أشرق منها نور ….. فنطقت فاطمة علي بشهادة أن لا إله إلا الله وأن أبي رسول الله الله سيد الأنبياء وأن بعلي سيد الأوصياء وأن ولدي سادة الأسباط … (بحار الأنوار)

আর ইমাম সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত: অতঃপর খাদিজা ফাতিমাকে প্রসব করলেন পবিত্র ও সচ্চরিত্রা অবস্থায়। যখন তিনি মাটিতে পতিত হলেন, তখন তাঁর থেকে একটি নূর (জ্যোতি) বিকিরিত হলো….. তখন ফাতিমা (আ.) সাক্ষ্য দিয়ে বললেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমার পিতা আল্লাহর রাসূল, নবীগণের সর্দার। আর নিশ্চয়ই আলী হলেন ওসীদের সর্দার এবং নিশ্চয়ই আমার পুত্রগণ হলেন (নবীর) দৌহিত্রগণের সর্দার।(বিহারুল আনওয়ার)[53]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ৭ পৃষ্ঠা

খামেনীর আনা এ বর্ণনাটি যে ফাতিমা জন্মের সময় কথা বলেছিলেন, শাহাদাহ দিয়েছিলেন এবং আলী ও ইমামদের ঐশী-নিযুক্ত মর্যাদা ঘোষণা করেছিলেন তা শিয়া হাদিস সূত্র (বিহারুল আনওয়ার) থেকে আগত। বিহারুল আনওয়ার একটি জাল বানোয়াট কিতাব যা শিয়ারা সহীহ বুখারী ও মুসলিমের মর্যাদায় ভূষিত করে থাকে। এই বর্ণনা আহলুস সুন্নাহর কোনো কিতাবে নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বক্তব্যের বিষয়বস্তুই শিয়া মতবাদ অর্থাৎ ইমামতের হকদার কেবল আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এই তত্ত্বকে অন্তর্নিহিত করে।

খামেনেয়ী ফাতিমা যাহরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর দ্বারা তাওয়াসসুল (অসীলা) করছে:

قال السيد الخامنئي حفظه الله تعالى: إن للتوسل بأهل البيت الا ولمحبتهم، ومحبة الزهراء على وجه الخصوص لكونها – عزيزة عند أهل البيت عليهم السلام – قيمة عظيمة، وإن يوم ولادة هذه اللؤلؤة في صدف النبوة والولاية يعتبر عند الشيعة وعند محبيها وأبنائها المعنويين والجسمانيين عيداً كبيراً

সাইয়্যিদ খামেনেয়ী বলেছেন: আহলে বাইতের (আ.) মাধ্যমে তাওয়াসসুল (তাদের অসীলায় প্রার্থনা) এবং তাদের প্রতি ভালোবাসার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। বিশেষ করে যাহরা (আ.)-এর প্রতি ভালোবাসা, কারণ তিনি আহলে বাইতের (আ.) নিকট অত্যন্ত প্রিয়। আর নবুওয়াত ও ওয়ালায়াতের খোলসে আবদ্ধ এই মুক্তোর জন্মদিন শিয়াদের, তাঁর প্রেমিকদের এবং তাঁর আধ্যাত্মিক ও জৈবিক সন্তানদের জন্য এক মহান ঈদ হিসেবে বিবেচিত।[54]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ৫৬ পৃষ্ঠা

আহলুস সুন্নাহ স্পষ্টভাবে মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তির মাধ্যমে তাওয়াসসুল (সুপারিশ প্রার্থনা) নিষিদ্ধ করে, তা ফাতিমা হোন বা অন্য কেউ। এমনকি যারা জীবিত ব্যক্তির মাধ্যমে তাওয়াসসুলের অনুমতি দেন, তারা তা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সীমাবদ্ধ রাখেন। মৃত ব্যক্তিকে সুপারিশের জন্য ডাকা আহলুস সুন্নাহর মতে শিরক অথবা ন্যূনতমপক্ষে একটি গুরুতর বিদআত বলে গণ্য।

ফাতেমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) সমন্ধে খামেনেয়ী লিখেছে:

إنّ جهاد تلك المكرمة علي في الميادين المختلفة هو جهاد نموذجي، في الدفاع عن الإسلام وفي الدفاع عن الإمامة والولاية،

নিশ্চয়ই সেই সম্মানিত নারীর আলী (আ.)-এর সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিহাদ ছিল এক আদর্শ জিহাদ, ইসলামের প্রতিরক্ষায় এবং ইমামত ও ওয়ালায়াতের প্রতিরক্ষায়।[55]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ৬৬ পৃষ্ঠা

ফাতিমার জীবনকে ‘ইমামত ও ওয়ালায়াতের প্রতিরক্ষায় জিহাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্পূর্ণ নবোত্তর রাজনৈতিক বিরোধকে একটি ধর্মীয় যুদ্ধের কাঠামো প্রদান করে, যা ইঙ্গিত করে যে যেসব সাহাবী আলীকে সমর্থন করেননি তারা ঐশীভাবে অনুমোদিত কর্তৃত্বের বিরোধী ছিলেন। আহলুস সুন্নাহ নবীর পরে নেতৃত্বের প্রশ্নটিকে ঐশী নির্দেশের (নস) বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেন না, বরং শুরা (পরামর্শ) হিসেবে গণ্য করেন।

খামেনেয়ী যারা খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল তাদেরকে আল্লাহর কিতাব পরিত্যাগ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে!

أفعلى محمد (۴) تركتم كتاب الله ونبذتموه وراء ظهوركم إذ يقول الله تبارك وتعالى : وورث سليمان داود) (۵) وقال الله عز وجل فيما قص من خبر يحيى بن زكريا رب هب لي من لدنك وليا ) (۶) يرثني ويرث من آل يعقوب)

তাহলে তোমরা কি মুহাম্মদ (সা.)-এর পরে আল্লাহর কিতাব ত্যাগ করে পশ্চাতে নিক্ষেপ করেছ? অথচ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা বলেছেন: “আর সুলাইমান দাউদের উত্তরাধিকারী হয়েছিল” (৫)। এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ইয়াহিয়া ইবনে জাকারিয়ার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন: “হে আমার রব! তোমার কাছ থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান কর” (৬), “যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুবের বংশধরদের উত্তরাধিকারী হবে।”।[56]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬১ পৃষ্ঠা

 

খামেনেয়ী লিখেছে:
ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ

“আমার উত্তরাধিকার কি জোর-জুলুম করে কেড়ে নেওয়া হবে? আর যারা জুলুম করে তারা খুব শীঘ্রই জানতে পারবে কোন প্রত্যাবর্তনস্থলে তারা ফিরে যাবে”

এবং বর্ণিত আছে যে, তিনি আবু বকর ও মুহাজিরদের উদ্দেশ্যে নিজের কথা শেষ করে আনসারদের মজলিসের দিকে ফিরে গেলেন এবং বললেন: হে অবশিষ্ট সম্প্রদায়! হে দ্বীনের স্তম্ভ! হে ইসলামের দুর্গ! আমার অধিকার সংক্রান্ত এই প্রতারণা কী? এবং আমার প্রতি অত্যাচার সম্পর্কে এ উপেক্ষা কী?[57]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬১ পৃষ্ঠা

আলী খামেনেয়ী ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর দিকে নিসবত করে লিখেছে, যে ফাতিমা খলিফা আবু বকর ও তার শিবিরকে উদ্দেশ্য করে বলেন

ومعذرة (٥) الحجة، فدونكموها (۶) فاحتقبوها (۷) مديرة الظهر، ناكبة (۸) الحق، باقية العار، موسومة بشنار الأبد موصولة بنار الله الموقدة التي تطلع على الأفئدة، فبعين الله ما تفعلون، وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون، وأنا ابنة نذير لكم بين يدي عذاب شديد، فاعملوا إنا عاملون وانتظروا إنا منتظرون

আর হুজ্জতের ওজর গ্রহণ করো না,  এই হলো সে (সরকার ব্যবস্থা), এটাকে গ্রহণ করো পৃষ্ঠ প্রদর্শনকারী, সত্য থেকে বিমুখ, (৮) কলঙ্কে আবদ্ধ, চিরন্তন লাঞ্ছনায় চিহ্নিত, আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুনের সাথে সম্পৃক্ত যা হৃদয়কে গ্রাস করে। তোমরা যা করছ তা আল্লাহর দৃষ্টির সামনেই ঘটছে। আর যারা জুলুম করে তারা শীঘ্রই জানতে পারবে কোন প্রত্যাবর্তনস্থলে তারা ফিরে যাবে। আমি হলাম সেই সতর্ককারীর কন্যা, যে তোমাদের জন্য কঠিন শাস্তির আগে সতর্ক করে গেছে। কাজেই তোমরা যা করার করো, আমরাও করছি। আর তোমরা প্রতীক্ষা করো, আমরাও প্রতীক্ষায় রইলাম।?[58]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬৫ পৃষ্ঠা

খামেনেয়ী ইঙ্গিত করে যে যারা ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল তারা জাহান্নামের আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে। অর্থাৎ সে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর পূর্বে ক্ষমতা গ্রহণকারী বনু উমাইয়্যাহ তথা আবু বকরের শাসন গ্রহণকে কে জাহান্নামী বলছে। নাউযুবিল্লাহ। এ সকল বর্ণনা শিয়াদের সনদবিহীন জাল কিতাবাদি যেমন বিহারুল আনওয়ার ও  শিয়াদের বুখারী সমতুল্য কিতাব আল কাফী থেকে নিয়েছে, যা সনদবিহীন ৪০০ হিজরির পর রচিত একটা বানোয়াট কিতাব। এর মাধ্যমে সে হিদায়াতপ্রাপ্ত ও নবীর রেখে যাওয়া খলিফাদের চরিত্রের উপর আক্রমণ করছে যাতে সে শিয়া ব্যতীত বাকি সব শাসকদের চরিত্রকে ধূলিসাৎ করতে পারে।

 

আলী খামেনেয়ী শিয়াদের জাল বই থেকে ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর দিকে সম্পৃক্ত করা আছার বর্ণনা করছে:

قالت : أصبحت والله عائفة (۱) الدنياكم، قالية (٢) لرجالكم، لفظتهم بعد أن عجمتهم (۳)، وشنأتهم بعد أن سيرتهم (۴) ، فقبحاً لفلول الحد (٥)، وخور القنا (۶)، وخطل الرأي (۷)، وبئسما قدمت لهم أنفسهم أن سخط الله عليهم وفي العذاب هم خالدون.

ويحهم أني زحزحوها عن رواسي الرسالة وقواعد النبوة ومهبط الروح الأمين الطبن (۱۲) بأمور الدنيا والدين، ألا ذلك هو الخسران المبين، وما الذي نقموا.

তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের এই দুনিয়াকে ঘৃণা করছি, (১) তোমাদের পুরুষদের প্রতি আমি বিদ্বেষ পোষণ করছি, (২) তাদের পরখ করে দেখার পর আমি তাদেরকে বের করে দিয়েছি, (৩) এবং তাদের পরিচয় জানার পর আমি তাদেরকে ঘৃণা করছি। (৪) অতএব, ধ্বংস হোক সেই দল যাদের প্রখরতা নিষ্প্রভ, (৫) যাদের বর্শা নিস্তেজ, (৬) যাদের মতামত বিকৃত। (৭) আর তারা নিজেদের জন্য যা কিছু অগ্রিম পাঠিয়েছে তা খুবই নিকৃষ্ট। আল্লাহর ক্রোধ তাদের উপর এবং তারা চিরকাল শাস্তিতে থাকবে।

ধিক তাদের! কীভাবে তারা সরিয়ে দিল তাকে (ওয়ালায়াতকে) রিসালাতের শক্ত ভিত্তি ও নবুওয়াতের মূল স্তম্ভ এবং বিশ্বস্ত ফেরেশতা জিবরাঈলের অবতরণস্থল থেকে? অথচ তারা পারদর্শী (১২) দুনিয়া ও দ্বীনের ব্যাপারে। সাবধান! এটাই তো স্পষ্ট ক্ষতি। আর তারা কী আপত্তি করেছিল?[59]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬৬ পৃষ্ঠা

 

আহলুস সুন্নাহ আবু বকর আস-সিদ্দিক (রা.)-কে সাহাবীদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রথম সঠিক খলিফা বলে গণ্য করে। ‘খুতবাতুয যাহরা’-এর এই সংস্করণটির প্রামাণ্যতা মূলধারার আহলুস সুন্নাহ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। খামেনী এটিকে সত্য হিসেবে তুলে ধরে এর চারপাশে ফাতিমার ‘জিহাদ’-এর একটি সম্পূর্ণ কাঠামো তৈরি করে আবু বকর ও জ্যেষ্ঠ সাহাবীদের ওপর সরাসরি আক্রমণের প্রয়াস করে। শয়তান খামেইনী।

খামেনেয়ী ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এর ফাদাক-এর দাবিকে সম্পূর্ণ বৈধ হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং আবু বকরের তা প্রত্যাখ্যান করাকে ‘জুলুম’ (অবিচার) হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সে তাকে উদ্ধৃত করে বলেছে:

أغلب على إرثي جوراً وظلماً وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون) .

“আমার উত্তরাধিকার কি জোর-জুলুম করে কেড়ে নেওয়া হবে? আর যারা জুলুম করে তারা খুব শীঘ্রই জানতে পারবে কোন প্রত্যাবর্তনস্থলে তারা ফিরে যাবে”।[60]মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬২ পৃষ্ঠা

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের প্রমাণিত হাদিস যে নবী (সা.) বলেছেন: “আমরা নবীগণ কোনো উত্তরাধিকার রেখে যাই না, আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সদকা।” আবু বকর এই প্রমাণিত হাদিসের ভিত্তিতেই কাজ করেছিলেন। আহলুস সুন্নাহ ফাদাক-এর বিরোধকে ফাতিমার ওপর অত্যাচারের ঘটনা হিসেবে গণ্য করে না, এবং এটি এভাবে উপস্থাপন করা — যেমনটি এই খামেনেয়ী বইতে করেছে তা আহলুস সুন্নাহর বিশ্বাসের পরিপন্থী এবং আবু বকর আল-সিদ্দিকের ওপর একটি পরোক্ষ আক্রমণ গঠন করে।

আলী খামেইনী শিয়াদের বানোয়াট কিচ্ছাকাহিনী দ্বারা কুরাইশ গোত্রীয় নেতৃত্ব কর্তৃক (যা প্রথম খলিফার চক্র) ফাতিমার ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ এনেছে:

باليوم التالي لوفاة الرسول الأعظم، وبينما كان بيت فاطمة بنت محمد غاصاً بالمعزين الذين جاؤوا لتقديم التعازي بوفاة الرسول الأعظم، صممت زعامة بطون قريش أن تحرق بيت فاطمة بنت رسول الله على من فيه، وفيه علي بن أبي طالب وفاطمة والحسن والحسين والعباس وطائفة من الأنصار والمهاجرين وأحضرت سرية عسكرية لهذه الغاية، وطلبت من الموجودين في داخل منزل الزهراء ، أن يخرجوا من البيت ويبايعوا، وإلا فإن السرية التي أرسلها الخليفة بقيادة نائبه ستحرق البيت على من فيه، وتحرقهم وهم أحياء !!

মহান রাসুলের (সা.) ইন্তেকালের পরের দিন, এবং যখন মুহাম্মদ (সা.)-এর কন্যা ফাতিমার ঘর শোকাহতদের পদভারে গমগম করছিল, যারা মহান রাসুলের ইন্তেকালে শোক জানাতে এসেছিলেন, তখন কুরাইশ গোত্রীয় নেতৃত্ব ফাতিমা বিনতে রাসুলুল্লাহর ঘর তার ভিতরে যারা আছে তাদেরসহ জ্বালিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। ঘরের ভিতরে ছিলেন আলী ইবনে আবি তালিব, ফাতিমা, হাসান, হুসাইন, আব্বাস এবং আনসার ও মুহাজিরদের একটি দল। এই উদ্দেশ্যে একটি সামরিক বাহিনী প্রস্তুত করা হলো। ঘরের ভিতরে উপস্থিতদের বের হয়ে এসে বাইয়াত করার দাবি জানানো হলো। অন্যথায়, খলিফা কর্তৃক তার প্রতিনিধির নেতৃত্বে প্রেরিত এই বাহিনী ঘরটিকে তার ভিতরে যারা আছে তাদেরসহ জ্বালিয়ে দেবে এবং তাদেরকে জীবন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে ফেলবে !![61]ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৬-৩৬৭ পৃষ্ঠা

 

এই বর্ণনাটি, যা কিছু দুর্বল সনদে বর্ণিত, তা প্রত্যাখ্যাত। খামেনী বইটিতে এটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করেছে। আহলে সুন্নাত বিশ্বাস করে না যে আবু বকর (রা.) ফাতিমা (রা.)-এর বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আহলুস সুন্নাহ একমত যে এই গল্পটি বানোয়াট।

 

যিন্দিক আলী খামেনী আরো দুস্পর্ধা করে লিখেছে:

لقد قررت بطون قريش : أن تحرم أهل بيت النبوة من تركة النبي وتصادرها، وأن تحرم أهل بيت النبوة من المنح التي منحها إياهم رسول الله حال حياته، وأن تصادرها، وأن تحرمهم من حقهم في الخمس الوارد في القرآن الكريم، فاحتج أهل بيت النبوة، ولم يصغ أحد لاحتجاجهم، فذهبت الزهراء بنفسها وطرحت ظلامتها أمام وجهاء المهاجرين والأنصار، وأقامت الحجة على الجميع، فأصر الخليفة على رأيه، ولم يدافع عنها أحد من الخواص والعوام، إنما تركوها تقف وحيدة مع زوجها وابنيها !!

নিশ্চয়ই কুরাইশ গোত্রসমূহ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল: নবুওয়াতের আহলে বাইতকে নবীর উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করবে এবং তা বাজেয়াপ্ত করবে। এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় আহলে বাইতকে যে অনুদান দিয়েছিলেন, তা থেকেও তাদের বঞ্চিত করবে এবং তা বাজেয়াপ্ত করবে। এবং কোরআনে বর্ণিত খুমস (পঞ্চমাংশ)-এর অধিকার থেকেও তাদের বঞ্চিত করবে। তখন আহলে বাইত প্রতিবাদ জানালেন, কিন্তু কেউ তাদের প্রতিবাদে কর্ণপাত করল না। তাই যাহরা (আ.) নিজেই বেরিয়ে পড়লেন এবং মুহাজির ও আনসারদের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে তার উপর জুলুমের কথা পেশ করলেন এবং সবার কাছে যুক্তি-প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করলেন। কিন্তু খলিফা নিজের মতের ওপর অনড় রইলেন এবং খাস (বিশিষ্ট) ও আম (সাধারণ) কেউই তার পক্ষে সমর্থন নিয়ে এগিয়ে এল না। বরং তারা তাকে একা দাঁড়িয়ে থাকতে ছেড়ে দিল শুধুমাত্র তার স্বামী ও দুই পুত্রসহ !![62]ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৭ পৃষ্ঠা

নবীর উত্তরাধিকার (বিশেষ করে ফাদাক) এর বিষয়টি সুপরিচিত। ইমাম বুখারী সহ আহলুস সুন্নাহর আলিমগণ লিপিবদ্ধ করেছেন যে আবু বকর (রা.) এই হাদিসের ভিত্তিতে কাজ করেছিলেন: “আমরা নবীগণ কোনো উত্তরাধিকার রেখে যাই না; আমরা যা কিছু রেখে যাই তা সদকা।” খামেনী আবু বকরের অবস্থানকে অপরাধমূলক বাজেয়াপ্তকরণ হিসেবে চিত্রিত করেছে, একটি বৈধভাবে ধারণকৃত ইজতিহাদী মতামত হিসেবে নয়, যা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত জ্যৈষ্ঠ সাহাবীর ন্যায়পরায়ণতার উপর প্রত্যক্ষ আক্রমণ।

মুমিনদের মামা মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)  এর উপর আলী খামেনেয়ীর নোংরা আক্রমণ

মুয়াবিয়া (রাঃ) সম্পর্কে তার মন্তব্যঃ

هذا الذي ارتكب ما ارتكب في حياته من أعمال خالف فيها كتاب الله وسنة رسوله وسار بالمسلمين بالإثم والعدوان يتوقع بهذه الطريقة أن ينال شفاعة الرسول!!

এই ব্যক্তি, যে তার জীবনে এরূপ এরূপ কাজ করেছে, যার মাধ্যমে সে আল্লাহর কিতাব ও তার রাসুলের সুন্নাতের পরিপন্থী কাজ করেছে এবং মুসলিমদের পাপ ও সীমালঙ্ঘনের পথে চালিত করেছে, সে কি এই পদ্ধতিতে আশা করে যে এই পদ্ধতিতে সে রাসুলের সুপারিশ লাভ করবে?!!

[63]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৬৫, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

মুআবিয়া বিন আবি সুফইয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহুর ব্যাপারে স্বয়ং নবী ﷺ-এর বিশেষ দুআ:

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمِيرَةَ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِمُعَاوِيَةَ: «اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا وَاهْدِ بِهِ»

বাংলা অনুবাদ:

আব্দুর রহমান ইবন আবি উমাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত — তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী ছিলেন — নবী ﷺ মুআবিয়ার জন্য দুআ করলেন: “হে আল্লাহ! তাকে পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত বানাও, এবং তার মাধ্যমে (মানুষকে) হেদায়েত দাও।”[64]জামে’ তিরমিযী ৩৮৪২, মানঃ হাসান (তিরমিযী); সহীহ (আলবানী, সিলসিলাতুস সহীহাহ … Continue reading)

ওযুর সময় নবী -এর নসীহত

আরবি মতন

عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ مُعَاوِيَةَ أَخَذَ الإِدَاوَةَ بَعْدَ أَبِي هُرَيْرَةَ يَتْبَعُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَا، فَرَفَعَ رَأْسَهُ إِلَيْهِ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ وَهُوَ يَتَوَضَّأُ، فَقَالَ: «يَا مُعَاوِيَةُ، إِنْ وُلِّيتَ أَمْرًا فَاتَّقِ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَاعْدِلْ»

قَالَ مُعَاوِيَةُ: فَمَا زِلْتُ أَظُنُّ أَنِّي مُبْتَلًى بِعَمَلٍ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، حَتَّى ابْتُلِيتُ

বাংলা অনুবাদ

ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ ইবনুল আস থেকে বর্ণিত — মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু হুরাইরার পরে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওযুর পানির পাত্র বহন করছিলেন। নবী ﷺ তার দিকে একবার বা দুইবার মাথা তুলে তাকালেন এবং বললেন:

“হে মুআবিয়া! যদি তুমি কোনো দায়িত্বে নিযুক্ত হও, তাহলে আল্লাহকে ভয় করো এবং ন্যায়বিচার করো।”

মুআবিয়া বললেন: “নবী ﷺ-এর এই কথার কারণে আমি সবসময় মনে করতাম যে আমি নিশ্চয়ই কোনো দায়িত্বে পরীক্ষিত হব — এবং শেষ পর্যন্ত তা হলোও।”[65]মুসনাদ আহমাদ ১৬৯৩৩

কাফির আলি খামেনেয়ী লিখেছেঃ

وفي حوار بين ابن عباس ومعاوية بشأن نهي معاوية عن التعامل مع القرآن، يقول ابن عباس:

أتنهانا عن قراءة القرآن؟ معاوية : لا . ابن عباس : أفتنهانا عن تأويله؟ معاوية: نعم. ويعود ابن عباس للسؤال مستنكرًا: نقرأه ولا نسأل عما عنى الله به؟ يجيبه معاوية بما يوحي بأنّ ابن عباس كان يقدّم القرآن بما يخالف هوى معاوية وهدفه في التخدير والتحميق: سل عن ذلك مَنْ يتأوّله على غير ما يتأوله أنت وأهل بيتك ! يجيبه ابن عباس: إنما أُنزل القرآن على أهل بيتي. أنسأل عنه آل أبي سفيان؟؟!!

لا يريد معاوية أن يرتفع الناس في مستوى فكرهم وفهمهم. ذلك لكي يحكم كيف شاء، ويفعل ما شاء، ولذلك نرى في قائمة أعماله قتل الصالحين من أمثال حجر بن عدي ورشيد الهجري ، وتعامله الفظيع مع أمثال ميثم التمار ” . وكل ذلك من أجل أن يحول دون تقدم المسيرة الإسلامية، ودون نموّ هذا الوليد (الإسلام) الذي لم يمض من عمره أكثر من عشرين سنة. كان يريد إيقاف المسيرة، بل أن تتخلّف هذه المسيرة.. ومحاولته لتخلّف المسيرة كانت تتلخص في مسخ أخلاق الناس، وهو داء ما كان بالإمكان معالجته بسهولة.

ইবনে আব্বাস ও মুয়াবিয়ার মধ্যে কোরআন তেলাওয়াত সম্পর্কে মুয়াবিয়ার নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এক সংলাপে ইবনে আব্বাস বলেন: আপনি কি আমাদের কোরআন তেলাওয়াত করতে নিষেধ করছেন? মুয়াবিয়া: না। ইবনে আব্বাস: তবে কি আপনি আমাদেরকে এর ব্যাখ্যা করতে নিষেধ করছেন? মুয়াবিয়া: হ্যাঁ। ইবনে আব্বাস আবার বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন করলেন: আমরা কি তা পড়ব অথচ আল্লাহ তা দিয়ে কী বুঝিয়েছেন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করব না? মুয়াবিয়া তাকে এমন ইঙ্গিতবাহী উত্তর দিল যা থেকে বোঝা যায় যে, ইবনে আব্বাস কোরআনকে এমনভাবে উপস্থাপন করছিলেন যা মুয়াবিয়ার খেয়াল-খুশি এবং জনগণকে বোকা বানানো ও স্তব্ধ করে রাখার লক্ষ্যের পরিপন্থী ছিল। মুয়াবিয়া বলল: এ সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো, যারা তুমি ও তোমার পরিবার যা বুঝ, তার বিপরীত বুঝে! ইবনে আব্বাস তাকে জবাব দিলেন: কোরআন তো আমার পরিবারের উপরই নাযিল হয়েছে। আমরা কি এ সম্পর্কে আবু সুফিয়ানের বংশধরদের জিজ্ঞাসা করব?!!

মুয়াবিয়া চান না যে লোকজন তাদের চিন্তা ও বোধগম্যতার স্তরে উন্নীত হোক। যাতে তিনি নিজের ইচ্ছামতো শাসন করতে পারেন এবং যা খুশি তা-ই করতে পারেন। তাই আমরা তার কর্মতালিকায় হুজর ইবনে আদি ও রশিদ হিজরির মতো নেককার লোকদের হত্যা দেখতে পাই, এবং মাইসাম তাম্মারের মতো ব্যক্তিদের প্রতি তার জঘন্য আচরণ দেখতে পাই। এসব কিছুই ছিল ইসলামি আন্দোলনের অগ্রগতি রোধ করার জন্য এবং এই নবজাতক (ইসলাম)-এর বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য, যার বয়স তখন বিশ বছরও অতিক্রম করেনি। তিনি এই আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, বরং এই আন্দোলন যেন পশ্চাৎপদ হয়ে যায় সেটাই কামনা করতেন। আর এই আন্দোলনকে পশ্চাৎপদ করে তোলার তার প্রচেষ্টা ছিল মূলত মানুষের নৈতিকতাকে বিকৃত করার মধ্যে নিহিত, আর এটি ছিল এমন এক ব্যাধি যা সহজে নিরাময়যোগ্য ছিল না।[66]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৭৩-৭৪, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

খামেনী আরো বলেছে:

النموذج الأول يتعلق بواقعة صفين»، فعندما تمكن جيش الإمام (ع) من الاستيلاء على معاوية، سارع الأعداء الى رفع المصاحف فوق الرماح و ما أن شاهد أصحاب علي (ع) القرآئين مرفوعة، دبت الفرقة و ظهر الإختلاف بينهم؛ لأن هذا الإجراء كان يعنى أن القرآن سيكون حكماً بيننا و بينكم، فأصاب بعض الأصحاب الزلزال وقالوا لا يصح محاربة القرآن الكريم لكن البعض الآخر قالوا بأن أساس الوقوف والتصدي لهؤلاء هو أنهم يحاربون و يعارضون القرآن الكريم في حين أنهم جاءوا بجلود القرآن و صورته الشكلية الظاهرية، في حين أنهم يمارسون حربهم مع روح القرآن،

প্রথম উদাহরণটি সিফফিনের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। যখন ইমাম (আ.)-এর বাহিনী মুয়াবিয়ার উপর বিজয় লাভের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেল, তখন শত্রুরা দ্রুত বর্শার ফলার উপর কোরআন উঠিয়ে দিল। আলী (আ.)-এর সঙ্গীদের মধ্যে যারা কোরআন উঁচুতে দেখতে পেল, তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলো এবং মতপার্থক্য দেখা দিল। কারণ এই পদক্ষেপের অর্থ ছিল যে, কোরআন আমাদের ও তোমাদের মধ্যে মধ্যস্থতা করবে। ফলে কিছু সঙ্গী ভীষণভাবে বিচলিত হয়ে পড়ল এবং বলল, পবিত্র কোরআনের সাথে যুদ্ধ করা সঠিক নয়। কিন্তু অপর একটি দল বলল, এদের মোকাবেলা ও প্রতিরোধ করার মূল কারণ হলো এরা কোরআনের চামড়া ও বাহ্যিক আকৃতিকে সামনে নিয়ে এসে কোরআনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে এবং প্রতিরোধ করছে, অথচ তারা তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে কোরআনের রূহের সাথে।[67]আল কুরআন কিতাবুল হাইয়্যাহ, ৬৯ পৃষ্ঠা, প্রকাশক: দারুল ওয়ালায়ি, বৈরত লেবানন … Continue reading

মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) নবী করীম (সা.)-এর একজন সাহাবী এবং আহলুস সুন্নাহর নিকট তিনি সম্মানিত। আহলুস সুন্নাহর অবস্থান  হলো এই যে, সাহাবীদের অভিসম্পাত বা নিন্দা করা উচিত নয়, এমনকি যারা সিফফিনের গৃহযুদ্ধে (ফিতনা) বিপরীত পক্ষে ছিলেন তাদেরও নয়। মুয়াবিয়াকে কেবলমাত্র একজন “পরাজিত করার শত্রু” হিসেবে আখ্যা দিয়ে কাফির খামেনেয়ী কাতিবুল ওহী মুয়াবিয়ার উপর আক্রমণ করে এই জঘন্য অপবাদ দিয়েছে যার সমন্ধে সয়ং নবী বলেছেনঃ “তুমি কিতাব ও হিসাব শিক্ষা দাও এবং আযাব থেকে রক্ষা করো”

আরবি মতন:

عَنْ شُرَيْحِ بْنِ عُبَيْدٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَا لِمُعَاوِيَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ:

«اللَّهُمَّ عَلِّمْهُ الْكِتَابَ وَالْحِسَابَ وَقِهِ الْعَذَابَ»

বাংলা অনুবাদ

শুরাইহ ইবন উবাইদ থেকে মুরসালভাবে বর্ণিত — রাসূলুল্লাহ ﷺ মুআবিয়া ইবন আবি সুফইয়ানের জন্য দুআ করলেন:

“হে আল্লাহ! তাকে কিতাব ও হিসাব শিক্ষা দাও, এবং তাকে আযাব থেকে রক্ষা করো।”[68]ফাযায়িলুস সাহাবাহ, ইমাম আহমাদ ২/৯১৪, শায়খ আলবানী বলেছেন: “وهذا أيضا إسناد شامي … Continue reading

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জবানিতে প্রশংসিত এই সাহাবির ব্যাপারে আলী খামেনেয়ী আরো কী মন্তব্য করেছে আসুন দেখিঃ

মুয়াবিয়া (রা:) এর শাসনামলকে কটাক্ষ করে খামেনেয়ী লিখেছে:

ان مدرسة الثورة التي أسسها الإمام تأبى أي نمط من الإسلام السفياني والمرواني، اسلام المراسم والمناسك الخاوية، الاسلام المسخر للتبر والقهر، وبالتالي الاسلام الذي تسيره أيدي القوى المغيرة على أرواح الشعوب، وتحتضن بكل شوق الاسلام القرآني والمحمدي اسلام العقيدة والجهاد الاسلامي المعادي للظالمين والعون للمظلومين الاسلام المقارع للفراعنة والقوارين وتدعو في خلاصة الأمر . الى الإسلام المحطم للجبابرة والمقيم لحكومة المستضعفين .

ইমাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবের চিন্তাধারা সুফিয়ানি ইসলাম ও মারওয়ানি ইসলামের যেকোনো ধরনকে প্রত্যাখ্যান করে—সেই ইসলাম যা শুধু আনুষ্ঠানিকতা ও খালি ধর্মীয় আচারে পরিণত হয়েছে, সেই ইসলাম যা তাবর ও জবরের জন্য ব্যবহৃত হয়, ফলে সেই ইসলাম যা জনগণের আত্মা লুণ্ঠনকারী শক্তির হাতে পরিচালিত হয়। আর এটি সাগ্রহে আলিঙ্গন করে কোরআনি ইসলাম ও মুহাম্মাদী ইসলামকে—সেই ইসলাম যা আকীদার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যা জালিমের বিরুদ্ধে ইসলামী জিহাদ ও মজলুমের সাহায্যকারী, সেই ইসলাম যা ফেরাউন ও কারুনদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এবং পরিশেষে এটি আহ্বান জানায় সেই ইসলামের দিকে যা জব্বারদের (অত্যাচারী শক্তিকে) ধ্বংস করে এবং মুস্তাজআফিনের (নিপীড়িতদের) সরকার প্রতিষ্ঠা করে।[69]আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ৩৫

“সুফিয়ানি ও মারওয়ানি ইসলাম” শব্দটি হলো মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) যিনি নবী করীম (সা.)-এর একজন সাহাবী এবং উমাইয়া বংশের প্রতি একটি প্রত্যক্ষভাবে সাম্প্রদায়িক অপমান। আহলুস সুন্নাহ মুয়াবিয়াকে একজন সাহাবী হিসেবে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত মনে করেন; তার বংশধরাকে মিথ্যা ইসলামের একটি মডেল হিসেবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা গভীরভাবে আপত্তিকর।

সে অতঃপর বলে:

واننا نجد المصلحين الاسلاميين والمفكرين الذين ثاروا في المائة والخمسين سنة الأخيرة بدوافع متعددة وحملوا لواء الثورة الاسلامية واحياء الفكر الاسلامي من أمثال السيد جمال الدين ومحمد اقبال والآخرين رغم ما حملوا من قداسة ثمينة غالية ابتلوا بنقص كبير في عملهم يتلخص في انهم بدلاً من اشعال ثورة اسلامية اكتفوا بدعوة اسلامية،

আর আমরা দেখতে পাই, গত একশ পঞ্চাশ বছরে ইসলামী সংস্কারক ও চিন্তাবিদগণ, যারা বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বিদ্রোহ করেছেন এবং ইসলামী বিপ্লব ও ইসলামী চিন্তার পুনরুজ্জীবনের পতাকা বহন করেছেন — যেমন সৈয়দ জামাল উদ্দীন, মুহাম্মদ ইকবাল এবং অন্যান্য — তাঁরা তাঁদের সাথে যে মূল্যবান পবিত্রতা বহন করেছিলেন তা সত্ত্বেও তাঁদের কর্মে একটি বিরাট ত্রুটির সম্মুখীন হয়েছিলেন, যা সংক্ষেপে এই যে, তারা ইসলামী বিপ্লব প্রজ্বলিত করার পরিবর্তে শুধুমাত্র ইসলামী দাওয়াতের মাধ্যমেই সন্তুষ্ট ছিলেন।[70]আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ৯৭

খামেইনী লিখেছে:

وأما الإمام الحسن المجتبى فقد كان قائد جيشه هو عبيد الله بن عباس»، وكما تعرفون فإنه هو الذي ذهب متخفياً بالليل إلى معاوية ـ الذي كان في الجبهة الأخرى – وتفاوض معه، ثم أخذ منه أموالاً، وترك موقعه في الجيش وانضم إلى معسكر الأعداء.

আর ইমাম হাসান মুজতবা (আ.)-এর বাহিনীর নেতা ছিলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস। আর তোমরা যেমন জান, সেই ব্যক্তিই রাতে গোপনে অপর পক্ষে থাকা মুয়াবিয়ার কাছে গিয়েছিল এবং তার সাথে আলোচনা করেছিল, তারপর তার কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেছিল এবং বাহিনীতে নিজের অবস্থান ছেড়ে দিয়ে শত্রু শিবিরে যোগ দিয়েছিল।[71]আল জাওযাতু উলামাউদ দীন আলা দ্বওয়ি ইরশাদাতি সামাহাতিল ক্বায়িদ, ১ম খণ্ড, ৯৮ … Continue reading

আহলুস সুন্নাহ সাধারণ নীতি হিসেবে আদালাত আস-সাহাবা (সমগ্র সাহাবীগণের বিশ্বস্ততা ও ন্যায়পরায়ণতা) ধারণ করে। যদিও নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা নিয়ে ঐতিহাসিক বিতর্ক রয়েছে, তবুও সাহাবীদেরকে বিশ্বাসঘাতক ও ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে চিত্রিত করার জন্য এমন বর্ণনা প্রদান করা — বিশেষ করে একটি প্রচারণামূলক রাজনৈতিক প্রসঙ্গে এটি ছিচকে রাফেযী চাল।

পুরো বই জুড়ে, মুয়াবিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে শত্রু এবং ইমাম হাসানের (রাদিয়াল্লাহু আনহু)- বাহিনীর বিশ্বাসঘাতকতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে যা স্পষ্টভাবে তাকে একজন অবৈধ শাসক হিসেবে চিত্রিত করে:

“সে রাতে গোপনে মুয়াবিয়ার কাছে গেল — যে অন্য শিবিরে ছিল”

মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নবী ﷺ-এর একজন সাহাবী, ওহি লেখক (কাতিব আল-ওয়াহি) হিসেবে গণ্য এবং — আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাথে রাজনৈতিক বিরোধ সত্ত্বেও একজন মুসলিম শাসক হিসেবে বিবেচিত, যার ব্যক্তিগত চরিত্র সম্পর্কে কোনো সমালোচনা করা হয় না। নবী ﷺ তার জন্য দোয়া করেছিলেন এবং বলেছিলেন: “আল্লাহুম্মা ইজ’আলহু হাদিয়ান মাহদিয়্যাও ওয়াহদি বিহি” (তিরমিজি)। এই বইয়ের পরিভাষায় প্রতিফলিত ধারাবাহিক রাফেজি প্রথা যা মুয়াবিয়াকে কোনো শর্ত ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রতিপক্ষ হিসেবে গণ্য করে।

খামেইনী মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে মুশরিকদের নেতা আখ্যায়িত করেছে। নাউযুবিল্লাহ।

بمعاوية بن أبي سفيان رأس الأحزاب والمشركين وابن هند آكلة الأكباد ، ذلك الأعور البطين الذي كان لسنين عديدة ذليل طريق الحق والهداية

মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান, যে ছিল দলবাজ ও মুশরিকদের প্রধান এবং হিন্দা কলিজা খেয়ো-র পুত্র, সেই কানা ও মোটা পেটওয়ালা ব্যক্তি, যে দীর্ঘ বছর ধরে ছিল সত্য ও হিদায়াতের পথের লাঞ্ছিত অনুসারী।[72]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ২৩১

মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) হলেন নবী করীম (সা.)-এর একজন সাহাবী, ওহীর লেখক। যদিও আহলুস সুন্নাহ সাহাবাদের গৃহযুদ্ধ (ফিতনা) স্বীকার করে তবে কেউই মুয়াবিয়াকে মুশরিক বা কাফির ঘোষণা করেন না। তাঁকে মুশরিক বলে অভিহিত করা একটি চরমপন্থী অবস্থান যা রাফেযী তাকফিরি মুরতাদ খামেনীর ধোঁকাবাজি।

একই পৃষ্ঠায় খামেইনী মুয়াবিয়া (রা:) এর সৈন্য শিবিরকে তাকফির করে লিখেছে:

ورسم البسمة على شفاه المنافقين والكافرين والمشركين

আর সে (মুয়াবিয়া) মুনাফিক, কাফির ও মুশরিকদের ঠোঁটে হাসি ফোটালো।[73]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ২৩১

মুয়াবিয়াকে “মুনাফিক ও কাফিরদের প্রধান” হিসেবে বর্ণনা করে — আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ পৃষ্ঠা ২৩১ এ (প্রসঙ্গের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে) মুসালকাহ ইবনে হুবায়রা মুয়াবিয়ার সাথে যোগ দেওয়ার বিষয়ে অনুচ্ছেদে, খামেইনী বলছে যে তার পক্ষত্যাগ “মুনাফিক, কাফির ও মুশরিকদের ঠোঁটে হাসি ফোটাল”:

«ورسم البسمة على شفاه المنافقين والكافرين والمشركين»

এটি মুয়াবিয়ার শিবিরকে মুনাফিক, কাফির ও মুশরিক হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে খামেইনী সাহাবাদের তাকফির করেছে। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। এই মুরতাদ খামেইনী সাহাবীদের প্রতি কতটা বিদ্বেষী ছিল চিন্তা করুন!!

খামেইনী লিখেছে:

أنتم تعرفون أنه في زمان أمير المؤمنين (ع) كان هناك أشخاص حاربوا علي بن أبي طالب (ع) الذي هو مظهر القرآن، بالاستناد إلى القرآن. وهؤلاء فسروا القرآن بشكل سيء.

আপনারা জানেন যে, আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর যুগে এমন কিছু লোক ছিল যারা কোরআনের ভিত্তিতে আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর সাথে যুদ্ধ করেছিল, অথচ তিনি ছিলেন কোরআনের মূর্ত প্রতীক। আর তারা কোরআনকে খুব খারাপভাবে ব্যাখ্যা করেছিল। [74]আরাউল ক্বায়িদ, ২০০ পৃষ্ঠা

খামেইনীর এই লেখাটি পরোক্ষভাবে সেই সাহাবীদের নিন্দা করে যারা আলী (রাদিআল্লাহু আনহু) এর বিরোধিতা করেছিলেন — যার মধ্যে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.), আয়েশা (রা.), তালহা ও যুবায়র (রা.) অন্তর্ভুক্ত — তাদেরকে এমন লোক হিসেবে চিহ্নিত করে যারা “কোরআনের সাথে যুদ্ধ করেছে” বা কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা করেছে, ফলে তাদেরকে সত্যের শত্রু বানিয়ে ফেলে। আহলুস সুন্নাহ বিশ্বাস করে যে এরা সকলেই সম্মানিত সাহাবী ছিলেন যারা তাদের বৈধ ইজতিহাদ প্রয়োগ করেছিলেন এবং সাহাবীদের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়ে সকল পক্ষের প্রতি সংযম ও সম্মানের সাথে আচরণ করা উচিত। এই কাঠামোটি নবী করীম (সা.)-এর সাহাবীদের প্রতি খামেনির রাফেজী বৈশিষ্ট্য বহন করে।

 

মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শিবিরে যেসব সাহাবী যুক্ত হয়েছিলেন তাদের ব্যাপারে আলী খামেনেয়ী লিখেছে:

بينما معاوية يظهر كشخص وضيع .. أما في تلك الأيام التي جرت فيها الحرب بين أمير المؤمنين عالسلام ومعاوية فقد كان هناك أشخاص من صحابة النبي ممن لا يزال يقاتل مع معاوية، ولعل بعضهم كان من المؤمنين من كان يظن بأنه يقوم بعمل جيد وصالح بحيث كان يقول : معاوية خال المؤمنين ففي ذلك الوقت كان الوعي والدقة أمراً مطلوباً بشدة، فمن كان يملك الوعي؟

অন্যদিকে, মুয়াবিয়া একজন হীন ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। আর সেই দিনগুলোতে যখন আমিরুল মুমিনিন (আ.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছিল, তখন নবী (সা.)-এর এমন কিছু সাহাবী ছিলেন যারা তখনও মুয়াবিয়ার পক্ষে যুদ্ধ করছিলেন। সম্ভবত তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈমানদারও ছিলেন, যারা মনে করতেন যে তারা ভালো ও সৎ কাজ করছেন। এমনকি তারা বলতেন: মুয়াবিয়া মুমিনদের খালু (মামা)। সেসময় সচেতনতা ও সূক্ষ্মদর্শিতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। কে সে সচেতনতা রাখত?। [75]আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৭

 

খামেনেয়ী এখানে বিদ্রূপের সুরে বলছে যে যারা মুয়াবিয়া (রা.)-কে একজন বৈধ নেতা মনে করত তারা কেবল অজ্ঞ বা পথভ্রষ্ট ছিল।

আহলে সুন্নাত ফিতনার সময় মুয়াবিয়া (রা.)-এর পক্ষে থাকা সাহাবীদের নিন্দা করেন না, কারণ অনেক মহান সাহাবী সেই পক্ষে ছিলেন এবং তারা ইজতিহাদ করেছিলেন। আহলুস সুন্নাহ মনে করে, এই গৃহযুদ্ধের উভয় পক্ষই মুসলিম ছিল এবং আমরা কোনো পক্ষকেই নিন্দা করি না। যারা মুয়াবিয়াকে “মুমিনদের মামা” বলত তাদের উপহাস করা পরোক্ষভাবে তার একজন সাহাবী এবং নবী (সা.)-এর আত্মীয় হিসেবে মর্যাদার ওপর খামেনেয়ীর নোংরা আক্রমণ।

 

কাফির আলী খামেনেয়ী লিখেছে:

فنرى معاوية وعمرو بن العاص المتنافسين والمتخالفين مع بعضهما، يقفان جنباً إلى جنب المواجهة علي

অতএব আমরা দেখতে পাই, মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আস, যারা পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী ও মতানৈক্যপূর্ণ ছিল, তারা আলীর মোকাবিলায় এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়।[76]আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৪

 

খামেনেয়ী মুয়াবিয়া ও আমর ইবনুল আস (রা.)-কে ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক সুযোগসন্ধানী হিসেবে উপস্থাপন করেছে, পরোক্ষভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত চরিত্রের অধিকারী।

 

কাফির আলী খামেনেয়ী আরেক যিন্দিক রুহুল্লাহ খোমেইনির জীবনির বইতে বনু উমাইয়্যাহ এর সকলকে লানত করে জাহান্নামী বলেছে:

وتعلمون أن لعن بني أمية لعنة الله عليهم ورفع الصوت باستنكار ظلمهم – مع أنهم انقرضوا وولوا إلى جهنم – هو صرخة ضد الظالمين في العالم، وإبقاء لهذه الصرخة المحطمة للظلم نابضة بالحياة.

আর তোমরা জান যে, বনু উমাইয়াকে অভিশাপ দেওয়া (আল্লাহর অভিশাপ তাদের ওপর) এবং তাদের জুলুমের প্রতিবাদে উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ তোলা, যদিও তারা বিলীন হয়ে গেছে এবং জাহান্নামে পৌঁছে গেছে, তা বিশ্বের জালিমদের বিরুদ্ধে এক চিৎকার এবং জুলুম ধ্বংসকারী এই চিৎকারকে চিরঞ্জীব রাখা। [77]তারীখুল ইমামিল খোমেইনী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪০

আহলুস সুন্নাহ মনে করেন যে নির্দিষ্ট মৃত ব্যক্তিদের অভিশাপ দেওয়া এমনকি যদি তারা অত্যাচারীও হয় ইসলামে বিধিবদ্ধ নয়। নবী (সা.) নির্দিষ্টভাবে ব্যক্তিদের অভিশাপ দিতে নিষেধ করেছেন। বনু উমাইয়ার অনেক সদস্য ছিলেন নবী (সা.)-এর সাহাবী (যেমন উসমান ইবনে আফফান ও মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.)), এবং আহলে সুন্নাত এই মত পোষণ করে যে সাহাবীদের সম্মান করতে হবে এবং তাদের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়ে রায় দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

খামেইনী শয়তান সাহাবা উসমান ও মুয়াবিয়া তথা বনু উমাইয়্যাহ কে আমভাবে লানত করছে। নাউযুবিল্লাহ।

সে সরাসরি চরিত্রায়িত করছে যে, যারা মুয়াবিয়া (রা.)-এর পক্ষ নিয়েছিল, তারা ছিল ভীরু মানুষ, শুধুমাত্র ভয়ের বশবর্তী হয়ে সত্য থেকে দূরে সরে গিয়েছিল।

حين أتأمل في حياة البشرية قديمها وحديثها أرى أن الخوف عامل ضياع دنيا الناس

وآخرتهم. الخوف من الفقر يؤدي إلى شح النفس وعدم الإنفاق، الخوف من انتهاء أيام

العمر والطمع في البقاء لأيام أكثر قد يؤدي إلى فناء حياة كثيرين، وإلى شقاء الحياة البشرية.

حين نطالع المآسي والجرائم في حياة البشر، حين ندرس سبب قلة أنصار الحق، وإعراض الناس عن الحق حتى بعد أن عرفوه ، نرى أن جذور كل ذلك تكمن غالبًا في الخوف.

لقد واجهت المسيرة الإسلامية في تاريخها انحرافات كان وراءها الابتعاد عن الموقف

الرسالي بسبب عامل الخوف. كان المسلمون في القرن الأول على علم بشخصية علي بن أبي طالب(ع) وبشخصية معاوية بن أبي سفيان. فما الذي ألجأ من لجأ إلى معاوية ليحارب عليا؟ إنه الخوف من الذي ألجأ جماعة من الناس ليكونوا متملّقين لسلطان بني أمية وبني مروان؟ إنه الخوف.

যখন আমি মানবজাতির জীবন নিয়ে চিন্তা করি, পুরাতন ও নতুন যুগের দিকে তাকাই, তখন আমি দেখতে পাই যে ভয়ই মানুষের দুনিয়া ও আখিরাতের ধ্বংসের মূল কারণ। দারিদ্র্যের ভয় মানুষের মনে কৃপণতা সৃষ্টি করে এবং দান-খয়রাত থেকে বিরত রাখে। আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় এবং আরও কিছুদিন বেঁচে থাকার লোভ অনেকের জীবনকে ধ্বংস করে দেয় এবং মানবজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। আমরা যখন মানবজীবনের ট্র্যাজেডি ও অপরাধগুলো পর্যবেক্ষণ করি, যখন আমরা অধ্যয়ন করি কেন সত্যের সমর্থক কম হয় এবং মানুষ সত্যকে চেনার পরও তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তখন আমরা দেখতে পাই যে এসবের মূলে রয়েছে ভয়।

ইসলামের ইতিহাসে যে সকল বিপথগামীতা দেখা দিয়েছে, তার পিছনে ছিল ভয়ের কারণে রিসালাতের ভিত্তিক মনোভাব থেকে সরে আসা। প্রথম শতাব্দীর মুসলমানরা আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর চরিত্র সম্পর্কে এবং অপরদিকে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের চরিত্র সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। তাহলে কী কারণে কিছু লোক আলীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মুয়াবিয়ার শরণাপন্ন হয়েছিল? তা ছিল ভয়। আর কী কারণে একদল লোক উমাইয়া ও মারওয়ানি শাসকদের তোষামোদ করতে উদ্যত হয়েছিল? তাও ছিল ভয়।[78]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৫০, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

একই পৃষ্ঠায় সে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-কে নিন্দা করেছেন, ইঙ্গিত করেছেন যে তিনি একজন কাপুরুষ ছিলেন এবং আলীর কাছে বাইয়াত না করার কারণে তিনি কলঙ্কিত হয়েছিলেন, আর পরে নিজেই হাজ্জাজের কাছে গিয়ে তার পদতলে বাইয়াত করে নিজেকে অপদস্থ করেছিলেন:

هذا الخوف شمل من كان عارفًا بطبيعة الاختلاف بين علي و معاوية، لكنه عزف عن مبايعة علي، بحجة انبهام الموقف وغموض طبيعة هذا الاختلاف”

٢ـ إشارة إلى عبدالله بن عمر. انظر تاريخ الطبري، وطبقات ابن سعد وغيرهما من أمهات مصادر التاريخ.

এই ভয় এমন একজনকেও গ্রাস করেছিল যিনি আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যে পার্থক্যের প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত ছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল এবং এই পার্থক্যের প্রকৃতি অস্পষ্ট হওয়ার অজুহাতে আলীর কাছে বাইয়াত করা থেকে বিরত ছিলেন।

(২) — আবদুল্লাহ ইবনে উমরের প্রতি ইঙ্গিত। দেখুন: তারিখে তাবারি, তাবাকাতে ইবনে সা’দ এবং ইতিহাসের অন্যান্য প্রধান সূত্র।[79]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৫০, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

তিনি একটি সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন রায় দিয়েছেন যে, আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার দ্বন্দ্ব ছিল খাঁটি সত্য ও খাঁটি মিথ্যার মধ্যকার একটি সংঘাত।

وغادر إلى مناطق الثغور كي لا يتورط ـ كما يدعي ـ في قتل المسلمين!! إنه في الواقع حبّ العافية والخلود إلى الراحة. إذ إن طبيعة الاصطفاف بين الجبهتين (جبهة علي وجبهة معاوية) كانت واضحة كل الوضوح بأنها مواجهة بين الحق والباطل. هؤلاء كانوا على معرفة بطبيعة المواجهة بين الجيشين، مع ذلك فقد تركوا جبهة الحق، ومن لم يكن مع الحق فإنه مع الباطل لا محالة. المواجهة بين علي ومعاوية لم تكن من نوع تلك المواجهات التي تحدث بين الجبهات المتصارعة على مراكز القدرة والقوة والسيطرة. إنها مواجهة بين الحق والباطل بامتياز، ومن لم يكن مع الحق فهو مع الباطل، وإن لم يلتحق بجبهة الباطل، حتى وإن كان قد اختار موقعًا يحسب أنه بين الحق والباطل. إنه موقع طالبي العافية والمهزوزين

এবং তিনি নিজের দাবি অনুযায়ী, মুসলিম হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া এড়াতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলে গিয়েছিলেন!! আসলে তা ছিল আরাম-আয়েশ পছন্দ করা এবং নিরাপত্তার প্রতি আসক্তি। কারণ দুটি শিবিরের (আলীর শিবির ও মুয়াবিয়ার শিবির) মধ্যে অবস্থান গ্রহণের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল যে এটি ছিল হক ও বাতিলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব। তারা উভয় বাহিনীর মধ্যকার এই দ্বন্দ্বের প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত ছিল, তারপরও তারা হকের শিবির ত্যাগ করেছিল, আর যে হকের পক্ষে নয়, সে নিঃসন্দেহে বাতিলের পক্ষে। আলী ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার এই দ্বন্দ্ব সেসব দ্বন্দ্বের মতো ছিল না যা ক্ষমতা, শক্তি ও কর্তৃত্বের কেন্দ্র নিয়ে সংগ্রামরত শিবিরগুলোর মধ্যে ঘটে থাকে। এটি ছিল পরিপূর্ণভাবে হক ও বাতিলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব, আর যে হকের পক্ষে নয়, সে বাতিলের পক্ষে, এমনকি যদি সে বাতিলের শিবিরেও যোগ না দেয়, এমনকি যদি সে নিজের জন্য এমন একটি অবস্থানও বেছে নেয় যাকে সে হক ও বাতিলের মধ্যবর্তী মনে করে। এটি হলো আরাম-আয়েশপ্রিয় ও দোদুল্যমান মানসিকতার লোকদের অবস্থান। [80]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৪৪, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

যিন্দিক আলী খামেনী ব্যাপকভাবে সাহাবাদের সেই দলটির নিন্দা করে তাদের “আল-কায়িদুন” নামে অভিহিত করেছে যারা গৃহযুদ্ধের সময় কোনো পক্ষেই যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেছিল, তাদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে উমর, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আবু মুসা আল-আশআরি এবং অন্যান্যরা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) অন্তর্ভুক্ত:

لكنهم لم يمدوا له يد البيعة وفي أشد أيام الصراع بين الامام والفئة الباغية كان حضورهم في الساحة واجباً ولكن مع الاسف وجدناهم التزموا الصمت واصبح كل واحد منهم جليس داره ولم يكتفوا بذلك بل أخذوا يمنعون الناس من الالتفاف حول قيادة الامام وصاروا حجر عثرة في طريق الاصلاحات التي يقوم بها الامام ، وقد ظلت ، تلك المواقف السلبية تجاه حكومة الامام قائمة في ذاكرة التاريخ ، ولو سألهم سائل عن سبب قعودهم يقولون كن عبد الله المقتول ولا تكن عبد الله القاتل ومعنى ذلك انهم يدعون الى ترك الجهاد الواجب والالتجاء الى الصلح ومداراة الخواطر في دفع اخطار الفتنة ، وقد ظلت هذه الشبهة التي احدثها هؤلاء معلقة باذهان القبائل في الحجاز وأمتدت الى اطراف الدولة الاسلامية في العصور القادمة .

কিন্তু তারা তার (আলীর) হাতে বাইয়াতের হাত বাড়ায়নি। ইমাম ও বিদ্রোহী দলের মধ্যে সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র দিনগুলোতে তাদের উপস্থিতি অপরিহার্য ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা দেখতে পাই তারা নীরবতা অবলম্বন করল এবং তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ ঘরের কোণে বন্দী হয়ে রইল। শুধু তাই নয়, বরং তারা লোকদেরকে ইমামের নেতৃত্বের চারপাশে সমবেত হতে বাধা দিতে শুরু করল এবং ইমামের সংস্কার পথের অন্তরায়ে পরিণত হলো। ইমামের সরকারের প্রতি এই নেতিবাচক মনোভাব ইতিহাসের স্মৃতিতে চিরকাল জ্বলজ্বল করে রইল। যদি কেউ তাদেরকে বসে থাকার কারণ জিজ্ঞাসা করত, তারা বলত: “নিহত আব্দুল্লাহ হও, খুনি আব্দুল্লাহ হয়ো না।” এর অর্থ হলো তারা ওয়াজিব জিহাদ পরিত্যাগ করার এবং ফিতনার বিপদ মোকাবেলায় সন্ধি ও মন রক্ষার পন্থা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছিল। তাদের দ্বারা সৃষ্ট এই সন্দেহ হিজাজের গোত্রগুলোর মনে দীর্ঘস্থায়ী হয়েছিল এবং পরবর্তী যুগে ইসলামী রাষ্ট্রের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল।[81]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৯

হাদিসে স্পষ্টভাবে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে যারা ফিতনা থেকে দূরে ছিলেন। নবী (সা.) বলেছেন: “শীঘ্রই ফিতনা হবে; তাতে উপবিষ্ট ব্যক্তি দণ্ডায়মান ব্যক্তি থেকে উত্তম।” আবদুল্লাহ ইবনে উমরের নিরপেক্ষতা বিশেষভাবে আহলুস সুন্নাহর দ্বারা মুসলমানদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সময় সঠিক ইসলামী অবস্থান হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। রাদিয়াল্লাহু আনহু।

তিনি মুয়াবিয়া (রা.)-কে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করেছেন যিনি কোরআন ও ধর্মকে জনগণের উপর অত্যাচার চালানো এবং তাদের বুদ্ধিকে দমনের জন্য নিছক রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

معاوية بن أبي سفيان كان يلجأ إلى المصحف متى ما اقتضت مصلحته ذلك، وكلكم تعرفون قضية رفع المصاحف على الرماح في صفين، بل كان أيضًا يستخدم فرائض الدين مصلحيًا ويؤم الناس في الصلاة، وأكثر من ذلك كان لا يأبى مصلحيًا أن يذكر فضائل أمير المؤمنين علي بن أبي طالب (ع)، فيطلب الوافد عليه الأمان فيما إذا ذكر هذه الخصال، فيعطيه الأمان، ويبدأ الوافد بذكر فضائل الإمام ومعاوية يؤيده!! يريد بذلك أن يستقطب عواطف الجماهير الموالية لأمير المؤمنين.

মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান যখনই তার স্বার্থ চাপা পড়ার উপক্রম হতো, তখনই তিনি কোরআনের আশ্রয় নিতেন। সিফফিনের যুদ্ধে বর্শার ফলায় কোরআন উঁচু করে ধরার ঘটনা আপনারা সবাই জানেন। বরং তিনি ধর্মের ফরজ বিধানগুলোকেও নিজ স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার বানিয়েছিলেন এবং লোকদের নিয়ে নামাজ পড়াতেন। এর চেয়েও বেশি কিছু ছিল, তিনি স্বার্থের খাতিরে আমিরুল মুমিনিন আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর গুণগান করতেও দ্বিধা বোধ করতেন না। যখন তাঁর কাছে আগত কেউ নিরাপত্তা চেয়ে নিয়ে আলীর গুণাবলি বর্ণনা করতে চাইত, তিনি তাকে নিরাপত্তা দিতেন। অতঃপর আগন্তুক ইমামের গুণাবলি বর্ণনা করতে শুরু করত, আর মুয়াবিয়া তা সমর্থন করতেন!! এর মাধ্যমে তিনি আমিরুল মুমিনিনের অনুসারী জনতার মন জয় করতে চেয়েছিলেন।[82]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৭২, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

 

তিনি মুগিরা ইবনে শুবা ও যিয়াদ ইবনে আবিহিকে তাদের মধ্যে গণ্য করেছেন যারা মুয়াবিয়ার জন্য খারাপ কাজগুলোকে শোভনীয় করে তুলেছিল এবং তার চক্রান্তের দুর্নীতিগ্রস্ত অংশ হিসেবে কাজ করেছিল।

هامان قزم حوّله فرعون إلى رجل كبير، إنه ذبابة جعل منها فرعون نسرًا. ومَثَلهم في دائرة معاوية كمثل المغيرة بن شعبة” وزياد بن أبيه”، هؤلاء من

الملأ الذين زينوا لمعاوية أعماله، وصور وا له أن الدنيا طوع يديه، وكل الناس له منصاعون. وعبر القرآن عن طبقة الأشراف بالمترفين وهم الذين أبطرتهم النعمة وسعة العيش. وهؤلاء أول من يعارض الدعوة النبوية.

 

হামান ছিল একটি বামন, যাকে ফেরাউন বড় মানুষে পরিণত করেছিল। সে ছিল একটি মাছি, যাকে ফেরাউন ঈগল বানিয়েছিল। আর মুয়াবিয়ার দরবারে তাদের উদাহরণ ছিল মুগিরা ইবনে শুবা এবং যিয়াদ ইবনে আবিহির মতো। এরাই ছিল সেই পরিষদবর্গ, যারা মুয়াবিয়ার জন্য তার (অনৈতিক) কর্মকাণ্ডকে শোভনীয় করে তুলেছিল এবং তার কাছে এটা চিত্রিত করেছিল যে দুনিয়া তার হাতের মুঠোয় এবং সকল মানুষ তার আজ্ঞাবহ। আর কোরআনে অভিজাত শ্রেণিকে ‘মুতরাফিন’ (বিলাসী সম্প্রদায়) বলে অভিহিত করা হয়েছে, যারা ছিল স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রশস্ত জীবনের কারণে ঔদ্ধত্যপ্রাপ্ত। তারাই সর্বপ্রথম নবুওয়াতী দাওয়াতের বিরোধিতা করে।[83]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২১৩, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

সাহাবী তালহা এবং যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর উপর আলী খামেনেয়ীর আক্রমণ

খামেইনী সাহাবী তালহা এবং যুবায়ের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) কে আক্রমণ করে লিখেছে:

وهكذا كانت نهاية هذين الصحابيين الذين كانا لهما قصب السبق في الهجرة ايام رسول الله له حتى حصل طلحة على لقب (طلحة الخير ) والزبير (سيف الاسلام) لكن سوء العاقبة ومصارع السوء أوصلتهما الى هذه النهاية فاصبحا عبرة للمعتبرين

আর এভাবেই ছিল এই দুই সাহাবীর পরিণতি, যাঁদের রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে হিজরতের ক্ষেত্রে অগ্রগামিতার গৌরব ছিল। এমনকি তালহা ‘তালহাতুল খায়ের’ (কল্যাণের তালহা) এবং যুবায়র ‘সাইফুল ইসলাম’ (ইসলামের তরবারি) উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। কিন্তু শোচনীয় পরিণতি ও মন্দ মৃত্যুস্থল তাদেরকে এই শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসে, ফলে তারা শিক্ষাগ্রহণকারীদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।[84]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৭২

যদিও আহলুস সুন্নাহ স্বীকার করেন যে তালহা ও যুবায়র জামালের যুদ্ধে ভুল পক্ষে ছিলেন এবং আলী সঠিক ছিলেন, তবুও তারা এই দুই সাহাবীকে মহান গুণাবলীর অধিকারী জ্যেষ্ঠ সাহাবী হিসেবে গণ্য করেন, যারা তাদের ইজতিহাদের জন্য ক্ষমাপ্রাপ্ত। তাদের মৃত্যু সম্পর্কে উপহাসমূলক ও অবজ্ঞাসূচক সুর সাহাবীদের সম্মান করার আহলুস সুন্নাহর মানহাজ পরিপন্থী এবং কুফর।

সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও এবং আবু মুসা আশআরী (রাদিআল্লাহু আনহুমা) এর উপর আলী খামেনেয়ীর নোংরা আক্রমণ

সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উপর খামেইনীর আক্রমণ করে লিখেছে:

وبعد ان قام معاوية باغتصاب الخلافة ذهب الى المدينة المنورة وقد رآه سعد بن ابي وقاص في احدى المجالس يطعن بالامام فأخذ سعد يذكر فضائل الامام علي فلعنه معاوية وقال له لو كنت أعلم من فضل علي ما علمت لما تخليت عنه) ، ألم تشهد هذه المجموعة من الخواص تلك البيعة الحرة التي قام بها طلحة والزبير لعلي ومن ثم قيامهما بنقض تلك البيعة بشكل علني ؟ !

نعم ، انهم يعرفون علي ومنزلته وفضائله في القرآن وفي احاديث الرسول الله لكن حب الدنيا وزخارفها حال بينهم وبين الاعتراف بالحقيقة . وقد التفت معاوية الى نقطة مهمة وهي وجود بعض الصحابة في المدينة ممن اعرضوا عن الامام وتخلوا عنه فقرر استمالتهم الى جانبه فاخذ يكتب الرسائل اليهم ومن جملة أولئك سعد بن ابي وقاص الذي وعده بالخلافةচ

আর মুয়াবিয়া যখন খিলাফত দখল করে নিল, তখন সে মদিনায় গেল। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস তাকে এক মজলিসে ইমাম (আলী)-এর নিন্দা করতে দেখল। তখন সাদ ইমাম আলীর গুণাবলি উল্লেখ করতে শুরু করল। মুয়াবিয়া তাকে অভিশাপ দিল এবং বলল: “আলীর যত গুণ তুমি জান, আমি যদি তত গুণ জানতাম তবে আমি কখনো তার থেকে বিচ্ছিন্ন হতাম না?” এই বিশেষ ব্যক্তিবর্গের দল কি সেই স্বাধীন বাইয়াত প্রত্যক্ষ করেনি যা তালহা ও যুবায়র আলীর জন্য করেছিল এবং অতঃপর তারা প্রকাশ্যে সেই বাইয়াত ভঙ্গ করেছিল?

হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তারা আলীকে এবং কোরআন ও রাসূলের হাদীসে তার মর্যাদা ও গুণাবলি জানে। কিন্তু দুনিয়াপ্রীতি ও তার সৌন্দর্য তাদের এবং সত্য স্বীকার করার মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মুয়াবিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ্য করেছিল, তা হলো মদিনায় কিছু সাহাবীর উপস্থিতি যারা ইমাম থেকে বিমুখ হয়েছিল এবং তাকে ত্যাগ করেছিল। তাই সে তাদের নিজের পক্ষে টানার সিদ্ধান্ত নিল এবং তাদের কাছে পত্র লিখতে শুরু করল। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, যাকে সে খিলাফতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।[85]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৭-৬৮

সা’দ বিন আবি ওয়াক্কাস ও মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শিবিরের সকলকে ইজতিহাদী ভুলের জন্য খামেইনী দুনিয়া পূজারী ও সত্য বিমুখ বলে আখ্যায়িত করেছে যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ বলেছেন যে তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। প্রশ্ন হলো আল্লাহ্ যিনি ভবিষ্যত জানেন, তিনি কি মুহাজির ও আনসার সাহাবাদের সত্যবিমুখ জেনে তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আয়াত নাজিল করলেন? খামেইনী রাফেযী ও কুরআনের শিক্ষা দুই মেরুতে অবস্থানরত। সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস যিনি আল আশআরাহ আল মুবাশশারুন (জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী) এর অন্তর্ভুক্ত তার সমন্ধে খামেইনী রাফেযী এই দুস্পর্ধামূলক ভাষা প্রয়োগ করেছে।

খামেনেয়ী লিখেছে:

ويرى حسين مروة أن موقف بعض الصحابة من أمثال سعد بن أبي وقاص وأسامة بن زيد الذين وقفوا على الحياد فرفضوا أن ينصروا عليا كما رفضوا أن يقاتلوه، بالرغم من حياديته الظاهرة إلا أنه في نهاية المطاف موقف سياسي

হোসাইন মুরোয়া মনে করেন যে, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ও উসামা ইবনে যায়েদের মতো কিছু সাহাবীর অবস্থান, যারা নিরপেক্ষ ছিলেন এবং আলীকে সাহায্য করতেও অস্বীকৃতি জানান ও তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতেও অস্বীকৃতি জানান, তা বাহ্যিক নিরপেক্ষতা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত একটি রাজনৈতিক অবস্থান।[86]আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৫২

খামেইনী মার্কসবাদী-বস্তুবাদী পণ্ডিত হোসাইন মুরোয়াকে উদ্ধৃত করেছে, তার কাঠামো ব্যবহার করে সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ও উসামা ইবনে যায়েদ—নবী (সা.) কর্তৃক স্পষ্টভাবে প্রশংসিত দুই সম্ভ্রান্ত সাহাবী—কে গৃহযুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার জন্য নিন্দা করেছে। তাদের ইজতিহাদ (যাকে আহলুস সুন্নাহ বৈধ বলে মনে করেন) এখানে প্রকৃত ধর্মীয় ইজতিহাদি যুক্তির পরিবর্তে একটি “রাজনৈতিক অবস্থান” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আহলুস সর্বসম্মতভাবে ধারণা করে যে ফিতনায় নিরপেক্ষ সাহাবীগণ ক্ষমাপ্রাপ্ত ও সম্মানিত।

সে সাদ বিন ওয়াক্কাস ও আবু সাঈদ আল আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহুমা কে নিয়ে আরো লিখেছে:

كان سعيد بن العاص من بني أمية ومن أقارب عثمان. وقد تولى بعد الوليد بن عقبة بن أبي معيط – والوليد هو الشخص الذي شاهد تم مقتطفات من حياته في المسلسل التفلزيوني : الامام علي ، والذي وقع مقتل الساحر في محضره ليصلح ما كان قد أفسده الوليد . قال ذات يوم رجل في مجلسه : «ما أجود طلحة» ولا بد ان طلحة كان قد وهب أحداً مالاً أو تكرّم على شخص : فقال سعيد : (ان من له مثل النشاستج الحقيق ان يكون جواداً وكانت النشاستج ضيعة كبيرة قرب الكوفة يملكها صحابي الرسول طلحة بن عبد الله الذي كان يعيش حينذاك في المدينة. ثم أردف قائلاً: والله لو أن لي مثله لا عاشكم الله عيشاً رغداً). قارنوا بين هذا الوضع وبين حالة الزهد في عهد رسول الله الله والفترة الاولى من بعد رحيله ولاحظوا طبيعة الحياة التي كان يعيشها الأكابر والامراء والصحابة في تلك السنوات وكيف كانوا ينظرون الى الدنيا .

لقد وصلت الامور الى هذا الحد من بعد مضي عشر أو خمس عشرة سنة فقط !

المثال الآخر هو أبو موسى الاشعري والي البصرة – وهو الاشعري صاحب الموقف الشهير في قضية التحكيم – فقد صعد المنبر ذات يوم حينما كان والياً على البصرة . كان الناس يستعدون لاحدى الغزوات .. فنادى في الناس وحثهم على الجهاد وذكر شيئاً في فضل الجهاد ماشياً، فترك نفر دوابهم وأجمعوا ان يخرجوا رجالة طمعاً في الثواب . فحملوا على فرسهم) أي طردوها من امام عيونهم لانها تحرمهم من الثواب إلا ان جماعة آخرين من العقلاء فضلوا التأمل ومشاهدة حقائق الامور وقالوا لا تعجل في شيء حتى ننظر ما يصنع؛ فان أشبه قوله فعله ، فعلنا كما يفعل .

جاء في نص عبارة ابن الاثير في هذا الصدد: (فلما خرج أخرج ثقله من قصره على اربعين بغلاً كانت تلك ممتلكاته الثمينة وكان مضطراً الى اصطحابها حيثما حل وارتحل وحتى في ميادين الجهاد وسبب ذلك انه لم تكن ثمة مصارف أو بنوك في ذلك العصر ، اضف الى ان الحكومات لا اعتبار لها ، فقد يأتيه الأمر من الخليفة وهو في ساحة الجهاد بعزله من منصبه . واذا حصل ذلك لا يمكنه الرجوع الى البصرة وأخذ تلك الاموال لذلك كان مضطراً لحملها معه. فحمل ممتلكاته الثمينة على أربعين بغلاً وأخذها معه الى ميدان الجهاد . فلما خرج جاءه قوم وتعلقوا بعنانه وقالوا احملنا على بعض هذه الفضول وارغب في المشي كما رغبتنا ، فضرب القوم بسوطه ، فتركوا دابته .. فمضى إلا انهم طبعاً لم يتحملوا ذلك منه بل ذهبوا الى المدينة وشكوه الى عثمان فعزله .ان أبا موسى الذي كان من صحابة الرسول ومن طبقة الخواص، كان على مثل هذا الحال

সাঈদ ইবনুল আস ছিল বনু উমাইয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং উসমানের আত্মীয়। সে ওয়ালিদ ইবনে উকবা ইবনে আবি মুয়াইত-এর পরে শাসনভার গ্রহণ করে। আর ওয়ালিদ সেই ব্যক্তি, যার জীবনের কিছু অংশ আমরা টেলিভিশন সিরিজ ‘ইমাম আলী’-তে দেখেছি এবং যার সামনে জাদুকরকে হত্যা করা হয়েছিল ওয়ালিদের কৃত ত্রুটিপূর্ণ কাজ সংশোধনের জন্য। একদিন তার মজলিসে এক ব্যক্তি বলল: “তালহা কতই না দানশীল!” নিশ্চয়ই তালহা কাউকে কিছু অর্থ দান করেছিলেন বা কারো প্রতি অনুগ্রহ করেছিলেন। তখন সাঈদ বলল: “যার কাছে নিশাস্তাজ-এর মতো সম্পদ আছে, তার পক্ষে দানশীল হওয়া উচিতই।” আর নিশাস্তাজ ছিল কুফার নিকটবর্তী একটি বিশাল জমিদারি, যা রাসূলের সাহাবী তালহা ইবনে আবদুল্লাহর মালিকানাধীন ছিল, যিনি তখন মদিনায় বসবাস করছিলেন। তারপর সে বলতে থাকল: “আল্লাহর কসম, আমার কাছে যদি এর অনুরূপ কিছু থাকত, তাহলে আল্লাহ তোমাদের জন্য আরামদায়ক জীবন দান করতেন।” তোমরা এই অবস্থার সাথে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এবং তার ইন্তেকালের পরের প্রথম যুগে জুহদ (ত্যাগ)-এর অবস্থার তুলনা করো এবং লক্ষ্য করো সেই বছরগুলোতে বড় বড় ব্যক্তি, আমির ও সাহাবীদের জীবনধারা কেমন ছিল এবং তারা দুনিয়াকে কী দৃষ্টিতে দেখতেন। মাত্র দশ বা পনেরো বছর যেতে না যেতেই বিষয়গুলো এই পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল!

আরেকটি উদাহরণ হলো আবু মুসা আল-আশআরি, বসরার শাসক — তিনি সেই আশআরি যিনি তহকিম (মধ্যস্থতা)-এর ঘটনায় বিখ্যাত ভূমিকা পালন করেছিলেন। একদিন তিনি বসরার শাসক থাকাকালে মিম্বারে উঠলেন। লোকেরা একটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তিনি লোকদের ডেকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করলেন এবং পায়ে হেঁটে জিহাদের ফজিলত সম্পর্কে কিছু বললেন। ফলে একদল লোক তাদের বাহন ছেড়ে দিল এবং সওয়াবের লোভে পায়ে হেঁটে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। তারা তাদের ঘোড়াগুলোকে (তাড়িয়ে দিল) অর্থাৎ নিজেদের চোখের সামনে থেকে দূরে সরিয়ে দিল, কারণ এগুলো তাদের সওয়াব থেকে বঞ্চিত করছিল। কিন্তু অপর একদল বুদ্ধিজীবী ধৈর্য ধরে বিষয়টির বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা উত্তম মনে করল এবং বলল, কোনো বিষয়ে তাড়াহুড়ো করো না, আমরা দেখি সে কী করে। যদি তার কথা তার কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে আমরা তার মতো করব।

ইবনে আসিরের বক্তব্য এ বিষয়ে এরূপ: যখন সে (আবু মুসা) বের হলো, তখন সে তার প্রাসাদ থেকে চল্লিশটি খচ্চরের ওপর তার মূল্যবান সম্পদ বোঝাই করে নিয়ে গেল। সেগুলো ছিল তার মূল্যবান সামগ্রী এবং তিনি যেখানেই যেতেন বা থাকতেন, এমনকি জিহাদের ময়দানেও সেগুলো সাথে নিয়ে যেতে বাধ্য হতেন। এর কারণ ছিল যে, সে যুগে কোনো ব্যয়ব্যবস্থা বা ব্যাংক ছিল না। এছাড়া, সরকারের কোনো নির্ভরযোগ্যতা ছিল না, কারণ জিহাদের ময়দানে থাকা অবস্থায়ও খলিফার কাছ থেকে তার পদ থেকে অপসারণের আদেশ চলে আসতে পারত। আর তা ঘটলে সে বসরায় ফিরে গিয়ে সেই অর্থ নিতে সক্ষম হতো না, তাই সে সেগুলো সাথে নিয়ে যেতে বাধ্য হত। ফলে সে তার মূল্যবান সম্পদ চল্লিশটি খচ্চরের ওপর বোঝাই করে জিহাদের ময়দানে নিয়ে গেল। যখন সে বের হলো, একদল লোক এসে তার ঘোড়ার লাগাম ধরে ফেলল এবং বলল, আমাদেরকে এই অতিরিক্ত বোঝাইকৃত পশুর ওপর কিছু চড়াতে দিন এবং আপনি আমাদেরকে পায়ে হাঁটতে উৎসাহিত করেছেন। তখন সে লোকদেরকে তার চাবুক দিয়ে মারল, ফলে তারা তার বাহন ছেড়ে দিল… সে চলে গেল। তবে স্বাভাবিকভাবেই তারা তার এই আচরণ সহ্য করল না, বরং মদিনায় গিয়ে উসমানের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল, ফলে তিনি তাকে অপসারণ করলেন। নিশ্চয়ই আবু মুসা, যিনি রাসূলের সাহাবী এবং বিশেষ ব্যক্তিদের (খাওয়াস) স্তরের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তার অবস্থা এমন ছিল।[87]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ১১৯-১২০

জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) এবং আবু মুসা আশআরীকে পার্থিব লোভের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে রাফেযী আলী খামেনেয়ী।

সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং আবু মুসা আশআরীকে এমন লোক হিসেবে চিত্রিত করেছে এমন হিসেবে যারা:

  • সম্পদ ও পদ-পদবির লোভে আলীকে সমর্থন করতে অস্বীকার করেছিল
  • সাদকে বাইতুল মাল থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধে অস্বীকৃতি জানানো এবং সম্পদ পুঞ্জীভূতকারী ছিল।

নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর উপর আলী খামেনেয়ীর আক্রমণ

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর সাহাবিয়্যাত এর উপর আক্রমণ করে আলী খামেনী লিখেছে:

وقد ذكرا في نهج البلاغة. فمن كان عبد ا الله بن عباس؟ إنه ذاك الذي نقل عنه أربعة أحاديث عن النبي، وكل من الشيعة والسنة يقبلون بهذه الأحاديث الأربعة، ولم يكن من أصحاب النبي أيضًا، ولكن الجميع يقبلونه ويعترفون به، وهذه نكتة. ولو كان من صحابة النبي ويعترف به الشيعة والسنة فليس بالأمر المهم، لأن سلمان وأبي ذر وعمار كانوا من الصحابة وكانوا كذلك موضع قبول الجميع

এবং নাহজুল বালাগায় এদের উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস কে ছিলেন? তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তি, যাঁর মাধ্যমে নবী (সা.)-এর চারটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং শিয়া ও সুন্নি উভয় সম্প্রদায়ই এই চারটি হাদীস গ্রহণ করে। তিনি নবীর সাহাবীদের অন্তর্ভুক্তও ছিলেন না, কিন্তু সবাই তাঁকে গ্রহণ করে এবং স্বীকৃতি দেয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর যদি তিনি নবীর সাহাবী হতেন এবং শিয়া-সুন্নি উভয়েই তাঁকে স্বীকৃতি দিত, তবে তা খুব বড় কথা ছিল না। কারণ সালমান, আবু যর এবং আম্মার সাহাবী ছিলেন এবং তারা সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য ছিলেন [88]আন-নুবুওওয়াহ ওয়া দ্বারুরাত্যিহাহ, ২০২ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৫ সাল, … Continue reading

নাহজুল বালাগা সংকলন করেছেন শরিফ রাযী (মৃত্যু ৪০৬ হিজরি), যা আলী ইবনে আবি তালিবের মৃত্যুর প্রায় ৪০০ বছর পরে, সনদের (ইসনাদ) কোনো শৃঙ্খল ছাড়াই। আহলুস সুন্নাহর মুহাদ্দিসগণ ও ইতিহাসবিদগণ, যেমন  ইবনে খাল্লিকান, যাহাবী এবং ইবনে কাসির (রাহিমাহুমুল্লাহ) –  আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুর) প্রতি এর উদ্ধৃতিগুলোর প্রামাণ্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। খামেনেয়ী এই গ্রন্থের অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে একজন সম্মানিত সাহাবী ইবনে আব্বাসের চরিত্রে আঘাত হেনেছেন, যা দ্বিগুণভাবে সমস্যাযুক্ত: সুন্নি মানদণ্ডে উৎসটি অপ্রমাণিত এবং সিদ্ধান্তটি একজন সাহাবীকে কলঙ্কিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সাহাবী নন এটি একটি ঐতিহাসিক ভুল তথ্য যা ইবনে আব্বাসের মর্যাদা হ্রাস করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। আহলুস সুন্নাহর মূলধারার অবস্থান এই যে, ইবনে আব্বাস হিজরতের প্রায় তিন বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন, তিনি নবী করীম (সা.)-এর সাহচর্যে ছিলেন, নবী (সা.) থেকে বিশেষ দো‘আ লাভ করেছিলেন (“হে আল্লাহ, তাকে ধর্মের জ্ঞান দান করুন”), এবং সর্বজনীনভাবে তিনি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হন। ইবনে হাজার আসকালানী এবং সকল আহলুস সুন্নাহর রিজাল বিশেষজ্ঞরা তাকে সর্বোচ্চ মর্যাদার সাহাবী হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছেন। খামেনেয়ীর এই দাবি শুধু বাস্তবিকই ভুল নয়, বরং এটি সুন্নাহর প্রাথমিক বর্ণনাকারীদের একজনকে অসম্মান করার কাজ করে।

সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর আলী খামেইনী প্রত্যক্ষ আক্রমণ করে। তাকে বাইতুল মাল থেকে চুরি এবং অনৈতিকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে সে লিখেছে:

وماذا يمكن أن نسمي هذا الأمر في العرف الإسلامي، أن جماعتين متخاصمتين تقبلان بشخص واحد ؟ عندما كان هذا الرجل حاكمًا وواليا على البصرة أخذ المال من بيت المال وفرّ به إلى مكة، إلى حرم الأمن والأمان الذي جعله الله ، فلا بد أنه قد دفعه هناك صدقة ووزعه على الفقراء ، أجل، مقابل شراء الإماء الفقيرات، فاشترى عدة إماء، تتمتع كل منهن بالجمال لكي يقضي معهن أوقات اللذة والراحة. لقد قدمه

আর ইসলামী পরিভাষায় আমরা এটাকে কী নামে ডাকতে পারি যে, দুটি বিবদমান দল একজন ব্যক্তিকে মেনে নেয়? যখন এই লোকটি বসরার শাসক ও গভর্নর ছিল, তখন সে বাইতুল মাল থেকে টাকা নিয়ে মক্কায় পালিয়ে গেল, নিরাপত্তা ও শান্তির হারামে, যা আল্লাহ পবিত্র ঘোষণা করেছেন। নিশ্চয়ই সে সেখানে গিয়ে তা সদকা হিসেবে বিতরণ করেছে এবং গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছে! হ্যাঁ, গরিব দাস-দাসী কেনার বিনিময়ে! সে কয়েকটি দাসী কিনল, প্রত্যেকেই সুন্দরী, যাতে তাদের সাথে আনন্দ ও আরামের সময় কাটাতে পারে। সে তাকে পেশ করেছিল। [89]আন-নুবুওওয়াহ ওয়া দ্বারুরাত্যিহাহ, ২০২ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৫ সাল, … Continue reading

এটি হলো আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বিরুদ্ধে একটি সরাসরি ও স্পষ্ট অভিযোগ, যিনি স্বয়ং নবী করীম (সা.)-এর চাচাতো ভাই, কুরআনের মুফাসসির (তুরজুমানুল কুরআন) এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সাহাবীদের একজন, তাঁকে সে সরকারি তহবিল থেকে চুরি ও যৌন অনৈতিকতার অভিযোগে অভিযুক্ত করে। আহলে সুন্নাতের মতে সাহাবীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ করা গুরুতর পাপের কাজ। নবী (ﷺ) ইবনে আব্বাসের বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন এবং আহলুস সুন্নাহর মধ্যে তাঁর বিশ্বস্ততা, তাকওয়া ও জ্ঞানে বিপুল অবদানের বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। বিশেষ করে আহলুস সুন্নাহ সাহাবীদের আক্রমণ করাকে বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট্য বলে মনে করে।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সমন্ধে সে আরো বলে:

فهل أننا سنقبل أن نجعله من الشيعة؟ بل إننا سنقول: يا فلان اذهب، ودع الشباك، واصطد في مكان آخر. اذهب فلو أنك كنت من الشيعة حقا لظهرت على حقيقتك وقت الامتحان

আমরা কি তাহলে তাকে শিয়া হিসেবে গ্রহণ করব? বরং আমরা বলব: ওহে অমুক, তুমি চলে যাও, (প্রতারণার) জাল ফেলা ছেড়ে দাও এবং অন্য কোথাও শিকার করো। তুমি চলে যাও, যদি সত্যিই তুমি শিয়া হতে, তবে পরীক্ষার সময় তোমার আসল চেহারা ফুটে উঠতো।[90]আন-নুবুওওয়াহ ওয়া দ্বারুরাত্যিহাহ, ২০২ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৫ সাল, … Continue reading

এখানে খামেনেয়ী প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন যে, ইবনে আব্বাস — যাকে ঐতিহাসিকভাবে সুন্নি ও শিয়া উভয়ই সম্মান করে — তার (খামেনেয়ীর) কাঠামোতে একজন সত্যিকারের বিশ্বাসী হিসেবে গণ্য হন না। অমার্জিত সাধারণ ভাষায় (“চলে যাও, তোমার জাল ফেলা ছেড়ে দাও”) একজন বিশিষ্ট সাহাবীকে এইভাবে অবজ্ঞা ও উপহাস করা কুফর, যেখানে সাহাবীদের ত্রুটিপূর্ণ কাজগুলোকেও সূক্ষ্মতা ও সদিচ্ছার সাথে বিবেচনা করা হয়।
এছাড়াও উক্ত বইতে সে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস কে বাইতুল মাল থেকে চুরির দায়ে অভিযুক্ত করে চোর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা সে নিয়েছে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর মৃত্যুর ৪০০ হিজরির পর রচিত জাল ও বানোয়াট এবং বিনা সনদে আসা নাহজুল বালাগাহ হতে।

 

সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর ব্যাপারে তার আরো দুস্পর্ধামূলক বক্তব্য:

وأنا قد طالعت إلى حد ما في التاريخ، ورأيت أن جناب عبد الله بن عباس كان من حواشي وصحابة الخليفة الثاني وكان شديد الحب له، وغالبا ما كان يسير خلف جناب عمر؛ لقد كان من التابعين، ولم يدرك زمن النبي، في حين أن الشيعة والسنة يعترفون به. فيا للعجب كم كان هذا الرجل شخصا عجيبا وماذا يمكن أن نسمي هذا الأمر في العرف الإسلامي، أن جماعتين متخاصمتين تقبلان بشخص واحد ؟

আর আমি ইতিহাসে কিছুটা পড়াশোনা করেছি এবং দেখেছি যে জনাব আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস দ্বিতীয় খলিফার অনুচর ও সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তাঁর প্রতি তাঁর অত্যন্ত ভালোবাসা ছিল। অধিকাংশ সময় তিনি জনাব উমরের পেছনে পেছনে চলতেন। তিনি তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং নবীর যুগ পাননি, অথচ শিয়া ও সুন্না উভয়েই তাঁকে স্বীকৃতি দেয়। আশ্চর্যের বিষয়, এই লোকটি কতই না বিস্ময়কর ব্যক্তি ছিলেন! আর ইসলামী পরিভাষায় আমরা এটাকে কী নামে ডাকতে পারি যে, দুটি বিবদমান দল একজন ব্যক্তিকে মেনে নেয়? [91]আন-নুবুওওয়াহ ওয়া দ্বারুরাত্যিহাহ, ২০২ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৫ সাল, … Continue reading

এই লেখাটি যেভাবে সাজানো হয়েছে, তাতে ইবনে আব্বাসের ও উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ঘনিষ্ঠতাকে একটি সমালোচনা বা চরিত্রগত ত্রুটি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। এটি পরোক্ষভাবে উমর ইবনুল খাত্তাবকে হেয় প্রতিপন্ন করে, যিনি আহলুস সুন্নাহর মতে সাহাবীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, দ্বিতীয় হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফা এবং সেই ব্যক্তি যাঁর সম্পর্কে নবী (সা.) বলেছেন: “আমার পরে যারা আসবেন তাদের অনুসরণ করো — আবু বকর ও উমর।” আহলুস সুন্নাহ বিশেষভাবে উমরের খিলাফতকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করে এবং তাঁর সাথে ঘনিষ্ঠতার জন্য্য কাউকে কোনো প্রকার পরোক্ষ উপহাসকে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের ওপর আক্রমণের একটি রূপ হিসেবে গণ্য করবে। যা খামেনিয়ী যিন্দিকের জবানি হতে বের হয়েছে।

খামেনী সাহাবীদের উপর আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অপবাদ দিয়ে লিখেছে:

نموذج خامس من مواقف الخواص والعوام

لقد هموا بقتل الإمام علي نفسه، ولم يعترض أحد من الخواص ولا (۲) من العوام، ولو قتلوه، ما استنكر أحد.

খাস ও আমের অবস্থানের পঞ্চম নমুনা:

তারা ইমাম আলী (আ.)-কে নিজেই হত্যা করার ইচ্ছা পোষণ করেছিল, আর খাসদের কেউ এবং আমদেরও কেউ আপত্তি করেনি। আর যদি তারা তাকে হত্যা করত, তবে কেউ তা অশোভন বলে গণ্য করত না।[92]ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৮ পৃষ্ঠা

এটি সাহাবীদের বিরুদ্ধে একটি ভিত্তিহীন অভিযোগ যার কোনো বিশ্বাসযোগ্য সূত্র প্রমাণ নেই। আহলুস সুন্নাহ সর্বসম্মতভাবে এ ধরনের দাবিগুলোকে সাহাবীদের বিরুদ্ধে অপবাদ হিসেবে গণ্য করে।
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে নিয়ে খামেইনীর মিথ্যাচার।

খামেইনী লিখেছে:

(۱) كان عبد الله بن مسعود من أول من آمن بالنبي، وهو أول المؤمنين الذين كانوا يتلون آيات القرآن في دعوة قريش إلى الإسلام، وبعد تحمل كل أنواع التعذيب هاجر بأمر من النبي إلى الحبشة، وقد أرسله الخليفة الثاني مع عمار بن ياسر كمدرس للقرآن إلى الكوفة، وبعد نفي أبي ذر إلى الربذة صلى على جسمانه. وبسبب اعتراضاته على حاكم الكوفة بزمن عثمان أعيد إلى المدينة. وقد توفي عبد الله بن مسعود عام ٣٢ للهجرة على أثر المرض الذي عرض عليه بعدما تم ضربه وتعذيبه من قبل عمال الخليفة.

(১) আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ছিলেন নবীর প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে অগ্রগামীদের একজন এবং তিনিই প্রথম ঈমানদারদের মধ্যে যারা কুরাইশদের ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার সময় কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করতেন। সব ধরনের নির্যাতন সহ্য করার পর নবীর নির্দেশে তিনি হাবশায় হিজরত করেন। দ্বিতীয় খলিফা তাকে আম্মার ইবনে ইয়াসিরের সাথে কুফায় কুরআনের শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেন। আর আবু যর যখন রাবাযায় নির্বাসিত হন, তখন তিনি তার জানাজা পড়ান। উসমানের সময় কুফার শাসকের প্রতি তার আপত্তির কারণে তাকে মদিনায় ফিরিয়ে আনা হয়। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ৩২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, যে রোগে তিনি আক্রান্ত হন তা খলিফার কর্মচারীদের হাতে প্রহার ও নির্যাতনের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল।[93]আল ফিকরিল ইসলামী আলা দ্ব্ওয়িল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা ৮৭, পাদটীকা ১

এই পাদটীকায় সে ইঙ্গিত করেছে যে “খলিফার” (উসমান) কর্মচারী ইবনে মাসউদকে প্রহার ও নির্যাতন করেছিল, যা তার মৃত্যুতে অবদান রাখে। এটি উসমানকে বদনাম করার লক্ষ্যে একটি শিয়া বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

আহলুস সুন্নাহর আলিমগণ স্বীকার করেন যে উসমানের যুগে কিছু মতবিরোধ ছিল, কিন্তু উসমানের কর্মচারীরা ইবনে মাসউদকে মৃত্যু পর্যন্ত “নির্যাতন” করেছিল এই বর্ণনাটি মুহাদ্দিসদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সুরটি উসমানের খিলাফতকে নিপীড়ক হিসেবে উপস্থাপন করে, যা জ্যেষ্ঠ সাহাবী, বিশেষ করে খোলাফায়ে রাশেদীনকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করার ক্ষেত্রে আহলুস সুন্নাহর মতবাদের পরিপন্থী। এটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে উসমান (রাদিআল্লাহু আনহু) আবু যরকে নির্বাসন নিপীড়ন করেছেন এমনভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে। আবু যরকে রাবাযায় নির্বাসন শিয়া বর্ণনাসমূহে উসমান (রাদিআল্লাহু আনহু) এর চরিত্রের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আহলুস সুন্নাহ মনে করেন যে আবু যরের ঘটনা অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধের বিষয় ছিল এবং উসমান বৈধ কর্তৃত্বের সাথে কাজ করেছিলেন। উসমান আবু যরকে নিপীড়ন করেছিলেন এই সামগ্রিক বর্ণনাটি উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর বিরুদ্ধে রাফেযীদের একটা চাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

 

বনু উমাইয়্যাহ থেকে শুরু করে বনু আব্বাস পর্যন্ত ও ১৪০০ বছরের কোন শাসনকালই আলী খামেনেয়ীর নোংরা জবান দ্বারা আক্রমণ হওয়া থেকে রেহাই পায়নি

খামেনী তিন খলিফার হুকুমতকে বিশ্বাস করে না কিন্তু সে বারো ইমামদের শাসনকে একমাত্র হক ভাবে:

حيث المعصوم (كما نعتقد نحن الاثنا عشرية) قادر على تحديد الموضوع وتحديد الحكم الواقعي المناسب له، إلا إن بعض المواقع التي لا يستطيع المكلف أن يتصل وهو فيها بالمعصوم في حينه فإنه يستفتي الفقيه الذي يمكنه الوصول إليه،

যেখানে নিষ্পাপ ইমাম (আমরা ইসনা আশারিয়া যেরূপ বিশ্বাস করি) বিষয়টি নির্ধারণ করতে এবং তার জন্য উপযুক্ত বাস্তবসম্মত হুকুম নির্ধারণ করতে সক্ষম। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেখানে মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) সেসময় নিষ্পাপ ইমামের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় না, সেক্ষেত্রে সে সেই ফকীহর কাছে ফতোয়া চায়, যার কাছে তার পৌঁছানো সম্ভব।[94]আল ইমামুল খামেনেয়ী, আল ওয়ালিয়ুল ফাক্বীহ, পৃষ্ঠা ২৩

বারো ইমামেরই নিষ্পাপত্ব (‘ইসমা) এবং ইসলামী বিধান নির্ধারণের একক কর্তৃত্ব রয়েছে এই মতবাদটি একটি কেন্দ্রীয় শিয়া বিশ্বাস যা আহলে সুন্নাহ সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করে। আহলুস সুন্নাহ বারো ইমামের ধারণাটিকে ঐশীভাবে মনোনীত নিষ্পাপ কর্তৃপক্ষ হিসেবে গ্রহণ করে না। আহলে সুন্নাতের মতে, ইসলামে নেতৃত্ব শুরা (পরামর্শ)-এর মাধ্যমে নির্ধারিত হয় এবং এর জন্য নিষ্পাপত্বের প্রয়োজন হয় না।

সাহাবী বিদ্বেষী মুরতাদ আলী খামেনী আরো লিখেছে:

لذلك فقد انفصلت المؤسسة الدينية عن المؤسسة الحكومية، فاستحالت الإمامة والولاية إلى حكم وراثي في غضون القرن الأول من العصر الإسلامي وتلك القضية من المشهورات في الروايات والتاريخ الإسلامي وفي كلمات الصحابة

অতএব, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, ফলে ইমামত ও ওয়ালায়াত ইসলামী যুগের প্রথম শতকের মধ্যেই বংশানুক্রমিক শাসনে রূপান্তরিত হয়ে গেল। আর এই বিষয়টি ইসলামী বর্ণনা ও ইতিহাসে এবং সাহাবীদের উক্তিসমূহে সুবিদিত।[95]হাকিমিয়্যাতুল ইসলামী বাইনান নাযরিয়্যাতি ওয়াত তাতবিক্বী খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২
.

১৪০০ বছরের কোন শাসনকালই আলী খামেনেয়ীর পছন্দ হয়নি কারণ তার চাই ওয়ালায়াতুল ফাকীহ আর বারো ইমামী নেতৃত্ব, যাদের সে নবী সমতুল্য নিষ্পাপ ভাবে, সুবহানআল্লাহ! প্রবাদ রয়েছে যে যারে দেখতে নারী তার চলন বাঁকা। মুরতাদ আলী খামেনেয়ী এই সুচিবায়ু  রোগে আক্রান্ত। তবে আমার প্রশ্ন যদি বংশানুরমিক শাসন তাগুত ও যুলুম হয় তাহলে আলী খামেনেয্যি এর ছেলে মোজতবা হোসেইনী খামেনেয়ী যে বংশানুক্রমে আয়াতুল্লাহ বনে গেছে সেও কি তাগুত?

যিন্দিক আলী খামেনেয়ীর বনু উমাইয়্যাহ খিলাফতের উপর আক্রমণ

খামেনেয়ী বনু উমাইয়্যাহ এর খিলাফতকে শিরক ছড়ানোর অভিযোগ এনে লিখেছে:

فبنو أمية كانوا يسمحون للعلماء وأهل الدين، ومن جملتهم الأئمة عليهم السلام بالتحدث حول الصلاة والحج والزكاة والصيام والعبادات، وكذلك حول التوحيد والنبوة والأحكام الإلهية. لكنهم لم يسمحوا بالبحث في مفهوم الشرك ومصاديقه وأمثلته في المجتمع. تلك التعاليم المرتبطة بالشرك لو درست للناس، لفهموا مباشرة من هم المشركون، وأن ما يحملهم عليه بنو أمية ليس إلا الشرك. ولعلموا فوراً أن عبد الملك والخلفاء الباقين من بني أمية هم طواغيت يبارزون الله، وأن إطاعتهم تعد شركاً بالله

আর বনু উমাইয়া আলিম ও ধর্মীয় ব্যক্তিবর্গকে, যাদের মধ্যে ইমামগণও (আ.) অন্তর্ভুক্ত, নামাজ, হজ, যাকাত, রোজা ও ইবাদত এবং তাওহিদ, নবুওয়াত ও আল্লাহর বিধান সম্পর্কে আলোচনা করার অনুমতি দিত। কিন্তু তারা সমাজে শিরকের ধারণা, তার বাস্তব উদাহরণ ও নমুনা নিয়ে গবেষণা করার অনুমতি দিত না। যদি শিরকের সাথে সম্পর্কিত সেই শিক্ষাগুলো লোকদেরকে পড়ানো হত, তাহলে তারা সরাসরি বুঝতে পারত যে মুশরিক কারা এবং বনু উমাইয়া তাদেরকে যা কিছু করতে বাধ্য করে তা শিরক ছাড়া আর কিছুই নয়। আর তারা তখনই জানতে পারত যে, আব্দুল মালিক ও বনু উমাইয়ার অন্যান্য খলিফাগণ হল তাগুত, যারা আল্লাহর সাথে বিরোধিতা করে এবং তাদের আনুগত্য করা আল্লাহর সাথে শিরক হিসেবে গণ্য হয়।[96]আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৪৯

প্রথম দিকের উমাইয়া খলিফারাও যাদের সাথে অনেক সাহাবী বসবাস করেছেন এবং সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে “মুশরিক” এবং “তাগুত” হিসেবে আখ্যা দেওয়া একটি গুরুতর অভিযোগ যা তাগুত খামেনেয়ী করেছে। যদিও আহলুস সুন্নাহ নির্দিষ্ট কিছু উমাইয়া শাসকের অবিচারের সমালোচনা করেন, তারা তাদেরকে ইসলামের বাইরে ঘোষণা করেন না বা তাদের অনুগত প্রজাদেরকে শিরক করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন না।

আলী খামেনী বনু উমাইয়্যাহ এর খিলাফতকালকে শিরক ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করে লিখেছে:

ويوجد حديث عن الإمام الصادق علام يقول فيه: «إن بني أمية أطلقوا للناس الإيمان ولم يطلقوا الشرك حتى إذا حملوهم عليه لم يعرفوه».

ইমাম সাদিক (আ.) থেকে একটি হাদীস বর্ণিত আছে যাতে তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই বনু উমাইয়া লোকদের জন্য ঈমানের (শিক্ষা) ছেড়ে দিয়েছিল, কিন্তু শিরকের (শিক্ষা) ছাড়েনি, যাতে যখন তারা লোকদেরকে শিরকের দিকে নিয়ে যায়, তখন লোকেরা তা চিনতে না পারে।”[97]আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯

খামেনী দাবি করছে যে বনু উমাইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে লোকদেরকে শিরক সম্পর্কে শিক্ষা দিতে বাধা দিয়েছিল, যাতে তারা উমাইয়া খলিফাদেরকে প্রকৃত মুশরিক হিসেবে চিনতে না পারে।

এছাড়াও উক্ত পৃষ্ঠায় খামেনী বনু উমাইয়্যাহ খিলাফতের আনুগত্যকে শিরক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে:

“আব্দুল মালিক ও বনু উমাইয়ার অন্যান্য খলিফাগণ হল তাগুত, যারা আল্লাহর সাথে বিরোধিতা করে এবং তাদের আনুগত্য করা আল্লাহর সাথে শিরক হিসেবে গণ্য হয়।”[98]আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৪৯

নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক। আলী খামেনী এটা বুঝাতে চাচ্ছে যে অ-শিয়া শাসকদের আনুগত্য করা স্পষ্টভাবে শিরক। আহলুস সুন্নাহ বলে যে মুসলিম শাসকদের, এমনকি শাসক পাপী হলেও, ইসলামী সীমার মধ্যে আনুগত্য করা আবশ্যক।

এমনকি বনু উমাইয়্যাহ এর ব্যাপারে সে রিদ্দাহ (ধর্মত্যাগ) এর অভিযোগ এনেছে:

بنو أمية وحكومة يزيد مثلوا ثورة الردة في مواجهة ثورة التغيير التي قادها الرسول ، والحسين مثل ثورة الإنتصار

বনু উমাইয়া এবং ইয়াজিদের সরকার রিদ্দার (ধর্মত্যাগের) বিপ্লবের প্রতিনিধিত্ব করেছিল, যা রাসূল (সা.)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত পরিবর্তনের বিপ্লবের মুখোমুখি হয়েছিল। আর হুসাইন (আ.) প্রতিনিধিত্ব করেন বিজয়ের বিপ্লবের।[99]আশূরাহ বাইনাল হায়াহ ওয়াল আহইয়া, ১৬৪ পৃষ্ঠা

 

খামেনেয়ী আরো লিখেছে:

بعد رحلة الرسول الاكرم – صلى الله عليه وآله وسلم ) والتحاقه بالرفيق الاعلى سعى المعاندون وبنو اميه – لعنهم الله – لمنع استقرار حكومة الامام علي بن أبي طالب -عليه السلام – مع انها كانت مرضية لله – تبارك وتعالى – وللرسول الاكرم (ص).

রাসুলে আকরম (সা.)-এর সফর (ইন্তেকাল) এবং পরম বন্ধুর সাথে মিলিত হওয়ার পর বিরোধীরা এবং বনু উমাইয়া—আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিন—ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর সরকার সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল, অথচ তা আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা’আলা এবং রাসুলে আকরম (সা.)-এর সন্তুষ্টির বিষয় ছিল।[100]হাদীছুস-সামশ, পৃষ্ঠা ৩২

বইটিতে আলী খামেইনী আরেক যিন্দিক রুহুল্লাহ খোমেইনীকে উদ্ধৃত করে, বলেছে যে নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর ‘বিরোধীরা (আল-মুয়ানিদুন) এবং বনু উমাইয়া ইমাম আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)-এর সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল, অথচ তা আল্লাহ ও মহান রাসুল (সা.)-এর সন্তুষ্টির বিষয় ছিল।’ এটি দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত করে যে প্রথম তিন খলিফা (আবু বকর, উমর, উসমান) ছিলেন দখলদারিত্বের এজেন্ট। বইটি আরও আবু বকর ও উমরের সময়কালকে বর্ণনা করে এমন একটি সময় হিসেবে যখন সঠিক ইসলামী সরকার ছিল না, এবং সকল রাজনৈতিক দুর্নীতির মূল সূত্রপাত ঘটে প্রাথমিক খিলাফতে সংঘটিত বিচ্যুতি থেকে — বিশেষ করে উসমানের শাসনামলে। নাউযুবিল্লাহ।

যিন্দিক আলী খামেনেয়ী আর রাফেযী আরো লিখেছে:

لقد بدل بنو أمية الإمامة في الإسلام إلى سلطنة وملكية، وحكموا هذه الدولة الإسلامية الكبرى ألف شهر أي تسعين سنة . حينذاك وضعت أسس بناء هش انتهى إلى الثورة ضد بني أمية الذين انقرضوا وجاء من بعدهم بنو العباس، وحكموا العالم الإسلامي ستة قرون أي ستمائة سنة على اساس انهم خلفاء الرسول

بنو العباس الذين كان خلفاؤهم أو بتعبير أدق ملوكهم يمارسون الفساد والفسق وشرب الخمور والفجور والفحشاء والخبائث وجمع الثروات واللهو والملذات وآلاف أنواع المفاسد الأخرى،

নিশ্চয়ই বনু উমাইয়া ইসলামের ইমামতকে সুলতানি ও বাদশাহীতে পরিবর্তন করে দিয়েছিল এবং তারা এই বৃহৎ ইসলামী রাষ্ট্রে এক হাজার মাস অর্থাৎ নব্বই বছর শাসন করে। তখন এক দুর্বল ভিত্তির পত্তন হয়েছিল, যার পরিণতি ছিল বনু উমাইয়ার বিরুদ্ধে বিপ্লব। তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হলো এবং তাদের পরে আসল বনু আব্বাস। আর তারা ছয় শতাব্দী অর্থাৎ ছয়শ বছর ইসলামী বিশ্বে শাসন করল এই ভিত্তিতে যে তারা রাসূলের খলিফা।

বনু আব্বাস, যাদের খলিফাগণ বা আরো সঠিকভাবে বললে বাদশাহগণ, দুর্নীতি, পাপাচার, মদ্যপান, অশ্লীলতা, নোংরামি, সম্পদ আহরণ, আমোদ-প্রমোদ ও হাজারো প্রকারের অন্যান্য অপকর্মে লিপ্ত ছিল।।[101]আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, ২০৩ পৃষ্ঠা

যদিও আহলুস সুন্নাহ বিগত শাসকদের নির্দিষ্ট পাপের জন্য সমালোচনা করেন, তবুও সমগ্র উমাইয়া খিলাফতকে অবৈধ হিসেবে সম্পূর্ণ নিন্দা করা এবং আরও গুরুতরভাবে তাদের পিছনে নামাজ পড়াকে আকীদা বিশ্বাসের দুর্নীতি হিসেবে চিহ্নিত করা একটি শিয়া রাজনৈতিক চাল। মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান ছিলেন নবী করীম (সা.)-এর একজন সাহাবী; তাঁর শাসনকে সম্পূর্ণরূপে নিন্দা করা আহলুস সুন্নাহর পরিপন্থী। তদুপরি, পাপী ইমামের পিছনে নামাজ পড়া বৈধ একে “ধর্মীয় আকীদা বিশ্বাসের দুর্নীতি” বলা গোমড়াহী। মুতা বিবাহের মাধ্যমে খামেনেয়ী বেশ্যাবৃত্তিকে বৈধ করেছে, আর সে-ই খামেনেয়ী বনু উমাইয়্যাহ ও বনু আব্বাসকে নারীঘটিত কারণে আক্রমণ করছে।

সে উমাইয়া যুগকে সম্পূর্ণ দুর্নীতির যুগ হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক ও নৈতিক পতনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে মুয়াবিয়া এবং উমাইয়া বংশের ওপর চাপিয়েছে:

هل كان وعاظ السلاطين من أمثال شريح القاضي؟! الواقع أن الذي استقطب هؤلاء المأجورين ليتخذوا مواقف معادية لمسيرة القرآن هو معاوية. فالمسؤولية بالتالي تقع على عاتق هؤلاء من بني أمية وبني العباس وغيرهم من الذين يتظاهر ون أحيانًا بالدين !

শাসকদের ধর্মীয় বক্তা (ওয়ায়েজ) কি শুরাইহ কাজীর মতো ছিলেন?! বাস্তবতা হলো, এই ভাড়াটে লোকদের কোরআনের পথের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য প্ররোচিত করেছিল মুয়াবিয়া। তাই শেষ পর্যন্ত দায়ভার বর্তায় উমাইয়া, আব্বাসীয় এবং অন্য তাদের ওপর, যারা মাঝে মাঝে ধর্মের মুখোশ ধারণ করে![102]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৭৫, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

সে আরও দাবি করে যে, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ, তার স্বীকৃত ন্যায়বিচার সত্ত্বেও, তাকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছিল এবং ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল কারণ মুয়াবিয়া যা দুর্নীতি করেছিলেন, তিনি তা সংস্কারের চেষ্টা করেছিলেন — শিয়া বর্ণনার দৃষ্টিকোণ থেকে এই কাঠামো তৈরি করে: উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছিল বলে যে দাবি তা একটি বিতর্কিত ঐতিহাসিক দাবি যা প্রাথমিকভাবে শিয়া সূত্রে দেখা যায় এবং এটি প্রতিষ্ঠিত সত্য নয়।

لقد حاول الخليفة الأموي عمر بن عبدالعزيز بعد ثلاثين سنة من ذلك أن يصلح الأمور، فلم يستطع، ولم يبقوه في منصب الخلافة أكثر من سنتين، إذ قتلوه مسموما. تروى الأعاجيب عما أصيبت به الأمة عامة، وخاصة الشام التي كانت تحت سيطرة معاوية مباشرة من جهل.

তার ত্রিশ বছর পর উমাইয়া খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ বিষয়গুলো সংশোধনের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি সক্ষম হননি এবং তারা তাকে দুই বছরের বেশি খিলাফতের পদে থাকতে দেয়নি, বরং তাকে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করে। সাধারণভাবে উম্মতের ওপর এবং বিশেষ করে মুয়াবিয়ার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন সিরিয়ার ওপর যে অজ্ঞতা নেমে এসেছিল, সে সম্পর্কে সবচেয়ে মজার ও অবিশ্বাস্য কাহিনী বর্ণিত হয়।[103]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৭৪, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

সে কাব আল-আহবারকে ইসরাইলিয়াত ও কুসংস্কার ছড়ানোর জন্য বর্ণনা করে এবং আবদুল্লাহ ইবনে সালামকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) আক্রমণ করে:

وفي عصر ظهور الإسلام، مَنْ هؤلاء الذين عارضوا الدعوة النبوية؟ واضح أنهم أولئك الذين لا يبقى لهم مجال خداع الناس لا يبقى لأمثال كعب الأحبار وعبدالله بن سلام مجال لنشر الخرافات والأكاذيب.

لذلك فإنهم يرون في الدعوة النبوية نهاية لمكانتهم الدينية الزائفة ومكانة القوى السياسية المؤتلفة معهم،

۲- عبدالله بن سلام بن الحارث الإسرائيلي، من أحبار يهود بني قينقاع، أسلم، وكان مقربا من الخليفة الثاني ثم من معاوية، وهو من عوامل انحراف الجهاز الحاكم في المجتمع الإسلامي.

ইসলাম আবির্ভাবের যুগে, যারা নবুয়াতের ডানের বিরোধিতা করেছিল তারা কারা? স্পষ্ট যে, তারা ছিল সেই সমস্ত লোক, যাদের জন্য মানুষের সাথে প্রতারণা করার আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট থাকেনি। কাব আল-আহবার ও আবদুল্লাহ ইবনে সালামের মতো ব্যক্তিদের জন্য কুসংস্কার ও মিথ্যা প্রচারের আর কোনো ক্ষেত্র অবশিষ্ট ছিল না।

তাই তারা নবুয়াতের আহ্বানে তাদের কৃত্রিম ধর্মীয় মর্যাদা এবং তাদের সাথে মিত্রতা করা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অবস্থানের পরিসমাপ্তি দেখতে পায়।

১- আবু ইসহাক কাব ইবনে মানি আল-হিময়ারি, ইহুদি পন্ডিতদের একজন, তিনি কাব আল-আহবার নামে প্রসিদ্ধ। দ্বিতীয় খলিফার যুগে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মদিনায় প্রবেশ করেন। তার থেকে এমন অনেক কথা বর্ণিত হয়েছে যা সে তওরাত থেকে উদ্ধৃত করার দাবি করত এবং সেই বর্ণনাগুলোকে ইসরাইলিয়াত নামে অভিহিত করা হয়।

২) আবদুল্লাহ ইবনে সালাম ইবনে আল-হারিস আল-ইসরায়েলি, বনি কাইনুকা গোত্রের ইহুদি পন্ডিতদের একজন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং দ্বিতীয় খলিফার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হন, পরে মুয়াবিয়ারও ঘনিষ্ঠ হন। তিনি ইসলামী সমাজের শাসনযন্ত্রের বিপথগামিতার অন্যতম কারণ।[104]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২১১, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

তারা উভয়েই নবী (সা.)-এর সাহাবী। বিশেষ করে আবদুল্লাহ ইবনে সালামের প্রশংসা নবী (সা.) সরাসরি করে তাঁকে জান্নাতী বলে উল্লেখ করেছেন। প্রাথমিক ইসলামের শাসনযন্ত্রকে দুর্নীতিগ্রস্ত করার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা একজন সাহাবীর উপর মুরতাদ খামেনেয়ীর ভিত্তিহীন অপবাদ।

হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সম্পর্কে আলী খামেনেয়ী লিখেছে;

كان الحجاج بن يوسف الثقفي رجلاً فصيحاً و من بلغاء العرب والخطب التي كان يلقيها من على المنبر، تعتبر خطباً فصيحة و بليغة فذة. حيث أن الجاحظ قد نقلها وجاء بها في كتابه «البيان والتبيين» و كان في نفس الوقت حافظاً للقرآن، لكنه كان رجلاً لعيناً خبيثاً، يعادي العدل و يعارض أهل بيت النبي الاكرم و آل الرسول (ص)، فلقد كان عنصراً عجيباً و كائناً معقداً للغاية.

হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফী ছিলেন একজন সুভাষী ব্যক্তি এবং আরবদের মধ্যে একজন বাগ্মী। মিম্বার থেকে তিনি যে ভাষণ দিতেন, তা সাবলীল, সুন্দর ও অতুলনীয় ভাষণ হিসেবে বিবেচিত হত। আল-জাহিজ তার ‘আল-বায়ান ওয়া আত-তাবিয়িন’ গ্রন্থে তা বর্ণনা করেছেন। একই সাথে তিনি কোরআনের হাফেজও ছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন একজন অভিশপ্ত ও দুষ্ট ব্যক্তি, যে ন্যায়বিচারের শত্রু ছিল এবং নবী করীম (সা.)-এর আহলে বাইত ও বংশধরদের বিরোধী ছিল। সে ছিল বিস্ময়কর ও অত্যন্ত জটিল প্রকৃতির এক সত্তা।[105]আল কুরআন কিতাবুল হাইয়্যাহ, ৭০ পৃষ্ঠা, প্রকাশক: দারুল ওয়ালায়ি, বৈরত লেবানন … Continue reading

হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে বিশেষভাবে আহলে বাইতের শত্রু হিসেবে বর্ণনা করা একটি রাফেযী দৃষ্টিভঙ্গি। যদিও সুন্নি আলিমগণ হাজ্জাজের নিষ্ঠুরতা ও অত্যাচারের জন্য তাকে সমালোচনা করেন, তাকে “অভিশপ্ত” বা লানতপ্রাপ্র বলে আখ্যা দিয়ে এবং তার প্রধান অপরাধ হিসেবে আহলে বাইতের বিরোধিতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা ইসলামী ইতিহাসের প্রতি একটি রাফেযী দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে।

মুরতাদ আলী খামেনী উমাইয়া খিলাফতকে তিরষ্কার করে লিখেছে:

إن مدرسة الثورة التي أسسها الإمام تأبى أي نمط من الإسلام السفياني والمرواني إسلام المراسم والمناسك الخاوية، الإسلام المسخّر للتبر والقهر وبالتالي الإسلام الذي تسيره أيدي القوى المغيرة على أرواح الشعوب…..

ইমাম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিপ্লবের চিন্তাধারা সুফিয়ানি ইসলাম ও মারওয়ানি ইসলামের যেকোনো ধরনকে প্রত্যাখ্যান করে—সেই ইসলাম যা শুধু আনুষ্ঠানিকতা ও খালি ধর্মীয় আচারে পরিণত হয়েছে, সেই ইসলাম যা তাবর ও জবরের জন্য ব্যবহৃত হয়, ফলে সেই ইসলাম যা জনগণের আত্মা লুণ্ঠনকারী শক্তির হাতে পরিচালিত হয়।[106]আছ ছাওরাতু মুযাহহির লিতাহাররাকিদ দীনি বিউজুহিত ত্বাওয়াগীত, পৃষ্ঠা ৭-৮

এটি উমাইয়া খিলাফতের (বনু সুফিয়ান ও বনু মারওয়ান) প্রতি সরাসরি অপমান, যাকে আহলে সুন্নাত সাধারণত রাজনৈতিক ত্রুটি-বিচ্যুতি সত্ত্বেও বৈধ ইসলামী শাসনব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করে। “الإسلام السفياني والمرواني” (সুফিয়ানি ইসলাম ও মারওয়ানি ইসলাম) বাক্যাংশটি একটি ফাঁপা, অত্যাচারী ইসলামের জন্য নিন্দাসূচক লেবেল হিসেবে ব্যবহার করা একটি আদর্শ শিয়া বিতর্কমূলক কৌশল যা সুন্নি খিলাফতকে অবৈধ ঘোষণা করে। সালাফী ও মূলধারার সুন্নিরা বিশ্বাস করেন যে সাহাবীগণ এবং প্রাথমিক মুসলিম শাসকগণ, যার মধ্যে অনেক উমাইয়াও অন্তর্ভুক্ত, তারা সম্মানের যোগ্য। মুয়াবিয়া (যিনি আবু সুফিয়ানের পুত্র) এবং মারওয়ানিদের নিন্দা করা সুন্নি ধর্মতত্ত্বে অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত।

খামেইনী বনি উমাইয়া খিলাফতকে শিরক ছড়ানোর দায়ে অভিযুক্ত করে লিখেছে:

ففي رواية عن الإمام الصادق عليه السلام أنه قال: «إنّ بني أمية أطلقوا للناس تعليم الإيمان ولم يطلقوا تعليم الشرك لكي إذا حملوهم عليه لم يعرفوه (۱)، أي لكي لا يعرف الناس أعمالهم التي تسوق الناس إلى الكفر والفسوق، فينكشفوا للناس.

ইমাম সাদিক (আ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয়ই বনু উমাইয়া লোকদেরকে ঈমানের শিক্ষা দিতে দিয়েছিল, কিন্তু শিরকের শিক্ষা দিতে দেয়নি, যাতে যখন তারা লোকদেরকে শিরকের দিকে নিয়ে যায়, তখন লোকেরা তা চিনতে না পারে। অর্থাৎ, যাতে লোকেরা তাদের সেই কাজগুলো চিনতে না পারে যা লোকদেরকে কুফর ও পাপাচারের দিকে নিয়ে যায়, ফলে তারা লোকদের নিকট উন্মোচিত না হয়।।[107]আছ ছাওরাতু মুযাহহির লিতাহাররাকিদ দীনি বিউজুহিত ত্বাওয়াগীত, পৃষ্ঠা ২১৪

এই বর্ণনাটি — যা আল কাফিতে ইমাম সাদিক এর প্রতি আরোপিত যেখানে উমাইয়া বংশকে ইচ্ছাকৃতভাবে শিরক ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, তা  সাহাবী ও প্রথমযুগের মুসলমানদের বিরুদ্ধে একটি গুরুতর এবং অপ্রমাণিত অভিযোগ। আহলুস সুন্নাহ মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.)-এর মতো ব্যক্তিত্বকে নবী করীম (সা.)-এর সাহাবী হিসেবে গণ্য করে। সাহাবীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের বর্ণনা তৈরি বা প্রচার করা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যাত। এটি অপ্রমাণিত একটি মিথ্যাচার যা সাহাবী বিদ্বেষী মুরতাদ আলী খামেইনী বলেছে।

খামেইনী বনু উমাইয়্যাহ কে নিয়ে লিখেছে:

وان يصبح يزيد مناصراً للحق وحريصاً على الاسلام ومبادئه وهو سليل أولئك الذين لم يسلموا إلا بعد أن نزل سيف علي مراراً عـلـى خراطيمهم ناهيك عن ممارساته المناهضة لروح الدين .

আর ইয়াজিদ কি সত্যের সমর্থক ও ইসলাম ও তার নীতির প্রতি যত্নশীল হতে পারে? অথচ সে তাদের বংশধর যারা কেবল তখনই ইসলাম গ্রহণ করেছিল যখন আলীর তরবারি বারবার তাদের নাকের ওপর পড়েছিল। তার ধর্মের রূহ-বিরোধী কার্যকলাপ তো আলাদা।[108]আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৮ পৃষ্ঠা

আরবি অনুবাদকের ভূমিকার এই বিবৃতিটি ইয়াজিদের বংশ (অর্থাৎ বনু উমাইয়া) সম্পর্কে বর্ণনা করে এমন লোক হিসেবে যারা শুধুমাত্র আলীর তরবারির কাছে পরাজিত হওয়ার পর ইসলাম গ্রহণ করেছিল — একটি অপমানজনক বাক্যাংশ যা মুয়াবিয়া এবং বনু উমাইয়ার অন্যান্য সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করে।

 

খামেনেয়ী উত্তরাধিকারসূত্রে খিলাফত লাভকে বিদআত আখ্যা দিয়ে মুয়াবিয়ার খিলাফতকে অবৈধ ঘোষণা করে লিখেছে:

وكذلك كانت طرق اختيار الخليفة بعد رسول الله الا الله مختلفة، إلى أن جاءت بدعة توريث الخلافة الذي بدأ مع بداية الدولة الأموية،

আর ঠিক তেমনিভাবে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পরে খলিফা নির্বাচনের পদ্ধতিগুলো ভিন্ন ছিল, অবশেষে যখন বিদআত হিসেবে খিলাফতের উত্তরাধিকার প্রথা শুরু হলো যা উমাইয়া রাষ্ট্রের সূচনার সাথে শুরু হয়।[109]আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০

এটি সরাসরি মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের পুত্র ইয়াজিদের নিয়োগকে নিন্দা করে কিন্তু পরোক্ষভাবে নিজে মুয়াবিয়াকেও নিন্দা করে, যিনি নবী করীম (সা.)-এর একজন সাহাবী। আহলুস সুন্নাহ মুয়াবিয়াকে একজন সম্মানিত সাহাবী হিসেবে গণ্য করেন এবং উমাইয়া খিলাফতকে একটি বৈধ, যদিও ত্রুটিপূর্ণ, ইসলামী সরকার হিসেবে গণ্য করেন। এর ভিত্তিগত বৈশিষ্ট্যকে বিদআত বলা একজন সাহাবীর কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর আক্রমণ।

যিন্দিক আলী খামেনেয়ীর আব্বাসয় খিলাফতের উপর আক্রমণ

খামেইনী আব্বাসীয় খেলাফতকে সমালোচনা করে লিখেছে:

إن الشياطين هي التي كانت تلعب بمقدرات المجتمع الإسلامي، ولأجل إعلاء إسمهم وشهرتهم، وأنه قد حدث هذا الشيء على عهد الخليفة العباسي الفلاني … ولو أنهم بدلاً من جميع هذه النشاطات … قد أقدموا على تخلية المكان للحكومة العلوية، وتنصيب الإمام الصادق مثلاً ليمسك بزمام الأمور، فحتى لو فرضنا محالاً أن قطف الثمار من هذه الأمور العلمية والأدبية والتي يفتخر بها العصر الحاضر تأخر مائة سنة، لكان أصلح للإنسانية،

নিশ্চয়ই শয়তানরাই ইসলামী সমাজের ভাগ্য ও সম্ভাবনা নিয়ে খেলা করছিল, এবং তা কেবল তাদের নিজেদের নাম ও খ্যাতি উঁচু করার জন্য। আর এই ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়েছিল অমুক আব্বাসীয় খলিফার যুগে। যদি তারা এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে আলাউয়ী (আলীর বংশধরদের) সরকারের জন্য স্থান খালি করে দিতো এবং উদাহরণস্বরূপ ইমাম সাদিককে ক্ষমতার লাগাম ধরতে নিযুক্ত করত, তাহলে অসম্ভবকে সম্ভব ধরে নিলেও যদি বলি যে এই বৈজ্ঞানিক ও সাহিত্যিক বিষয়গুলো থেকে ফল আহরণ, যা নিয়ে বর্তমান যুগ গর্ববোধ করে, একশো বছর বিলম্বিত হত, তবুও তা মানবজাতির জন্য অধিক কল্যাণকর হত।[110]ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৩৮ পৃষ্ঠা

আহলুস সুন্নাহর দৃষ্টিভঙ্গি হলো, বিশেষত প্রাথমিক আব্বাসীয় যুগকে ইসলামী বুদ্ধিভিত্তিক, বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক অর্জনের শীর্ষবিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই যুগের খিলাফতগুলোকে শয়তানি আখ্যা দেওয়া এবং এই যুক্তি উপস্থাপন করা যে ইমাম জাফর আস-সাদিকের শাসনভার গ্রহণ করা উচিত ছিল, এটি একটি সম্পূর্ণ শিয়া পুনর্লিখনবাদী অবস্থান যা আহলুস ঐতিহাসিক আকিদার সাথে সম্পূর্ণরূপে সাংঘর্ষিক।

সে সকল আব্বাসীয় খলিফার বৈধতার দাবি এবং পরোক্ষভাবে আলীর পূর্বে যারা শাসন করেছেন তাদের সকলের বৈধতা প্রত্যাখ্যান করেছে।

لايجوز تولّي الحكم بمنطق العباسيين الذين يرون أن انتسابهم إلى ابن عم النبي يؤهلهم لذلك !! ولا يجوز تولي الحكم بمنطق المنصور الذي كان يدعي أن الإمام الحسن تنازل عن الخلافة للأمويين ونحن أخذناها منهم بالقوة!!

আব্বাসীয়দের যুক্তিতে শাসনক্ষমতা গ্রহণ করা জায়েজ নয়, যারা মনে করে যে নবীর চাচাতো ভাইয়ের বংশধর হওয়াই তাদের জন্য এ ক্ষমতার যোগ্যতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট! আর মনসুরের যুক্তিতেও শাসনক্ষমতা গ্রহণ জায়েজ নয়, যে দাবি করত যে ইমাম হাসান উমাইয়াদের কাছে খিলাফত ছেড়ে দিয়েছিলেন, আর আমরা তা তাদের কাছ থেকে জোর করে কেড়ে নিয়েছি!![111]মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৮৪, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ … Continue reading

খামেনেয়ী আব্বাসী খেলাফতকে ঢালাওভাবে জালিম শাসনকাল আখ্যায়িত করে লিখেছে:

وهذا هو الحال على مر التاريخ حيث كان أئمة العدل في الصدر الأول للإسلام ومنهم الرسول الأكرم وكذلك خلفاء الجور من بني أمية وبني العباس – وهذا ما لمسته في ثنايا التاريخ – يستثمرون صلاة الجمعة لتدعيم مرتكزات حكوماتهم، وذلك ما يقوم به الخليفة بنفسه أو ولاته في الأمصار الإسلامية.

আর ইতিহাসের ধারায় এটাই অবস্থা। ইসলামের প্রথম যুগে ন্যায়পরায়ণ ইমামগণ, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহান রাসুল (সা.), এবং তদ্রূপ উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের জালিম খলিফাগণ — আর এটাই আমি ইতিহাসের পাতায় অনুধাবন করেছি — তাঁরা জুমার নামাজকে ব্যবহার করতেন নিজ নিজ সরকারের ভিত্তি সুদৃঢ় করার জন্য। আর এই কাজটি খলিফা নিজে করতেন অথবা তাঁর নিযুক্ত শাসকেরা ইসলামী শহরসমূহে করতেন। [112]আছ-ছাক্বাফাতু ওয়া বানাউল মুজতামায়ি ফী দ্বওয়ি ইরশাদাতিস সাইয়্যিদিল … Continue reading

খামেনেয়ী এখানে স্পষ্টতই উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলিফাদের “খুলাফায়ে জোর” (অত্যাচারী/জালিম খলিফা) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাদের শাসনকে “হুকমান বাতিলান” (বাতিল/অবৈধ শাসন) বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

আহলুস সুন্নাহ স্বীকার করে কিছু উমাইয়া ও আব্বাসীয় শাসক অত্যাচারী ছিলেন, কিন্তু সব উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলিফাকে বাতিল ও অবিচারের শাসক হিসেবে সম্পূর্ণরূপে নিন্দা করা একটি বিশেষভাবে রাফেযী অবস্থান যা ওয়ালাতুল ফাকীহ কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একটা নোংরা চাল। আহলুস সুন্নাহ তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি স্বীকার করলেও, এই খলিফাদের অনেককেই মুসলিম উম্মাহর বৈধ শাসক হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

এমনকি আলী খামেনী যেই ইবনুল আছির রাহিমাহুল্লাহ এর ইতিআসের বই থেকে সে আংশিক উদ্ধৃতি দিয়ে সাহাবাদের আক্রমণ করছে সে তার সমন্ধেই লিখেছে:

وحينما ينظر المرء الى مضامين كتاب ابن الأثير الموسوم بـ (الكامل في التاريخ) يشعر بوجود عصبية أموية وعثمانية فيه، وأحتمل أنه انتهج ذلك الاسلوب مداراة لبعض الاعتبارات

আর যখন কেউ ইবনে আসিরের ‘আল-কামিল ফিত-তারিখ’ নামক গ্রন্থের বিষয়বস্তুর প্রতি দৃষ্টিপাত করে, তখন সে তাতে উমাইয়া ও উসমানীয় গোষ্ঠীগত পক্ষপাতিত্ব (আসাবিয়া) অনুভব করে। আর আমার ধারণা, তিনি কিছু কিছু বিবেচনার তোষামোদ করার জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন।[113]আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ১১৮

আলী খামেনী তার বইতে লিখেছে:

و أثناء الحكومات الطويلة المدى لسلاطين بني أمية و بني العباس، كانوا يطاردون الذين ظلوا ينادون بالاسلام الحقيقي والمحمدي الخالص، أي الذين كانوا يعانون أنواع الضغوط والتعذيب والكبت و أنواع الدسائس التي كانت تخطط لهم، فحياة الإمام موسى بن جعفر الإمام السابع للشيعة ] و باقي الأئمة عليهم السلام و سيرة العلماء والمحدثين الكبار الذين لاقوا الأمرين من خلفاء الجور والظلم آنذاك وقد تم تعذيبهم و ضربهم بالأسواط و زجهم في السجون والزنازين وسفك دمائهم الزكية الطاهرة، وهذه نماذج بسيطة من تلك المواجهات العنيفة»

আর উমাইয়া ও আব্বাসীয় বাদশাহদের দীর্ঘমেয়াদী শাসনামলে, তারা তাদেরকে নির্যাতিত করত যারা প্রকৃত ইসলাম ও খাঁটি মুহাম্মাদী ইসলামের ডাক দিয়ে যাচ্ছিল, অর্থাৎ যারা নানাবিধ চাপ, নির্যাতন, নিপীড়ন ও তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হত। তাই শিয়াদের সপ্তম ইমাম মূসা ইবনে জাফর (আ.)-এর জীবন এবং অন্যান্য ইমাম (আ.)-দের জীবন ও বড় বড় আলিম ও মুহাদ্দিসদের জীবনী—যারা তৎকালীন অত্যাচারী ও জালিম খলিফাদের হাতে নানাকষ্ট ভোগ করেছেন, তাদেরকে নির্যাতন করা হয়েছে, বেত্রাঘাত করা হয়েছে, অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং তাদের পবিত্র রক্তপাত করা হয়েছে—তা হচ্ছে সেই তীব্র সংঘর্ষের কিছু সাধারণ নমুনা মাত্র। [114]আল কুরআন কিতাবুল হাইয়্যাহ, ১১৫-১১৬ পৃষ্ঠা, প্রকাশক: দারুল ওয়ালায়ি, বৈরত … Continue reading

এই লেখায় স্পষ্টভাবে “শিয়াদের সপ্তম ইমাম” এর উল্লেখ করা হয়েছে এমনভাবে যা শিয়া ইমামাতের ধারাকে একটি স্বীকৃত ইসলামী সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে। অধিকন্তু, উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলিফাদের সমষ্টিগতভাবে “জালিম ও অত্যাচারী খলিফা” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কিছু অত্যাচারী শাসক ছিলেন, তবে এই রাজবংশগুলোর ওপর সম্পূর্ণরূপে অভিশাপারোপ করা  যাদের সময়ে অনেক মহান আহলুস সুন্নাহর আলিম বিদ্যমান ছিলেন – এটি একটি শিয়া বিতর্কমূলক অবস্থান। সুন্নি আলিমগণ এ বিষয়ে আরও সূক্ষ্ম, ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন।

খামেনেয়ী বইয়ে তার বইয়ের রাফেযী অনুবাদক লিখেছে:

تفاقمت العوامل السلبية على طريق المسيرة، حتى أدى الأمر إلى ظهور آلهة متعددة بين المسلمين يحكمون بينهم بغير ما أنزل الله، وينصبون من أنفسهم قيمين على البشرية مكان الدين القيم. كما أدى الأمر إلى أن تعصف الأهواء في المسلمين، وتفرقهم عن سبيل الله، وتسلبهم دورهم القيادي التاريخي على الساحة البشرية. وهذا أدى إلى ما نشاهده اليوم في العالم من تيه، وصراع دموي مسعور ، يكاد يحرق الأخضر واليابس.

ইতিবাচক পথে চলার পথে নেতিবাচক কারণগুলো এতটাই বৃদ্ধি পেল যে, পরিণামে মুসলমানদের মধ্যে একাধিক উপাস্যের আবির্ভাব ঘটল, যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার বিপরীতে তাদের মধ্যে বিচারকার্য চালাতে লাগল এবং নিজেদেরকে মানবতার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করে নিল সঠিক ধর্মের স্থলে। এর ফলে মুসলমানদের মধ্যে খেয়াল-খুশির প্রাদুর্ভাব ঘটল, যা তাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিল এবং মানব সমাজে তাদের ঐতিহাসিক নেতৃত্বের ভূমিকা কেড়ে নিল। আর এরই ফলস্বরূপ আমরা আজ বিশ্বে যে দিশেহারা অবস্থা ও রক্তক্ষয়ী উন্মত্ত সংঘাত দেখছি, যা প্রায় সবকিছুকেই ধ্বংস করে দিচ্ছে।[115]বই: রুহুত তাওহীদ, ৩৫ পৃষ্ঠা, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য

এই অনুচ্ছেদটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে নবী (ﷺ)-এর ওফাতের কিছুকাল পরেই ধর্মের বিষয়গুলো ভুল পথে চলে গিয়েছিল – যেটি একটি সাধারণ শিয়া চিন্তাধারা যা ইঙ্গিত করে যে সাহাবীগণ (যারা নবীর পর ইসলামের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন) ধর্মকে কলুষিত করেছিলেন। বইটি এখানে ইসলামের ইতিহাসকে প্রারম্ভিক বিভ্রান্তির ইতিহাস হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা রাফেযীদের বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে সাহাবীগণ (কয়েকজন ব্যতীত) নবীর মৃত্যুর পর সবাই সত্য পথ পরিত্য্যাগ করেছিলেন। এটি আহলুস আকিদার সম্পূর্ণ বিপরীত, যা ধারণা করে যে সাহাবীগণ সকলেই ন্যায়পরায়ণ এবং তাদের যুগ ছিল সর্বোত্তম প্রজন্ম, যেমনটি সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

যিন্দিক খামেনেয়ী বলেছে:

يقول السيد: «إنني شخصيا لا أؤمن بالدين الحكومي – كدين الأمويين والعباسيين، فالدين هو دين الله وهو إيمان وشعور قلبي – أما أنتم فحكومة دينية

সায়্যিদ বলেছেন: “আমি ব্যক্তিগতভাবে সরকারি ধর্মে বিশ্বাস করি না – যেমন উমাইয়াদের এবং আব্বাসীয়দের ধর্ম। ধর্ম হলো আল্লাহর ধর্ম এবং তা হলো অন্তরের বিশ্বাস ও অনুভূতি – কিন্তু তোমরা ধর্মীয় সরকার।”[116]আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকর‍্যি এনদাল ইমাম খামেনেয়ী, ১ম খণ্ডন, ২৩০ পৃষ্ঠা

খামেনেয়ী লিখেছে:

وفي إشارة منه إلى أهمية المصطلحات ودورها في التعبير عن المفاهيم، يشير الإمام الخامنئي إلى حوار يرويه ابن الأثير في الكامل بين الخليفة الثاني والصحابي سلمان الفارسي فقد سأل عمر يوما سلمان فقال له : أملك أنا أم خليفة ؟ فأجابه سلمان: إن أنت جبيت من أرض المسلمين درهما أو أقل أو أكثر ووضعته في غير حقه فأنت ملك لا خليفة.

এবং পরিভাষার গুরুত্ব ও ধারণা প্রকাশে তাদের ভূমিকার প্রতি ইঙ্গিত করে ইমাম খামেনেয়ী ইবনে আসিরের ‘আল-কামিল’-এ বর্ণিত দ্বিতীয় খলিফা ও সাহাবী সালমান ফারসির মধ্যকার একটি সংলাপের উল্লেখ করেছেন। একদিন উমর সালমানকে জিজ্ঞেস করলেন: আমি কি বাদশাহ, নাকি খলিফা? উত্তরে সালমান বললেন: তুমি যদি মুসলিমদের জমিন থেকে একটি দিরহামও বা তার চেয়ে কম বা বেশি আদায় কর এবং তা অন্যায্য খাতে ব্যয় কর, তাহলে তুমি খলিফা নও, বরং বাদশাহ।[117]আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকর‍্যি এনদাল ইমাম খামেনেয়ী, ১ম খণ্ডন, ১১১ পৃষ্ঠা

খামেনী যিন্দিকের এই বিবৃতিগুলো সমগ্র উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগকে একটি কলুষিত “রাষ্ট্রীয় ধর্ম” প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যাতে খামেনেয়ী ব্যক্তিগতভাবে অবিশ্বাস করেন। এটি ইসলামী শাসনের সম্পূর্ণ যুগের উপর একটি ব্যাপক নিন্দা, যার মধ্যে এমন কিছু সময়কাল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা আহলে সুন্নাত বৈধ বলে গণ্য করে। অনেক উমাইয়া ও আব্বাসীয় খলিফা আহলুস সুন্নাহর বৈধ মুসলিম শাসক হিসেবে বিবেচিত হন।

 

জাল কিতাব নাহজুল বালাগাহ, বিহারুল আনওয়ার ও আল কাফী এর সূত্রে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এর নামে আলী খামেনেয়ীর মিথ্যাচার

খামেনেয়ী তার বইতে নাহজুল বালাগাহ থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছে:

لقد جاء في احدى خطب نهج البلاغة وصف الإمام على الفاقد التقوى بأنه: «فهو كراكب الصعبة، إن اشنق لها خرم، وإن اسلس لها تقحمক

নাহজুল বালাগার একটি খুতবায় এসেছে, ইমাম আলী (আ.) যার তাকওয়া নেই এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: “সে দুরন্ত উটের আরোহীর মতো, যদি সে তার লাগাম টেনে ধরে, তবে (উটের নাকে) ফাটল সৃষ্টি হয় (ব্যথা পায়), আর যদি সে লাগাম শিথিল করে দেয়, তবে সে (উট) বিপজ্জনক স্থানে নিপতিত হয়।”[118]আল ফায়িদ ওয়াশ শাবাব ফী হাওরি মাফতুহিন, ১৪ পৃষ্ঠা

ইতিহাসবিদ ইমাম ইবনে খালদুন এবং অন্যান্য আলিমগণ নাহজুল বালাগার প্রামাণ্যতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে এটি চতুর্থ হিজরি শতাব্দীতে শরিফ আর রাযী দ্বারা সংকলিত হয়েছিল, যার কোনো বর্ণনাসূত্র (ইসনাদ) নেই।

খামেনেয়ী লিখেছে:

فما راعني إلا والناس كعرف الضبع إلي، ينثالون علي من كل جانب حتى لقد وطىء الحسنان وشق عطفاي مجتمعين حولي كربيضة الغنم ؟ وفي مكان آخر يقول: والله لولا حضور الحاضر وقيام الحجة بوجود الناصر وما أخذ الله على العلماء من أن لا يقاروا على كظة ظالم ولا سغب مظلوم لألقيت حبلها على غاربها، ولسقيت آخرها بكأس أولها ولألفيتم دنياكم هذه أزهد عندي من عفطة عنز

আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ

হঠাৎ আমি কী দেখি? লোকেরা কেশর উঁচু করা হায়নার মতো আমার চারপাশে ঘিরে ধরল, প্রতিটি দিক থেকে তারা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এমনকি হাসান ও হুসাইনও পদদলিত হলো এবং আমার চাদর দু’দিক থেকে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। তারা যেন মেষপালের মতো আমার চারপাশে জড়ো হলো। আর অন্য জায়গায় তিনি বলেন: আল্লাহর কসম, যদি উপস্থিত জনতার উপস্থিতি এবং সাহায্যকারীর অস্তিত্বের মাধ্যমে হুজ্জত (যুক্তি-প্রমাণ) প্রতিষ্ঠিত না হতো এবং আল্লাহ আলেমদের থেকে এই অঙ্গীকার না নিতেন যে, তারা অত্যাচারীর পেটুকতা ও অত্যাচারিতের ক্ষুধার ওপর নীরব থাকবেন না, তাহলে আমি এর রশি তার কাঁধে ফেলে দিতাম (দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেতাম) এবং শেষকে প্রথমের পেয়ালা দিয়ে সেচ দিতাম। আর তোমরা তোমাদের এই দুনিয়াকে দেখতে পেতে যে, তা আমার কাছে ছাগলের নাকের ময়লার চেয়েও তুচ্ছ।[119]আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৫

খামেনেয়ী নাহজুল বালাগাহ নামক জাল বইট থেকে খুতবা আশ-শাকশাকিয়া দিয়ে ইঙ্গিত করে যে আলী (রা.) প্রথম দুই খলিফাকে অবিচারক এবং তাদের খিলাফতকে নিপীড়নমূলক মনে করতেন এবং একে “একই বিষের পেয়ালা থেকে পান করা” বলে অভিহিত করেছেন। এটি বাতিল কারণ প্রমাণিত হাদিসে দেখা যায় যে আলী (রা.) আবু বকর ও উমর (রা.)-এর বৈধতা স্বীকার করেছেন এবং তাদের প্রশংসা করেছেন।

 

খামেনেয়ী লিখেছে:

ليس علي ابن أبي طالب بالشخصية التاريخية فحسب، إنما هو أمير المؤمنين، أي أنه بالنسبة لنا الأسوة والقدوة والنموذج. ونموذج للحكومة التي ينبغي على حكامها وقادتها أن يقتدوا بسلوكه ومنهجه. وعلى الإسلاميين أن يتخذوا سلوك ومنهج علي بن أبي طالب قدوة ونموذجاً لهم. واليوم حيث أنعم الله علينا بقيام الجمهورية الإسلامية والتي أثبتت جديتها في العالم وذلك بفضل جهود المسلمين والتضحيات الجسام التي بذلت

আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বই নন, বরং তিনি হলেন আমিরুল মুমিনিন। অর্থাৎ, তিনি আমাদের জন্য আদর্শ, অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। তিনি সরকারের একটি মডেল, যার শাসক ও নেতাদের জন্য তার আচরণ ও পদ্ধতি অনুসরণ করা কর্তব্য। আর ইসলামী চিন্তাধারার অনুসারীদের জন্য আলী ইবনে আবি তালিবের আচরণ ও পদ্ধতিকে নিজেদের আদর্শ ও মডেল হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। আর আজ যখন আল্লাহ আমাদের ওপর ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নিয়ামত দান করেছেন, যা বিশ্বে তার অস্তিত্বের গুরুত্ব প্রমাণ করেছে মুসলিমদের প্রচেষ্টা এবং প্রদত্ত বিশাল ত্যাগের বিনিময়ে।[120]আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১১

 

আহলে সুন্নাত চার খলিফাকেই নবী করীম (সা.)-এর বৈধ উত্তরসূরি এবং ইসলামী শাসনের জন্য আদর্শ হিসেবে গণ্য করেন। আহলুস সুন্নাহ বিশেষভাবে হাদিসের ভিত্তিতে নবীর সুন্নাত এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাত অনুসরণের ওপর জোর দেন: “তোমরা আমার সুন্নাত এবং আমার পরে হিদায়াতপ্রাপ্ত খলিফাদের সুন্নাত অনুসরণ করো।”

রাসূল ﷺ খুলাফা বলেছেন যা বহুবচন, খলিফা (একবচন) নয়। কিন্তু রাফেযী খামেনেয়ী আমিরুল মুমিনীন ও মডেল হিসেবে শুধু আলীকে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আখ্যায়িত করছে কেন?

খামেনী লিখেছে:

ولكن مع كل التحسر والتأسف فإن ما جرى بعد النبي الأكرم له على رسالته وأمته يدل على أنه لم يتم طوال التاريخ إظهار التقدير لهاتين الوديعتين اللتين تركهما لنا خاتم المرسلين بما يليق بهما، فضاعت الأمة الإسلامية في متاهات التاريخ وأضحت وحيدة من دون هاد وسلكت طريق الضلالة

কিন্তু অত্যন্ত আফসোস ও দুঃখের সাথে বলতে হয়, নবী করীম (সা.)-এর পর যা ঘটেছে তাঁর রিসালাত ও উম্মতের সাথে, তা প্রমাণ করে যে ইতিহাসের ধারায় কখনোই শেষ নবী (সা.) আমাদের জন্য রেখে যাওয়া আমানতের প্রতি যথাযথ মূল্যায়ন প্রদর্শন করা হয়নি। ফলে ইসলামী উম্মত ইতিহাসের জটিল গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেছে এবং পথপ্রদর্শক ছাড়া একাকী হয়ে পড়েছে ও পথভ্রষ্টতার পথে পাড়ি জমিয়েছে।[121]আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা … Continue reading

নবী (সা.)-এর পর ইসলামী উম্মত “ইতিহাসের জটিল গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেছে এবং পথভ্রষ্টতার পথে পাড়ি জমিয়েছে” এটার মাধ্যমে খামেনেয়ী সরাসরি নবীর ﷺ পরে দায়িত্ব গ্রহণকারী সাহাবীদের উদ্দেশ্যে করেছে। শিয়া বোধগম্যতা স্পষ্ট: যারা আলীর অনুসরণ করেনি তারা উম্মতকে গোমরাহীতে নিয়ে গিয়েছিল। এটি সমগ্র সাহাবী প্রজন্মের নেতৃত্বের ওপর একটি সম্পূর্ণ নিন্দা যা নাপাক খামেনীর জবান থেকে এসেছে।

 

আলী খামেনেয়ী লিখেছে:

«فلعل جملة لا يفترقا حتى يردا علي الحوض إشارة إلى أن كل ما ألم بأي من الثقلين بعد الوجود المقدس لرسول الله الله وسلم قد أصاب الثقل الآخر أيضًا، وإنّ هجر أي منهما هو هجر للآخر، حتى يرد هذان المهجوران الحوض على رسول الله الله. وهل أن هذا الحوض هو مقام اتصال الكثرة بالوحدة واضمحلال القطرات في البحر، أم هو شيء آخر لا سبيل للعرفان والعقل البشري إلى إدراكه ؟ مع وجود هذا الهجران الذي كان في بعض الموارد بالطبع تحت عنوان سعي المنافقين لإخفائه وطمسه، فإن هذين الثقلين العظيمين قد أظهرا، عبر هذا التاريخ الممتد بعد النبي الله الكثير من التجليات العظيمة والجذابة وكان لهما تأثيرات متفاوتة على جماعة هنا وجماعة هناك. فمع مرور الأيام، ظهرت جماعة احتارت في لفظ القرآن وأوصلت فن القراءة إلى أوجها؛ وتاهت أخرى في ظاهره وأتقنت فنون الكتابة والتذهيب وابتكرت فنونًا عديدة في هذا المجال؛

তাই সম্ভবত “তারা কখনো পৃথক হবে না, যতক্ষণ না তারা হাউযে আমার কাছে ফিরে আসবে” এই বাক্যটির ইঙ্গিত হলো যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র অস্তিত্বের পর দুই ভারী জিনিসের (কুরআন ও আহলে বাইত) যেকোনো একটির উপর যা কিছু আপতিত হয়েছে, তা অপরটির উপরও আপতিত হয়েছে। আর এ দুটির যেকোনো একটিকে পরিত্যাগ করা অপরটিকেও পরিত্যাগ করার নামান্তর, যতক্ষণ না এই দুই পরিত্যক্ত বস্তু হাউযে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে ফিরে আসে। আর এই হাউয কি বহুত্বের একত্বে মিলিয়ে যাওয়া এবং ফোঁটার সাগরে বিলীন হওয়ার স্থান, নাকি তা অন্য কিছু যা মারিফাত ও মানবীয় বুদ্ধি উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়?

যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই পরিত্যাগ অবশ্যই মুনাফিকদের তা গোপন ও বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার আড়ালে ঘটেছিল, তথাপি এই দুই মহান ভারী জিনিস (দুই মূল্যবান সম্পদ) নবী (সা.)-এর পর দীর্ঘ ইতিহাসের ধারায় অসংখ্য মহান ও আকর্ষণীয় প্রকাশ ঘটিয়েছে এবং এখানে ওখানে বিভিন্ন দলের ওপর বিভিন্ন মাত্রায় প্রভাব ফেলেছে। ফলে দিন যেতে যেতে একদল আবির্ভূত হলো যারা কুরআনের শব্দ ও উচ্চারণে মগ্ন হয়ে পড়ল এবং পাঠশিল্পকে তার চরম শিখরে পৌঁছে দিল। আরেকদল কুরআনের বাহ্যিক আকারে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ল এবং লিখন ও স্বর্ণালংকরণের শৈল্পিক কৌশল আয়ত্ত করল এবং এই ক্ষেত্রে অসংখ্য নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করল।[122]আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪০

খামেনেয়ী দুই ভারী জিনিস (কুরআন ও আহলে বাইত) “পরিত্যাগ” করার কাজটি মুনাফিকদের প্রচেষ্টার সাথে যুক্ত করেছে, যারা সেগুলো গোপন ও বিলুপ্ত করার কাজ করেছিল। ধ্রুপদী শিয়াদের বানোয়াট গালগল্প ও কিতাবাদি, এই প্রসঙ্গে “মুনাফিক” বলতে একটি সাংকেতিক ইঙ্গিত করা হয় প্রাথমিক খলিফা এবং সাহাবীদের মধ্যে তাদের সমর্থকদের প্রতি। এটি নাম না নিয়েই সম্ভাব্য সবচেয়ে শত্রুতাপূর্ণ কাঠামো, যা একই সিলসিলায় রাফেযী খামেনী তুলে ধরেছে।

খামেনেয়ী বলেছে:

فالبعض مدحوا شجاعته، وآخرون بلاغته، وجماعةً أخرى علمه، ورابعة فناؤه في العبادة ولطافة روحه، ولكن لم يجد أي من هؤلاء طريقا إلى باطنه، بل حتى أنهم ضلوا به كما قال: يهلك في جماعة وذلك لأنهم قرأوه دون القرآن.

কেউ কেউ তার সাহসিকতার প্রশংসা করেছে, অন্যরা তার বাগ্মিতার, আরেক দল তার জ্ঞানের এবং চতুর্থ দল তার ইবাদতে মগ্নতা ও আত্মার কোমলতার। কিন্তু তাদের কেউই তার অভ্যন্তরে পৌঁছার পথ খুঁজে পায়নি, বরং এমনকি তারা তার সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়েছে যেমনটি তিনি বলেছেন: “সে তার দলবলের মধ্যে ধ্বংস হবে।” কারণ তারা কুরআন ছাড়া তাকে পড়েছে (বুঝেছে)।[123]আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪১

খামেনীর দাবি এমনকি যেসব সাহাবী আলীর প্রশংসা করেছিলেন, তারাও শুধু তার বাহ্যিক গুণাবলি দেখেছিলেন এবং “তার মাধ্যমে পথভ্রষ্ট হয়েছিলেন”—অর্থাৎ তারা তার অভ্যন্তরীণ গূঢ় বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেননি। এটি একটি বানোয়াট শিয়া দাবি যে এমনকি যেসব সাহাবী আলীকে ভালোবাসতেন, তারাও তার ঐশী মর্যাদা সঠিকভাবে বুঝতে ব্যর্থ হয়ে গেছিলেন।

খামেনেয়ী লিখেছে:

الزمنية التي هي حق للإمام عليه السلام قد جعل النبي صلى الله عليه وآله لها شرطا وهو رضا الناس وإقرارهم بهذه الولاية، وهو أيضا ما أشار إليه على نفسه بقوله عليه السلام (إنما الخيار للناس قبل أن يبايعوا»

আর সাময়িক কর্তৃত্ব, যা ইমাম (আ.)-এর অধিকার, নবী (সা.) তার জন্য একটি শর্ত নির্ধারণ করেছেন, তা হলো জনগণের সন্তুষ্টি এবং এই ওয়ালায়াতকে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া। আর এটিই হলো যা আলী (আ.) নিজে তার উক্তিতে ইঙ্গিত করেছেন: “লোকদের জন্য তাদের বাইয়াত করার আগে ইখতিয়ার (পছন্দ করার স্বাধীনতা) রয়েছে”।[124]আস-সিয়াদাতুস শিয়া’তুদ দীন্যিয়াহ, ৩০ পৃষ্ঠা

খামেনী আলীর রাজনৈতিক নেতৃত্বের “অধিকার” এবং “লোকদের জন্য তাদের বাইয়াত করার আগে ইখতিয়ার রয়েছে” এই শর্তের উল্লেখের মাধ্যমে, ইঙ্গিত করতে চাচ্ছে যে নবী (সা.)-এর পরে সাহাবীগণ আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ইখতিয়ার দেয়া সত্ত্বেও তার কাছে বাইয়াত না করে ভুল করেছিলেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেইনী লিখেছে:

إن أمير المؤمنين الله وصل إلى الحكم في مثل هذه المرحلة، لهذا تجد كلمات نهج البلاغة تؤكد على الزهد والرغبة عن الدنيا أكثر من أي شيء آخر ، ومع الأسف فإن العدل والزهد العلويان أيضاً لم يستطيعا السيطرة على تيار حب الدنيا الهدام في تلك المرحلة، وبالنهاية وقع ما وقع. إننا اليوم نعيش مرحلة من الثورة الكبيرة والعظيمة والعميقة، إلا أننا نمتاز عن صدر الإسلام بنقطتين مهمتين

নিশ্চয়ই আমিরুল মুমিনিন (আলাইহিস সালাম) এ ধরনের এক পরিস্থিতিতে শাসনক্ষমতায় পৌঁছেছিলেন, এজন্য তুমি দেখবে নাহজুল বালাগার বক্তব্যগুলো যুহদ (দুনিয়াবিমুখীতা) ও দুনিয়া থেকে বিরত থাকার ওপর অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছে। আর দুঃখের বিষয় হলো, আলীর ন্যায়বিচার ও যুহদও সেই পর্যায়ে দুনিয়াপ্রীতির ধ্বংসাত্মক স্রোতকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই ঘটলো। আমরা আজ একটি বৃহৎ, মহান ও গভীর বিপ্লবের পর্যায়ে বসবাস করছি, কিন্তু ইসলামের প্রারম্ভিক যুগ থেকে আমরা দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।[125]আছ ছাওরাতু মুযাহহির লিতাহাররাকিদ দীনি বিউজুহিত ত্বাওয়াগীত, পৃষ্ঠা ২২৪

আর শেষ পর্যন্ত যা হওয়ার তাই ঘটেছিল — এই বাক্যাংশটি, আলীর খিলাফত ও গৃহযুদ্ধের প্রসঙ্গে, শিয়া ইঙ্গিতে পরিপূর্ণ যা ইঙ্গিত দেয় যে সাহাবীগণ আলীর বিরোধিতা করেছিলেন (যেমন মুয়াবিয়া, তালহা, যুবায়র এবং যারা জামাল ও সিফফিনের যুদ্ধে লড়েছিলেন) তারা দুনিয়াপ্রীতি (পার্থিব কামনা-বাসনা) দ্বারা চালিত হয়েছিলেন। এটি জ্যেষ্ঠ সাহাবীদের একটি পাতলা আবরণের নিন্দা যারা আলীর বিরোধিতা করেছিলেন। সমস্ত সাহাবী সম্মানের যোগ্য এবং সাহাবীদের মধ্যে বিরোধ ছিল ইজতিহাদের বিষয়, দুর্নীতি নয়। ইঙ্গিত করা যে সাহাবীরা পার্থিক লোভের কারণে ইসলামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন, এটি একটি শিয়া বিতর্কমূলক অবস্থান যা আহলে সুন্নাত স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

 

খামেইনী লিখেছে:

وبقي عمار بعد رحيل النبي إلى جانب أمير المؤمنين وقد تولى عمار في زمن الخليفة الثاني ولاية الكوفة لمدة، حيث قام الخليفة بعدها بخلعه على أثر السعايات. لقد كان له دور مؤثر في تجهيز جيش أمير المؤمنين في حرب الجمل، وجوابه على شبهات جنود أمير المؤمنين في معركة صفين. توفي عمار بن ياسر عن عمر ناهز الواحد وتسعون سنة في معركة صفين.

আর নবী (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আম্মার আমিরুল মুমিনিনের (আ.) পাশে থেকে গেলেন। দ্বিতীয় খলিফার যুগে আম্মার কিছুদিন কুফার শাসনের দায়িত্ব পালন করেন, পরে অপবাদ ও চক্রান্তের কারণে খলিফা তাকে তা থেকে সরিয়ে দেন। জামালের যুদ্ধে আমিরুল মুমিনিনের বাহিনী প্রস্তুত করতে তাঁর প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল এবং সিফফিনের যুদ্ধে আমিরুল মুমিনিনের সৈন্যদের সন্দেহ-প্রতিবাদের জবাব দিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আম্মার ইবনে ইয়াসার একানব্বই বছর বয়সে সিফফিনের যুদ্ধে মৃত্যুবরণ করেন।[126]আল ফিকরিল ইসলামী আলা দ্ব্ওয়িল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা ৮৭, পাদটীকা ৩

এখানে আম্মারকে বারবার আলীর পক্ষে একজন অনুগত সমর্থক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, অন্যান্য সাহাবীদের (নবীর সাহচর্য লাভকারী) বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী হিসেবে যার মধ্যে আয়েশা, যুবায়র ও তালহা (জামালের যুদ্ধ) এবং মুয়াবিয়া (সিফফিনের যুদ্ধ) অন্তর্ভুক্ত।

আহলুস সুন্নাহ মনে করেন যে সাহাবীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ ছিল ইজতিহাদের বিষয় এবং উভয় পক্ষই ছিল আন্তরিক মুসলিম যারা সম্মানের যোগ্য। উভয় পক্ষের সাহাবীগণ — মুয়াবিয়া, আয়েশা, যুবায়র ও তালহা সহ সবাই সম্মানিত। এক পক্ষকে দ্ব্যর্থহীনভাবে “ইমামের বাহিনী” এবং অপর পক্ষকে বিদ্রোহী হিসেবে উপস্থাপন করা একটি শিয়া মতাদর্শগত দৃষ্টিকোণ যা আহলুস সুন্নাহ প্রত্যাখ্যান করেন।

আলী খামেইনী আরো লিখেছে:

ولم تسلم روايات المعصومين سلام الله عليهم في هذا المجال، والتي تمثل نقطة التقاء القرآن والعترة من هذه المهجورية وذلك لأنها كانت حاوية على روح القرآن ودليل على أهل البيت. علاوة على ذلك، فقد تم التطاول على هذه الروايات، ولم يقتصر ذلك على مرحلة منع نقل الحديث، بل أعقبها هجوم الإسرائيليات الغادر وتلفيق الروايات ودسها بين هذه الجواهر النفيسة من أجل أن يختلط الحق بالباطل في هذا السوق الذي يفترض أن يستفيد المسلمون منه كنهج حياة وعمل، لا سيما في مرحلة الغيبة الكبرى المليئة بالفتن

এবং এই ক্ষেত্রে নিষ্পাপ ইমামগণ (আ.)-এর বর্ণনাসমূহও, যা কুরআন ও ইত্রাতের মিলনস্থলের প্রতিনিধিত্ব করে, এই পরিত্যাগ থেকে রক্ষা পায়নি। কারণ এগুলো কুরআনের রূহকে ধারণ করত এবং আহলে বাইতের পরিচায়ক ছিল। এর ওপরও, এই বর্ণনাগুলোর ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। তা শুধু হাদিস বর্ণনা নিষিদ্ধ করার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর পরে এসেছে ইসরাইলিয়াতের বিশ্বাসঘাতক আক্রমণ, বর্ণনা জাল করা এবং এই মূল্যবান রত্নগুলোর মধ্যে ভেজাল মিশিয়ে দেওয়া, যাতে এই বাজারে সত্য ও মিথ্যা মিশ্রিত হয়ে যায়—যেখান থেকে মুসলিমদের জীবন ও কর্মের পথনির্দেশিকা হিসেবে শিক্ষা নেওয়ার কথা ছিল, বিশেষ করে ফিতনায় পরিপূর্ণ গায়বাতে কুবরা এর যুগে।[127]আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪১

খামেনেয়ী আহলে বাইতের বর্ণনার ওপর আক্রমণের দুটি স্তর চিহ্নিত করেছে: (১) “হাদিস বর্ণনা নিষিদ্ধ করার পর্যায়” — এটি উমর ইবনুল খাত্তাবের হাদিস বর্ণনা সীমিত করার সুপরিচিত নীতির প্রতি একটি সরাসরি ইঙ্গিত, যা এখানে দমন-পীড়নের কাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে,  এবং (২) ইসরাইলী অনুপ্রবেশ ও জালিয়াতি।

উমরের হাদিস নীতিকে ঐশী পথনির্দেশনার ইচ্ছাকৃত দমন হিসেবে চিহ্নিত করা একটি আদর্শ শিয়া বিতর্কমূলক অবস্থান।

আলী খামেনেয়ীর আরো ঐতিহাসিক মিথ্যাচারঃ

(۲) خباب بن أرت كان من أهل النبطية ومن العبيد الذين لبوا نداء النبي وتعرض إلى الكثير من التعذيب وبقي إلى جانب النبي. كان حاضرًا إلى جانب أمير المؤمنين في حروب صفين والنهروان، وقد قال أمير المؤمنين بشأنه بعد وفاته، كما جاء في نهج البلاغة : يَرْحَمُ اللهُ خَبَّابًا ، فَلَقَدْ أَسْلَمَ رَاعْبًا، وَهَاجَرَ طَائِعًا، قَنِعَ بِالْكَفَافِ، وَرَضِيَ عَنِ اللَّهِ، وَعَاشَ مُجَاهِدًا.

(২) খাব্বাব ইবনে আরাত নাবাতিয়াদের অন্তর্ভুক্ত এবং ক্রীতদাসদের একজন ছিলেন যিনি নবীর আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন, অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং নবীর পাশে থেকে গিয়েছিলেন। তিনি সিফফিন ও নাহরাওয়ানের যুদ্ধে আমিরুল মুমিনিনের (আ.) পাশে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর আমিরুল মুমিনিন তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, যেমনটি নাহজুল বালাগায় বর্ণিত হয়েছে: “আল্লাহ খাব্বাবের ওপর রহম করুন, কারণ সে সন্তুষ্টচিত্তে ইসলাম গ্রহণ করেছিল, স্বেচ্ছায় হিজরত করেছিল, সীমিত জীবনে তুষ্ট ছিল, আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট ছিল এবং মুজাহিদ হিসেবে জীবনযাপন করেছিল।”।[128]আল ফিকরিল ইসলামী আলা দ্ব্ওয়িল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা ৮৭, পাদটীকা ২

খাব্বাব ইবনে আরাত (রাদিআল্লাহু আনহু) সিফফিনের যুদ্ধের আগেই মৃত্যুবরণ করেন (তার মৃত্যু প্রায় ৩৭ হিজরিতে, অথচ সিফফিন ৩৭ হিজরিতে সংঘটিত হয়েছিল, তবে অধিকাংশ বিবরণ অনুসারে তার মৃত্যুর পরে)। নাহরাওয়ানে তার উপস্থিতি একইভাবে বিতর্কিত। এই পাদটীকাটিতে একটি ঐতিহাসিক ভুল তথ্য রয়েছে, পাশাপাশি আলীর যুদ্ধগুলোকে ঐশী-নির্দেশিত হওয়ার শিয়া বর্ণনাকে সমর্থন করার জন্য ঘটনাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে।

কাজী শুরাইহ রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উপর আলী খামেনেয়ীর আক্রমণ

ইসলামের ইতিহাসে এক বিরল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন বিচারপতি কাজী শুরাইহ রাদিয়াল্লাহু আনহু। তার সমন্ধে আলী খামেনেয়ী লিখেছে:

اطلع شريح على حياة هاني بنفسه ولكنه وجده مجروحاً، فيما أن رأى هاني شريحاً القاضي حتى استغاث بالمسلمين (مخاطباً لشريح) أين قومي؟ هل ماتوا ؟ لماذا لا يأتون وينقذوني مما أنا فيه؟

يقول شريح: أردت أن أذهب وأبلغ المجتمعين حول قصر الإمارة بمقالة هاني، لكن للأسف كان هناك جاسوس ابن زیاد، فلم أستطع ماذا يعني لم أستطع؟ يعني ترجيح الدنيا على الدين.

শুরাইহ হানিকে নিজের চোখে দেখল, কিন্তু সে তাকে আহত অবস্থায় পেল। অন্যদিকে, হানি যখন শুরাইহ কাজীকে দেখল, তখন সে মুসলিমদের কাছে ডাকতে লাগল (শুরাইহকে লক্ষ্য করে বলল): আমার সম্প্রদায় কোথায়? তারা কি মরে গেছে? কেন তারা এসে আমাকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করে না?

শুরাইহ বলে: আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, প্রাসাদ চত্বরে সমবেত লোকদের কাছে হানির কথা পৌঁছে দেব। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, ইবনে যিয়াদের গুপ্তচর সেখানে ছিল, তাই আমি পারলাম না। ‘আমি পারলাম না’ এর অর্থ কী? অর্থাৎ দুনিয়াকে দ্বীনের উপর প্রাধান্য দেওয়া।[129]ওয়ানতাস্বারাদ দাম, ১০৯ পৃষ্ঠা

শুরাইহ কাজী, যিনি সাহাবীদের যুগের একজন সুপরিচিত বিচারক এবং আহলুস সুন্নাহর দ্বারা স্বীকৃত, তাকে সে এখানে এমন একজন হিসেবে উপস্থাপিত করছে যিনি “দুনিয়াকে দ্বীনের উপর প্রাধান্য দিয়েছিলেন” — এটি সাহাবীর ন্যায়পরায়ণতার উপর একটি গুরুতর নৈতিক অভিযোগ। যা সে বানোয়াট শিয়া কিচ্ছাকাহিনী থেকে জোগাড় করেছে।

 

নবী ﷺ এর দৌহিত্র হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু এর শাহাদাতের জন্য সাহাবী ও খুলাফায়ে রাশেদীনদের গালমন্দ করা

রাফেযী আলী হোসাইনী খামেনী আরো লিখেছে:

تلاحظون أن عدداً من المسلمين الأوائل لا يتجاوز الخمسين، قد أخلوا بالواقع الإسلامي إلى يومنا هذا بسبب تخلفهم عن أوامر النبي صلى الله عليه وآله ، فإنهم وإن لم يكونوا طالحين وكانوا من البدريين إلا أنهم خدعوا وتركوا مواقهم للحصول على الغنائم، مما هيأ الفرصة المناسبة للعدو في السيطرة على الموقف وإراقة تلك الدماء الطاهرة، كدم حمزة سيد الشهداء، وأدى أيضاً الى إصابة النبي صلى الله عليه وآله بالجراحة.

আপনারা লক্ষ্য করেন যে, প্রথম দিকের মুসলমানদের একটি সংখ্যা, যারা পঞ্চাশের বেশি নয়, তারা নবী (সা.)-এর নির্দেশ থেকে পিছিয়ে পড়ার কারণে আজ পর্যন্ত ইসলামী বাস্তবতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যদিও তারা দুষ্ট ছিল না এবং বদরি যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল, কিন্তু তারা প্রতারিত হয়েছিল এবং গনীমতের মাল লাভের জন্য তাদের অবস্থান ছেড়ে দিয়েছিল, যার ফলে শত্রু পরিস্থিতির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার এবং সেই পবিত্র রক্তপাতের উপযুক্ত সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল—সৈয়দুশ শোহাদা হামযার রক্তের মতো। আর এর ফলে নবী (সা.)-ও আহত হয়েছিলেন।

 

এরপর সে আরো লিখেছে:

إن التأثير السلبي للإيمان على العمل وبالعكس يؤدي الى ما حصل في أحد من الإنتكاس وغيره من الإنتكاسات من قتل الإمام الحسين ( عليه السلام) بعد خمسين سنة من ذلك، وقد ذكرت مرة أن هذه عبر تاريخية، وأنها أبلغ تأثيراً من الدروس

ঈমানের নেতিবাচক প্রভাব কাজের উপর এবং কাজের নেতিবাচক প্রভাব ঈমানের উপর—এর পরিণামই হল উহুদের বিপর্যয় এবং তার পঞ্চাশ বছর পরে ইমাম হুসাইন (আ.)-কে হত্যার মতো অন্যান্য বিপর্যয়। আমি একবার বলেছিলাম যে এগুলো ঐতিহাসিক শিক্ষা এবং তা সাধারণ শিক্ষা থেকেও বেশি প্রভাবশালী।[130]হাকিমিয়্যাতুল ইসলামী বাইনান নাযরিয়্যাতি ওয়াত তাতবিক্বী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা … Continue reading

এখানে খামেনেয়ী উহুদের যুদ্ধে কিছু সাহাবীর (যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী এবং তাদের অবস্থান ছেড়েছিল) কর্তব্য অবহেলাকে ইসলামী ইতিহাসের পরবর্তী সমস্ত “অবনতি” (বিপর্যয়/দুর্ঘটনা)-এর শৃঙ্খল-কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যার মধ্যে ইমাম হুসাইনে (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এর হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত। এই কথাটি সূক্ষ্মভাবে প্রাথমিক যুগের মুসলিম সম্প্রদায়কে ইসলামের “দূষণের” জন্য দায়ী করে, যা একটি শিয়া ঐতিহাসিক-ধর্মতাত্ত্বিক বর্ণনা। আহলুস সুন্নাহর নিকট, এইভাবে বদরী সাহাবীদের সমালোচনা করা একটি গুরুতর অপরাধ; বদরী সাহাবীগণ ইসলামের সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তিদের মধ্যে গণ্য।

খামেইনী যিন্দিক লিখেছে:

فلو أراد الإمام الحسين ع الثورة في عصر معاوية لما سمع نداؤه وذلك لأن الحكم والسياسات كانت بشكل لا يمكن للناس فيها سماع قول الحق. لذلك فإن الإمام الحسين ال لم يقدم على شيء ولم يثر أيام خلافة معاوية

ফলে ইমাম হুসাইন (আ.) যদি মুয়াবিয়ার যুগে বিপ্লব করতে চাইতেন, তাহলে তার আহ্বান কেউ শুনতে পেত না। কারণ শাসনব্যবস্থা ও নীতিমালা এমন ছিল যে, লোকেরা সত্যের বাণী শুনতে সক্ষম ছিল না। তাই ইমাম হুসাইন (আ.) মুয়াবিয়ার খিলাফতকালে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি এবং কোনো বিদ্রোহ করেননি।[131]তালিমুল আহকাম, ২৬৮ পৃষ্ঠা, ২০০১ সালে প্রকাশিত

খামেনেয়ী লিখেছে:

إن صبر الإمام الحسين هو الذي صان الإسلام على مر التاريخ حتى يومنا هذا، وفي الحقيقة لو أن الإمام الحسين لم يصبر ذلك الصبر التاريخي في كربلاء وقبيلها وأثناء ما سبق واقعة عاشوراء فلا شك في عدم بقاء اسم للإسلام بمرور قرن واحد من الزمان،

“নিশ্চয়ই ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সেই ধৈর্যই ইসলামকে ইতিহাসের ধারায় আজ পর্যন্ত সংরক্ষণ করেছে। আর বাস্তবিক অর্থে, ইমাম হুসাইন (আ.) যদি কারবালায় এবং তার আগে ও আশুরার ঘটনার পূর্ববর্তী সময়ে সেই ঐতিহাসিক ধৈর্য না দেখাতেন, তাহলে নিঃসন্দেহে এক শতাব্দী সময় অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই ইসলামের কোনো নাম-নিশানা অবশিষ্ট থাকত না।”
সে আরো লিখেছে: তোমরা কি মনে করো যে, সেই শাহাদাত, সেই দিন এবং সেই মহান ঘটনা না থাকলে ইসলাম টিকে থাকত? [132]আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ৬৪

আহলুস সুন্নাহ হুসাইন (রা.)-কে শহীদ ও নবী করীম (সা.)-এর দৌহিত্র হিসেবে শ্রদ্ধা করে। তবে ইসলামের সংরক্ষণকে একজন মানুষের প্রতি আরোপ করা সরাসরি কোরআনের এই আয়াতের পরিপন্থী: إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ — “নিশ্চয়ই আমি যিকর (কোরআন) নাযিল করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক” [১৫:৯]। ইসলামের সংরক্ষণ আল্লাহর প্রতিশ্রুতি, যা কোনো মানুষের কর্মের ওপর নির্ভরশীল নয়। এই কাঠামোটি পরোক্ষভাবে আবু বকর, উমর, উসমান এবং ইসলাম প্রচারের জন্য যুদ্ধ ও শহীদ হওয়া সাহাবীদের অবদানকেও হেয় প্রতিপন্ন করতে খামেনেয়ীর নোংরা ষড়যন্ত্রগুলোর একটি।

সে লিখেছেঃ

كل موضع انعدم فيه عنصر الإيثار، كما هو الحال في كل بقعة خلت منه وكما هو الحال على امتداد التاريخ، وكذلك في عهد الإمام الحسين لا حين تنصلت الاكثرية العظمى من المؤمنين والخواص عن واجبها، ونكلت وتراجعت انتصرت حينها كلمة الباطل، وتسلط يزيد على الرقاب واستمر الحكم الأموي تسعين سنة، وجاء عهد بني العباس ودامت حكومتهم بين خمسة وستة قرون . وكان السبب الأساسي لكل هذا هو انعدام الإيثار . وكانت النتيجة ان المجتمعات الإسلامية كابدت الكثير من العناء، وذاق المؤمنون أمر أنواع الظلم .

যে কোনো জায়গায় ইসার (অন্যের উপর নিজেকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার গুণ)-এর অনুপস্থিতি দেখা দেয়, যেমনটি ইতিহাসের প্রতিটি প্রান্তে দেখা গেছে যেখানে এই গুণ ছিল না, তেমনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর যুগেও যখন অধিকাংশ ঈমানদার এবং খাসদের (বিশিষ্ট ব্যক্তিদের) বিশাল অংশ তাদের কর্তব্য থেকে সরে দাঁড়ালো, পিছিয়ে গেল এবং ফিরে গেল, তখন বাতিলের বাণী জয়ী হলো, ইয়াজিদ ক্ষমতার আসনে বসে গেল এবং উমাইয়া শাসন নব্বই বছর চলতে থাকল। তারপর এল আব্বাসীয়দের যুগ এবং তাদের শাসন পাঁচ থেকে ছয় শতাব্দী পর্যন্ত স্থায়ী হলো। এসবের মূল কারণ ছিল ইসার-এর অনুপস্থিতি। আর ফলাফল হলো, ইসলামী সমাজসমূহ অনেক কষ্ট ভোগ করল এবং মুমিনগণ নানারূপ অত্যাচারের স্বাদ আস্বাদন করল।।[133]আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ১০৮

আলী খামেনেয়ী আরো লিখেছেঃ

لقد كان الإمام الحسين على علم بما سيجره إقراره وسكوته من ويلات على الإسلام، فإذا ما استحوذت قوة على مقدرات الشعوب أو واحد من هذه الشعوب واختطت لها طريق الطغيان ومضت فيه، فإن لم يعبر رجال الحق ودعاته عن وجودهم والإعلان عن خطأ حركتها فإنهم يكونون بعملهم هذا قد اعترفوا بفعلها . بما يعنيه ذلك من اعتراف أهل الحق بالظلم . دون إرادة منهم، وهذه هي الخطيئة التي ارتكبها يومذاك الأكابر من سادة بني هاشم وأبناء القادة الكبار في صدر الإسلام، غير أن الإمام الحسين لم يتحمل ذلك فثار .

নিশ্চয়ই ইমাম হুসাইন (আ.) এই বিষয়ে অবগত ছিলেন যে, তাঁর সম্মতি ও নীরবতা ইসলামের উপর কী বিপর্যয় ডেকে আনবে। যখন কোনো শক্তি কোনো জাতির বা সেই জাতির কোনো অংশের ভাগ্যের ওপর কর্তৃত্ব করে বসে এবং নিজের জন্য স্বৈরাচারের পথ বেছে নেয় ও তাতে অগ্রসর হয়, তখন যদি সত্যের ধারক ও বাহক এবং আহ্বায়কগণ তাদের অস্তিত্বের জানান না দেয় এবং তার গতিপথের ভুল ঘোষণা না করে, তাহলে তারা তাদের এই কাজের মাধ্যমে (নীরবতা) প্রকৃতপক্ষে তার কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে বসে। এর অর্থ হলো, সত্যের অনুসারীদের অনিচ্ছাকৃতভাবে জুলুমকে স্বীকৃতি দেওয়া। আর এটাই ছিল সেই সীমালঙ্ঘন (পাপ) যা সেদিকে বনু হাশিমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এবং ইসলামের প্রথম যুগের বড় নেতাদের সন্তানরা করেছিল। কিন্তু ইমাম হুসাইন (আ.) তা সহ্য করলেন না এবং বিদ্রোহ করলেন।[134]আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ৬৩

খামেনেয়ী ইয়াজিদ বিন মুয়াবিয়া সম্পর্কে লিখেছে:

لقد أشاعوا أن سبط رسول الله ابن فاطمة وابن أمير المؤمنين خارج على الإمام العادل – وذلك الإمام العادل هو يزيد بن معاوية -وصدقهم الناس !!

তারা প্রচার করল যে, রাসুলের দৌহিত্র, ফাতিমার পুত্র এবং আমিরুল মুমিনিনের পুত্র ন্যায়পরায়ণ ইমামের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে—আর সেই ন্যায়পরায়ণ ইমাম হলো ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া! আর লোকেরা তাদের কথা সত্য বলে মেনে নিলো!! [135]আছ-ছাওরাতুল হুসাইনিয়্যাহ, খাস্বাইস্ব ওয়াল মুরতাকাযাত, ৩০ পৃষ্ঠা, ২০০১ সালে … Continue reading

খামেইনী এটা বিদ্রূপের সুরে বলেছে। কিন্তু এটা চিত্রায়িত করে যে “ন্যায়পরায়ণ ইমাম” হিসেবে ইয়াজিদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা অযৌক্তিক এবং আপনা-আপনিই স্পষ্টত মিথ্যা, যা পরোক্ষভাবে তাদের নিন্দা করে যারা ইয়াজিদের বিষয়ে সুক্ষ্ম সুন্নি অবস্থান পোষণ করেন। অনেক আহলুস সুন্নাহর আলিম (যাদের মধ্যে ইয়াজিদের নিন্দাকারীরাও অন্তর্ভুক্ত) তারা নিরপেক্ষ থাকা বা তার আনুগত্য করা সকলকে নিন্দা করার পর্যায়ে যান না, যেহেতু ইয়াজিদের বিষয়টি স্বয়ং আহলুস সুন্নাহর আলিমদের ভিতরেই একটি বিতর্কিত বিষয়।

আহলুস সুন্নাহ বলে: “সাহাবীদের মধ্যে যা কিছু ঘটেছিল তা নিয়ে আলোচনা করা থেকে বিরত থাকা।” আহলুস সুন্নাহ সকল সাহাবীকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। যারা হুসাইনের পাশে যুদ্ধ করেনি (৬৮০ খ্রিস্টাব্দে জীবিত অধিকাংশ সাহাবী) তাদেরকে কর্তব্যে ব্যর্থ পাপী বলা হলো—এটি এমন একটি প্রজন্মের উপর সম্পূর্ণ নিন্দা যার মধ্যে ইবনে উমর ও ইবনে আব্বাসের মতো মহান সাহাবী অন্তর্ভুক্ত—যারা উভয়েই বিশেষভাবে হুসাইনকে কুফা না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এই মহান সাহাবীরাও কি এই “পাপের” জন্য দোষী?খামেনেয়ী পরোক্ষভাবে তাদের নিন্দা করে।

সালাওয়াত থেকে সাহাবীদের বাদ দেয়া সাহাবী বিদ্বেষী আলী খামেনেয়ী

খামেইনী তার বইতে একাধিক জায়গায় রাসূল ﷺ ও রাসূলের ﷺ সম্মানিত পরিবারবর্গের উপর সালাত ও সালাম পাঠ করেছে কিন্তু সব জায়গায় সে আলিহি পর্যন্ত থেমেছে, কোথাও সহবিহি আজমাঈন বা আসহাবিহি শব্দটি ব্যবহার করেনি। অর্থাৎ সে সাহাবাদেরকে দরুদের অন্তর্ভুক্ত করেনি, যেটি তার সাহাবী বিদ্বেষের আরেকটি বড় নমুনা:

وهل ورد لفظ (السياسة) على لسان نبي الأمة ( صلى الله عليه آله وسلم)؟

আর উম্মতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর মুখে কি (রাজনীতি) শব্দটি উচ্চারিত হয়েছে? [136]আল তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকর‍্যি এনদাল ইমাম খামেনেয়ী, ১ম খণ্ড, ৮৭ পৃষ্ঠা

সে লিখেছে

سيدنا محمد صلى الله عليه وآله وسلم،

সাইয়্যেদুনা মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি সাল্লাম। [137]আল তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকর‍্যি এনদাল ইমাম খামেনেয়ী, ৩য় খণ্ড, ৪১৭ পৃষ্ঠা

সে লিখেছেঃ

وهذا ما يرفضه المنطق الإسلامي ومنهج الحياة الرسولية للنبي صلى الله عليه وآله، والأئمة الأطهار عليهم السلام، بل ولكل السائرين على صراط الإسلام المحمدي الأصيل

আর এটি হলো সেই বিষয় যা ইসলামী যুক্তি ও নবী (সল্লালাহু আলাইহি ওয়া আলিহি )-এর রিসালাতময় জীবনধারা এবং পবিত্র ইমামগণের (আলাইহিমুস সালাম) জীবনধারা প্রত্যাখ্যান করে, বরং খাঁটি মুহাম্মাদী ইসলামের পথে চলা প্রত্যেক ব্যক্তিও তা প্রত্যাখ্যান করে।[138]বই: রুহুত তাওহীদ, ১৮ পৃষ্ঠা, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য

রুহুত তাওহীদ বইটিতে ধারাবাহিকভাবে শিয়াদের নির্দিষ্ট দরুদের ফর্মুলা «صلى الله عليه وآله» (তার পরিবার্গ এর উপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) ব্যবহার করেছে এবং «وصحبه» (ও তার সাহাবীগণ) বাদ দিয়েছে। আহলুস সুন্নাহ সালাওয়াতে সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত করে। বিশেষ করে সালাওয়াত থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে সাহাবীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে সাহাবী বিদ্বেষী রাফেজী মতাদর্শের একটি বৈশিষ্ট্য , কারণ এটি সাহাবীদের মর্যাদা প্রত্যাখ্যান বা হ্রাস করার ইঙ্গিত বহন করে।

যিন্দিক আলী খামেনী নবীর ﷺ জন্য সালাওয়াতের দোয়ায় “ওয়া সাহবিহি” শব্দটি বাদ দিয়েছে। তার বই পুস্তকে সে ওয়া সহবিহি আজমাঈন বা ওয়া সহিবিহি তথা ‘সাহাবাদের উপর’ শান্তি বর্ষিত হোক কথাটি কোথাও ব্যবহার করেনি। খামেনী লিখেছে

ونروج إسلام رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم في عالم الإستكبار، وعاجلاً أم آجلاً ستشهد الشعوب الأسيرة ذلك.

আর আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইসলামকে অহংকারী বিশ্বে প্রচার করছি এবং শীঘ্রই বা পরে অধীনস্ত জনগণ তা প্রত্যক্ষ করবে।[139]হাকিমিয়্যাতুল ইসলামী বাইনান নাযরিয়্যাতি ওয়াত তাতবিক্বী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮

লক্ষ্য করুন যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সালাম হলো «صلى الله عليه وآله» — যেখানে «وصحبه» (এবং তার সাহাবীগণ) বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি একটি ইচ্ছাকৃত রাফেযী প্রথা। আহলুস সুন্নাহ “ওয়া সহিবিহি” বাদ দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করেন কারণ এটি একটি এমন একটি অবস্থান যা প্রতিফলিত করে নবীর উপর আহ্বানকৃত রহমত থেকে সাহাবাদের বাদ দেয়াকে। যা আলী খামেনেয়ী এর সাহাবীর বিদ্বেষের বড় প্রমাণ।

সাহাবীদের লানতকারী কতিপয় ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে আলী খামেনেয়ীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা

খামেনেয়ী তার নির্বাচনের পর প্রথম বিবৃতিতে (পরিশিষ্ট ৩) রুহুল্লাহ খোমেইনীকে এমন অতিরঞ্জিত ভাষায় বর্ণনা করেছেন যা সম্পূর্ণ বাড়াবাড়ি। তাগুত ও যিন্দিক খোমেইনীর প্রশংসায় আলী খামেনেয়ী লিখেছে:

والآن وبعد رحيل قائدنا الفقيد والعزيز سماحة الامام الخميني قدس سره، فان لدينا ثروة ثمينة من النماذج القيادية الفريدة لذلك الرجل التأريخي العظيم وتلك الشخصية الاستثنائية للعالم المعاصر. لقد كان الامام الخميني شخصية كبرى الى حد يصعب فيه تصور شخص بهذه الأبعاد والخصوصيات بين زعماء العالم والتأريخ وقادتهما، باستثناء الأنبياء والمعصومين عليهم السلام.

এবং এখন, আমাদের প্রয়াত ও প্রিয় নেতা, হযরত ইমাম খোমেনী (قدس سره)-এর বিদায়ের পর, আমাদের কাছে সেই মহান ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব এবং সমসাময়িক বিশ্বের সেই অসাধারণ ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বের অনন্য নমুনার এক মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। ইমাম খোমেনী ছিলেন এত বড় মাপের ব্যক্তিত্ব যে, নবী ও নিষ্পাপ ইমামগণ (আলাইহিমুস সালাম) ব্যতীত বিশ্বের নেতা ও ইতিহাসের মহানায়কদের মধ্যে এত মাত্রা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী কাউকে কল্পনা করা কঠিন।[140]বই: লিমাযাল খামেনেয়ী, ৮০ পৃষ্ঠা, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য

খামেনেয়ী তাকে “লৌহকঠিন ইচ্ছাশক্তির অধিকারী”, “আধ্যাত্মিক পবিত্রতা”, “দূরদর্শিতা” এবং “যুগের আত্মা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। আম্বিয়া ও মুরসালুন এর সাথে তাকে আলাহিমুস সালাম বলা হচ্ছে।

আহলুস সুন্নাহর: কোনো আলিম বা রাজনৈতিক নেতাকে নবী-রাসুলের স্তরের সাথে তুলনা করা এটি মারাত্মক ভান্তি ও অতিরঞ্জন যা নবী করীম (সা.) নিজের ক্ষেত্রেও স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। নবী (সা.) বলেছেন: “তোমরা আমার প্রশংসায় অতিরঞ্জন করো না যেমন খ্রিস্টানরা মারিয়াম-পুত্রের (ঈসা) প্রশংসায় অতিরঞ্জন করেছে।”।
বিশেষ করে কাফির আল খোমেইনী এর মতো তাগুত যার বাস্তবতা আমরা এর পূর্বে একটি প্রবন্ধে তুলে ধরেছি, তার সম্পর্কে আলী খামেনেয়ির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা প্রমাণ করে যে এরা একই দ্বীন এর অনুসারী।

সাহাবীদের লানতকারী আরো কতিপয় ব্যক্তিবর্গের ব্যাপারে আলী খামেনেয়ীর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা

الأول: أن يكون العالم تابعاً للسلطات؛ بحيث يصبح جزءاً من ذلك النظام، وهذا ما لم نر له أثراً في نفوسنا نحن الشيعة ولا في حوزاتنا العلمية النيرة

প্রথমটি হলো: আলেম ক্ষমতাসীনদের অনুগামী হবেন; যেন তিনি সেই ব্যবস্থার একটি অংশ হয়ে যান। আর আমরা শিয়ারা আমাদের নিজেদের মধ্যে এবং আমাদের জ্ঞান-আলোকিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এর কোনো প্রভাব দেখতে পাইনি। [141]মাশারিউত তাজদীদ ওয়াল ইসলাহি ফী জাওযাতিল ইলমিয়্যাহ, ৪৮ পৃষ্ঠা

খামেইনীর উক্ত বইটি শেখ তুসী, হিল্লী, মুহাক্কিক হিল্লী, মুহাম্মাদ বাকির সদর এবং অন্যান্যদের মতো আলিমদের প্রশংসা করেছে — যাদের সকলেই আহলুস সুন্নাহর ইসলামের বিরুদ্ধে এবং সাহাবীদের অভিশাপ দেওয়া ও বারো ইমামাতের মতবাদ সহ শিয়া মতবাদগুলোর পক্ষে বিতর্কমূলক গ্রন্থ রচনা করেছে।

এটা ছিল আলী খামেনেয়ীর আসল চেহারা যাকে অজ্ঞ ব্যক্তিরা মুসলিমদের মসীহাহ ও হিরো বানিয়ে রেখেছিল। দুই কাফির যখন যুদ্ধরত থাকে আমরা তাদের একে অপরের মাধ্যমে ধ্বংস হবার কামনা করি।  বিবেকবানরা উপদেশ গ্রহণ করবে ইন শা আল্লাহ।

সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত : সহিহ হাদিসের আলোকে

আল্লাহ তাআলা কুরআন মজীদে সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও তাদের প্রতি সন্তুষ্টির কথা ঘোষণা করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসংখ্য হাদিসেও তাদের ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কয়েকটি বিশুদ্ধ হাদিস পেশ করা হলো—

১. সাহাবীগণ সর্বোত্তম প্রজন্ম

আরবি পাঠ:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:

«خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ»

বাংলা অনুবাদ:

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:“সর্বোত্তম মানুষ আমার প্রজন্মের (সাহাবীগণ), তারপর তাদের নিকটবর্তী প্রজন্ম (তাবেয়ীগণ), তারপর তাদের নিকটবর্তী প্রজন্ম (তাবে-তাবেয়ীগণ)। এরপর এমন এক সম্প্রদায়ের আগমন হবে যাদের কারো সাক্ষ্য তার শপথের আগে হবে এবং তার শপথ তার সাক্ষ্যের আগে হবে (অর্থাৎ তারা মিথ্যা কথা বলতে দ্বিধা করবে না)।”[142]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৬৫২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৩৩

 

২. সাহাবীদের সমালোচনা করা নিষেধ

আরবি পাঠ:

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:

«لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي، فَلَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ أَنْفَقَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا بَلَغَ مُدَّ أَحَدِهِمْ وَلَا نَصِيفَهُ»

বাংলা অনুবাদ:

আবু সাঈদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:“তোমরা আমার সাহাবীদের গালি দিও না। তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বত পরিমাণ সোনা দান করে, তবে তা তাদের এক ‘মুদ’ বা তার অর্ধেকের সমানও হতে পারবে না।” [143]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৭৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৪১

 

৩. আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর ফজিলত

আরবি পাঠ:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:

قُلْتُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا فِي الْغَارِ: لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ نَظَرَ تَحْتَ قَدَمَيْهِ لَأَبْصَرَنَا. فَقَالَ:

«مَا ظَنُّكَ يَا أَبَا بَكْرٍ بِاثْنَيْنِ اللَّهُ ثَالِثُهُمَا؟»

বাংলা অনুবাদ:

আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

“আমি সওর গুহায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললাম: যদি তাদের কেউ নিজ পায়ের নিচে তাকায়, তবে আমাদের দেখতে পাবে। তিনি বললেন: হে আবু বকর! দুইজনের ব্যাপারে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয়জন স্বয়ং আল্লাহ?”[144]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৫৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৮১

 

আরবি পাঠ:

عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ:

كُنَّا نُخَيِّرُ بَيْنَ النَّاسِ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَنُخَيِّرُ أَبَا بَكْرٍ، ثُمَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ، ثُمَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ

বাংলা অনুবাদ:

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

“আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে লোকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করতাম। তখন আমরা আবু বকরকে সবার উপরে গণ্য করতাম, তারপর উমর ইবনুল খাত্তাবকে, তারপর উসমান ইবনে আফফানকে (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।”[145]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৫৫

৪. উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর ফজিলত

আরবি পাঠ:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:

«لَقَدْ كَانَ فِيمَا كَانَ قَبْلَكُمْ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ رِجَالٌ يُكَلَّمُونَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونُوا أَنْبِيَاءَ، فَإِنْ يَكُنْ مِنْ أُمَّتِي مِنْهُمْ أَحَدٌ فَعُمَرُ»

বাংলা অনুবাদ:

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

“তোমাদের পূর্ববর্তী বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিলেন যাঁরা নবী না হয়েও (আল্লাহর পক্ষ থেকে) অনুপ্রাণিত হতেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে, তবে তিনি উমর।”[146]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৮৯

আরবি পাঠ:

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:

«بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ رَأَيْتُ قَدَحًا أُتِيتُ بِهِ فِيهِ لَبَنٌ، فَشَرِبْتُ مِنْهُ حَتَّى إِنِّي لَأَرَى الرِّيَّ يَجْرِي فِي أَظْفَارِي، ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ» قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «الْعِلْمَ»

বাংলা অনুবাদ:

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

আমি একবার ঘুমের মধ্যে দেখলাম, একটি পেয়ালা আনা হয়েছে যাতে দুধ ছিল। আমি তা পান করলাম, এমনকি আমার নখের মাথা দিয়ে তৃপ্তির ধারা প্রবাহিত হতে দেখলাম। তারপর আমার অবশিষ্ট অংশ উমর ইবনুল খাত্তাবকে দিয়ে দিলাম।” সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন: আপনি এর কী ব্যাখ্যা দেন, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: “জ্ঞান।”[147]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭০০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৯১

আরবি পাঠ:

عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: اسْتَأْذَنَ عُمَرُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ … فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:

«وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا لَقِيَكَ الشَّيْطَانُ سَالِكًا فَجًّا قَطُّ إِلَّا سَلَكَ فَجًّا غَيْرَ فَجِّكَ»

বাংলা অনুবাদ:

সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, উমর (রা.) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলে … রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন:“সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! তুমি যে পথে চল, শয়তান কখনো সেই পথে চলে না—সে তোমার পথ থেকে ভিন্ন পথ অবলম্বন করে।”[148]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৮৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৯৬

৫. উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর ফজিলত

আরবি পাঠ:

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:

«أَلَا أَسْتَحِي مِنْ رَجُلٍ تَسْتَحِي مِنْهُ الْمَلَائِكَةُ»

বাংলা অনুবাদ:

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:“আমি কি সেই ব্যক্তির প্রতি লজ্জা করব না, যার প্রতি ফেরেশতারাও লজ্জা করে?”[149]সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪০১

আরবি পাঠ:

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:

صَعِدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُحُدًا وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ، فَرَجَفَ بِهِمْ، فَقَالَ: «اسْكُنْ أُحُدُ، فَإِنَّمَا عَلَيْكَ نَبِيٌّ وَصِدِّيقٌ وَشَهِيدَانِ»

বাংলা অনুবাদ:

আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:“নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উহুদ পাহাড়ে আরোহণ করলেন, তাঁর সাথে ছিলেন আবু বকর, উমর ও উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। তখন পাহাড় তাদের নিয়ে কেঁপে উঠল। তিনি বললেন: হে উহুদ, থাম! তোমার উপরে আছেন একজন নবী, একজন সিদ্দীক ও দুইজন শহীদ।”[150]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৭৫

আরবি পাঠ:

عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:

جَاءَ عُثْمَانُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِأَلْفِ دِينَارٍ فِي جَيْشِ الْعُسْرَةِ، فَنَثَرَهَا فِي حِجْرِهِ، فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَلِّبُهَا وَيَقُولُ: «مَا ضَرَّ عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ الْيَوْمِ» مَرَّتَيْنِ

বাংলা অনুবাদ:

আব্দুর রহমান ইবনে সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:“উসমান (রা.) সঙ্কটের সময় (তাবুক যুদ্ধের) বাহিনীর জন্য এক হাজার দীনার নিয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলেন এবং তাঁর কোলে তা ঢেলে দিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেগুলো উল্টে-পাল্টে দেখতে লাগলেন এবং দুবার বললেন: ‘আজকের পর উসমান যা-ই করুক না কেন, তাতে তার কোনো ক্ষতি হবে না।’”[151]সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং ৩৭০১; ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাসান সহিহ

৬. আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর ফজিলত

আরবি পাঠ:

عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ:

خَلَّفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، تُخَلِّفُنِي فِي النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ؟ فَقَالَ:

«أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى، إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي»

বাংলা অনুবাদ:

সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:“রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাবুক যুদ্ধে আলী ইবনে আবি তালিবকে (মদীনায়) প্রতিনিধি রেখে যান। আলী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আমাকে নারী ও শিশুদের কাছে রেখে যাচ্ছেন? তিনি বললেন: তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, আমার কাছে তোমার অবস্থান হবেন হারূনের মতো, যা মূসার কাছে ছিল? তবে শর্ত এই যে, আমার পরে আর কোনো নবী নেই।”[152]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৪১৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪০৪

আরবি পাঠ:

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ خَيْبَرَ:

«لَأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ غَدًا رَجُلًا يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَى يَدَيْهِ، يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ، وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ» فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كُلُّهُمْ يَرْجُو أَنْ يُعْطَاهَا، فَقَالَ: «أَيْنَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ؟» فَقِيلَ: هُوَ يَا رَسُولَ اللَّهِ يَشْتَكِي عَيْنَيْهِ، فَأَرْسَلُوا إِلَيْهِ فَأُتِيَ بِهِ، فَبَصَقَ فِي عَيْنَيْهِ، وَدَعَا لَهُ، فَبَرَأَ حَتَّى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ، فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ

বাংলা অনুবাদ:

সাহল ইবনে সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বারের দিন বললেন:

“আমি অবশ্যই আগামীকাল এই পতাকা এমন এক ব্যক্তিকে দেব, যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাকে ভালোবাসেন।” পরদিন সকালে সবাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এলো, প্রত্যেকেই আশা করছিল পতাকা তাকেই দেওয়া হবে। তিনি বললেন: “আলী ইবনে আবি তালিব কোথায়?” বলা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, তার চোখে ব্যথা। তারা তাকে ডেকে আনলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার চোখে থুথু দিলেন এবং তার জন্য দুআ করলেন, সাথে সাথে তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন, যেন তার কোনো ব্যথাই ছিল না। তারপর তিনি তাকে পতাকা দিলেন।[153]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৯৪২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪০৬

৭. আনসারদের ভালোবাসা ঈমানের নিদর্শন

আরবি পাঠ:

عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْأَنْصَارِ:

«لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا مُؤْمِنٌ، وَلَا يُبْغِضُهُمْ إِلَّا مُنَافِقٌ، مَنْ أَحَبَّهُمْ أَحَبَّهُ اللَّهُ، وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ أَبْغَضَهُ اللَّهُ»

বাংলা অনুবাদ:

বারা ইবনে আজিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনসারদের সম্পর্কে বলেছেন:“তাদেরকে ভালোবাসে না কিন্তু মুমিন, আর তাদের সাথে শত্রুতা করে না কিন্তু মুনাফিক। যে তাদের ভালোবাসে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন; যে তাদের সাথে শত্রুতা করে, আল্লাহ তার সাথে শত্রুতা করেন।”[154]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৭৮৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৫

৮. বদরী সাহাবীদের মর্যাদা

আরবি পাঠ:

عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالزُّبَيْرَ وَالْمِقْدَادَ فَقَالَ:

«انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ، فَإِنَّ بِهَا ظَعِينَةً مَعَهَا كِتَابٌ» فَخَرَجْنَا تَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا، فَإِذَا نَحْنُ بِالظَّعِينَةِ، فَقُلْنَا: أَخْرِجِي الْكِتَابَ. فَقَالَتْ: مَا مَعِي كِتَابٌ. فَقُلْنَا: لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَنُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ. فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا. فَأَتَيْنَا بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِذَا فِيهِ: مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى نَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا حَاطِبُ، مَا هَذَا؟» قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، لَا تَعْجَلْ عَلَيَّ، إِنِّي كُنْتُ امْرَأً مُلْصَقًا فِي قُرَيْشٍ، وَلَمْ أَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ، وَكَانَ مَنْ مَعَكَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ لَهُمْ قَرَابَاتٌ بِمَكَّةَ يَحْمُونَ بِهَا أَهْلِيهِمْ، فَأَحْبَبْتُ إِذْ فَاتَنِي ذَلِكَ أَنْ أَتَّخِذَ عِنْدَهُمْ يَدًا يَحْمُونَ بِهَا قَرَابَتِي. فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكُمْ». فَقَالَ عُمَرُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، دَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ. فَقَالَ: «إِنَّهُ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا، وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ، فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ»

বাংলা অনুবাদ:

আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে, যুবায়র ও মিকদাদকে পাঠিয়ে বললেন: “তোমরা ‘রওযা-ই খাখ’ নামক স্থানে যাও। সেখানে একটি মহিলা রয়েছে, তার কাছে একটি চিঠি আছে।” আমরা বেরিয়ে পড়লাম। ঘোড়া আমাদের নিয়ে দ্রুত চলল। আমরা সেই মহিলার কাছে পৌঁছে বললাম: চিঠি বের করো। সে বলল: আমার কাছে কোনো চিঠি নেই। আমরা বললাম: তুমি চিঠি বের করবে, নতুবা আমরা তোমার কাপড় খুলে তল্লাশি করব। তখন সে তার খোঁপা থেকে চিঠি বের করল। আমরা তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে এলাম। দেখা গেল, তাতে লেখা: হাতিব ইবনে আবি বালতাআ থেকে মক্কার কিছু মুশরিকের কাছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: হে হাতিব, এ কী? তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার ব্যাপরে তাড়াহুড়ো করবেন না। আমি কুরাইশের সাথে সংযুক্ত ছিলাম কিন্তু তাদের গোত্রভুক্ত ছিলাম না। আপনার সাথে থাকা মুহাজিরদের মক্কায় আত্মীয়স্বজন রয়েছে যারা তাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করে। যেহেতু আমার সে সৌভাগ্য হয়নি, তাই আমি তাদের কাছে কিছু অনুগ্রহ করার ইচ্ছে করেছি, যাতে তারা আমার পরিবারকে রক্ষা করে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সে তোমাদের সত্যই বলেছে। উমর বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে অনুমতি দিন, আমি এই মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দিই। তিনি বললেন: সে বদর যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। তুমি কী জানো, হয়তো আল্লাহ বদরী সাহাবীদের সম্পর্কে বলেছেন: তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।[155]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৯৮৩

وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِهِ وَصَحْبِهِ أَجْمَعِينَ

লেখাঃ সাফিন চৌধুরী

লেখার কোন অংশ বিনা ক্রেডিট বা কার্টেসী ব্যতীত কপি করা হারাম এবং চুরি।
তাই ওয়েবসাইট লিংকসহ লেখকের নাম সহ প্রচার করবেন। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

References

References
1 আল ফিকহুস সিয়াসি ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনিয়ী ১-২ পৃষ্ঠা
2 আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, পৃষ্ঠা ১৩৭
3 আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, ৮৮-৮৯ পৃষ্ঠা
4 ওয়ানতাছারাদ দাম, ১৩৬ পৃষ্ঠা
5 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২১০, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
6 আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, পৃষ্ঠা ১৩৬
7 আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, পৃষ্ঠা ১০১
8 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৪৬, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
9 বই: লিমাযাল খামেনেয়ী, ৩৩ পৃষ্ঠা, প্রকাশক: দারুল ওয়ালায়ি, বৈরত লেবানন হতে প্রকাশিত, সর্বশেষ প্রকাশ ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
10 ফিকরুল ইমাম আল খামানেয়ী ৩৩৫ পৃষ্ঠা
11 ফিকরুল ইমাম আল খামানেয়ী ৩৩৮ পৃষ্ঠা
12 আল ফিকরিল ইসলামী আলা দ্ব্ওয়িল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা ৬৬৭
13 আশুরাহ ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী, ১৫ পৃষ্ঠা
14 হাকিমিয়্যাতুল ইসলামী বাইনান নাযরিয়্যাতি ওয়াত তাতবিক্বী খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১১০
15 আল ইমামুল খামেনেয়ী, আল ওয়ালিয়ুল ফাক্বীহ, পৃষ্ঠা ২৪
16 আল ইমামুল খামেনীয় ওয়া রাওয়াহুল মা’আসিরাতু, ৭৫ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১০, স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য
17 আল ইমামুল খামেনেয়ী, আস সীরাহ ওয়াল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ২৬৫-২৬৬
18 আছ-ছাওরাতুল হুসাইনিয়্যাহ, খাস্বাইস্ব ওয়াল মুরতাকাযাত, ৪২-৪৩ পৃষ্ঠা, ২০০১ সালে প্রকাশিত
19 আল ইমামুল খামেনেয়ী, আস সীরাহ ওয়াল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ২৬৯
20 আছ-ছাওরাতুল হুসাইনিয়্যাহ, খাস্বাইস্ব ওয়াল মুরতাকাযাত, ৪২ পৃষ্ঠা
21 আল ইমামুল খামেনেয়ী, আল ওয়ালিয়ুল ফাক্বীহ, পৃষ্ঠা ২৪
22 আল জাওযাতু উলামাউদ দীন আলা দ্বওয়ি ইরশাদাতি সামাহাতিল ক্বায়িদ, ১ম খণ্ড, ৯২-৯৩ পৃষ্ঠা
23 ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, ২৪৩ পৃষ্ঠা
24 ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৪ পৃষ্ঠা
25 ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৬ পৃষ্ঠা
26 আছ-ছাওরাতুল হুসাইনিয়্যাহ, খাস্বাইস্ব ওয়াল মুরতাকাযাত, ১৫ পৃষ্ঠা
27 আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৩
28 আল ফিকরুস সিয়াসী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী ১০৭ পৃষ্ঠা
29 আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, ১৩৬ পৃষ্ঠা
30 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৫৪
31 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, {পৃষ্ঠা ৫৪}
32 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, {পৃষ্ঠা ৫৪}
33 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৫৪
34 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬০
35 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৩
36 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ১৬৭-১৬৮
37 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৫
38 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৫
39 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৪২ পৃষ্ঠা
40 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৪৬ পৃষ্ঠা
41 আস-সিয়াদাতুস শিয়া’তুদ দীন্যিয়াহ, ৮২ পৃষ্ঠা
42 আল ইসতিফতাআতুল জাদিদাতু ওয়াল আস’ইলাতুল শা’য়িআতু মাআ মুলহাকিল ফাতাওয়িল মুকারানাতি, পৃষ্ঠা ৬২, স্ক্যানকপি দ্রষ্টব্য
43 আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১০
44 আল জাওযাতু উলামাউদ দীন আলা দ্বওয়ি ইরশাদাতি সামাহাতিল ক্বায়িদ, খণ্ড ১, ২২-২৩ পৃষ্ঠা
45 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২২, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
46 আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৭
47 আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৬
48 আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৭
49 আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৪
50 আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৫
51 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৪৪ পৃষ্ঠা
52 আল মার’আতু ফী ফিকরিল ইমামিল খামেনেয়ী পৃষ্ঠা ১৪
53 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ৭ পৃষ্ঠা
54 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ৫৬ পৃষ্ঠা
55 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ৬৬ পৃষ্ঠা
56 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬১ পৃষ্ঠা
57 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬১ পৃষ্ঠা
58 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬৫ পৃষ্ঠা
59 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬৬ পৃষ্ঠা
60 মুকতাতফাত ফী সীরাতি ফাতিমাতায যাহরা ওয়া যাইনাব, ১৬২ পৃষ্ঠা
61 ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৬-৩৬৭ পৃষ্ঠা
62 ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৭ পৃষ্ঠা
63 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৬৫, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
64 জামে’ তিরমিযী ৩৮৪২, মানঃ হাসান (তিরমিযী); সহীহ (আলবানী, সিলসিলাতুস সহীহাহ ১৯৬৯
65 মুসনাদ আহমাদ ১৬৯৩৩
66 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৭৩-৭৪, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
67 আল কুরআন কিতাবুল হাইয়্যাহ, ৬৯ পৃষ্ঠা, প্রকাশক: দারুল ওয়ালায়ি, বৈরত লেবানন হতে প্রকাশিত, সর্বশেষ প্রকাশ ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
68 ফাযায়িলুস সাহাবাহ, ইমাম আহমাদ ২/৯১৪, শায়খ আলবানী বলেছেন: “وهذا أيضا إسناد شامي مرسل صحيح”।  মুহাদ্দিসগণের নিকট শর্তসাপেক্ষে মুরসাল হাদীস গ্রহণযোগ্য, বিশেষত যখন একাধিক শাহেদ থাকে।
69 আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ৩৫
70 আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ৯৭
71 আল জাওযাতু উলামাউদ দীন আলা দ্বওয়ি ইরশাদাতি সামাহাতিল ক্বায়িদ, ১ম খণ্ড, ৯৮ পৃষ্ঠা
72 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ২৩১
73 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ২৩১
74 আরাউল ক্বায়িদ, ২০০ পৃষ্ঠা
75 আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৭
76 আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৪
77 তারীখুল ইমামিল খোমেইনী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৪০
78 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৫০, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
79 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ১৫০, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
80 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৪৪, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
81 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৯
82 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৭২, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
83 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২১৩, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
84 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৭২
85 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ৬৭-৬৮
86 আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৫২
87 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ১১৯-১২০
88 আন-নুবুওওয়াহ ওয়া দ্বারুরাত্যিহাহ, ২০২ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৫ সাল, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
89 আন-নুবুওওয়াহ ওয়া দ্বারুরাত্যিহাহ, ২০২ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৫ সাল, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
90 আন-নুবুওওয়াহ ওয়া দ্বারুরাত্যিহাহ, ২০২ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৫ সাল, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
91 আন-নুবুওওয়াহ ওয়া দ্বারুরাত্যিহাহ, ২০২ পৃষ্ঠা, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৫ সাল, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
92 ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৬৮ পৃষ্ঠা
93 আল ফিকরিল ইসলামী আলা দ্ব্ওয়িল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা ৮৭, পাদটীকা ১
94 আল ইমামুল খামেনেয়ী, আল ওয়ালিয়ুল ফাক্বীহ, পৃষ্ঠা ২৩
95 হাকিমিয়্যাতুল ইসলামী বাইনান নাযরিয়্যাতি ওয়াত তাতবিক্বী খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২
96 আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৪৯
97 আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৪৮-১৪৯
98 আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৪৯
99 আশূরাহ বাইনাল হায়াহ ওয়াল আহইয়া, ১৬৪ পৃষ্ঠা
100 হাদীছুস-সামশ, পৃষ্ঠা ৩২
101 আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, ২০৩ পৃষ্ঠা
102 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৭৫, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
103 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ৭৪, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
104 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২১১, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
105 আল কুরআন কিতাবুল হাইয়্যাহ, ৭০ পৃষ্ঠা, প্রকাশক: দারুল ওয়ালায়ি, বৈরত লেবানন হতে প্রকাশিত, সর্বশেষ প্রকাশ ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
106 আছ ছাওরাতু মুযাহহির লিতাহাররাকিদ দীনি বিউজুহিত ত্বাওয়াগীত, পৃষ্ঠা ৭-৮
107 আছ ছাওরাতু মুযাহহির লিতাহাররাকিদ দীনি বিউজুহিত ত্বাওয়াগীত, পৃষ্ঠা ২১৪
108 আশূরাহ ফী ফিকরিল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৮ পৃষ্ঠা
109 আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪০
110 ফিকরুল ইমাম আল খামেনেয়ী, ৩৩৮ পৃষ্ঠা
111 মাশরুউল ফিকরীল ইসলাম্যি ফীল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৮৪, সর্বশেষ সংস্করণ ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে , স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
112 আছ-ছাক্বাফাতু ওয়া বানাউল মুজতামায়ি ফী দ্বওয়ি ইরশাদাতিস সাইয়্যিদিল খামেনেয়ী, ৩৩১ পৃষ্ঠা
113 আল খাওয়াস্ব ওয়াল লাহযাতুল মাসীরাহ, পৃষ্ঠা ১১৮
114 আল কুরআন কিতাবুল হাইয়্যাহ, ১১৫-১১৬ পৃষ্ঠা, প্রকাশক: দারুল ওয়ালায়ি, বৈরত লেবানন হতে প্রকাশিত, সর্বশেষ প্রকাশ ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ, স্ক্রিনশট দ্রষ্টব্য
115 বই: রুহুত তাওহীদ, ৩৫ পৃষ্ঠা, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
116 আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকর‍্যি এনদাল ইমাম খামেনেয়ী, ১ম খণ্ডন, ২৩০ পৃষ্ঠা
117 আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকর‍্যি এনদাল ইমাম খামেনেয়ী, ১ম খণ্ডন, ১১১ পৃষ্ঠা
118 আল ফায়িদ ওয়াশ শাবাব ফী হাওরি মাফতুহিন, ১৪ পৃষ্ঠা
119 আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১৫
120 আদ দুরুসুল আযমিয়্যাহ ফী সীরাতিল আইম্মাতিল আত্বহার, পৃষ্ঠা ১১
121 আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৯-৩৪০
122 আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪০
123 আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৪১
124 আস-সিয়াদাতুস শিয়া’তুদ দীন্যিয়াহ, ৩০ পৃষ্ঠা
125 আছ ছাওরাতু মুযাহহির লিতাহাররাকিদ দীনি বিউজুহিত ত্বাওয়াগীত, পৃষ্ঠা ২২৪
126 আল ফিকরিল ইসলামী আলা দ্ব্ওয়িল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা ৮৭, পাদটীকা ৩
127 আত তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকরী এনদাল ইমামিল খামেনেয়ী, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪১
128 আল ফিকরিল ইসলামী আলা দ্ব্ওয়িল কুরআনিল কারিম, পৃষ্ঠা ৮৭, পাদটীকা ২
129 ওয়ানতাস্বারাদ দাম, ১০৯ পৃষ্ঠা
130 হাকিমিয়্যাতুল ইসলামী বাইনান নাযরিয়্যাতি ওয়াত তাতবিক্বী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৯-৩০
131 তালিমুল আহকাম, ২৬৮ পৃষ্ঠা, ২০০১ সালে প্রকাশিত
132 আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ৬৪
133 আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ১০৮
134 আল ইসলামুল মুহাম্মাদী, পৃষ্ঠা ৬৩
135 আছ-ছাওরাতুল হুসাইনিয়্যাহ, খাস্বাইস্ব ওয়াল মুরতাকাযাত, ৩০ পৃষ্ঠা, ২০০১ সালে প্রকাশিত
136 আল তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকর‍্যি এনদাল ইমাম খামেনেয়ী, ১ম খণ্ড, ৮৭ পৃষ্ঠা
137 আল তাজদীদ ওয়াল ইজতিহাদুল ফিকর‍্যি এনদাল ইমাম খামেনেয়ী, ৩য় খণ্ড, ৪১৭ পৃষ্ঠা
138 বই: রুহুত তাওহীদ, ১৮ পৃষ্ঠা, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
139 হাকিমিয়্যাতুল ইসলামী বাইনান নাযরিয়্যাতি ওয়াত তাতবিক্বী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৮
140 বই: লিমাযাল খামেনেয়ী, ৮০ পৃষ্ঠা, স্ক্যান কপি দ্রষ্টব্য
141 মাশারিউত তাজদীদ ওয়াল ইসলাহি ফী জাওযাতিল ইলমিয়্যাহ, ৪৮ পৃষ্ঠা
142 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৬৫২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৩৩
143 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৭৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৪১
144 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৫৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৮১
145 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৫৫
146 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৮৯
147 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৭০০৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৯১
148 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৮৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৩৯৬
149 সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪০১
150 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৬৭৫
151 সুনানে তিরমিযী, হাদিস নং ৩৭০১; ইমাম তিরমিযী বলেছেন: হাসান সহিহ
152 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৪১৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪০৪
153 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ২৯৪২; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪০৬
154 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৭৮৩; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭৫
155 সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৩৯৮৩

Related Articles

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।


Back to top button